জন্মভূমি রিপোর্ট : খুলনার ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটি আসনে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় ভোটার উপস্থিতি নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপর তিনটি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী। এ তিনটি আসনে প্রতিনিয়িত পাল্টাপাল্টি নির্বাচন আচরণ বিধি লংঘনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। যতই দিন ঘনিয়ে আসছে ততই সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরী হচ্ছে। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোটাররা। গতকাল রোববার পর্যন্ত খুলনার ৬ টি সংদীয় আসনের চিত্র ছিল এমনই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনা-১ (বটিয়াঘাটা-দাকোপ), খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) এবং খুলনা-৩ (খালিশপুর-দৌলতপুর-খানজাহান আলী) আসনে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিশালী কোন প্রার্থী নেই। এ তিনটি আসনে নৌকার প্রার্থীরা সহজেই জয়লাভ করবেন, এটা শতভাগ নিশ্চিত। তবে ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করতে নৌকার প্রার্থীরা যথাক্রমে খুলনা-১ আসনে ননী গোপাল মণ্ডল, খুলনা-২ আসনে প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য সেখ সালাউদ্দিন ও খুলনা-৩ আসনে এস এম কামাল হোসেন ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে নগরীর বস্তিগুলোকেও টার্গেট করে এগাচ্ছেন তারা।
এদিকে খুলনার অপর তিনটি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী। ফলে খুলনা-৪, ৫ ও ৬ আসনে কিছুটা হলেও নির্বাচনে গতি পেয়েছে। এ তিনটি আসনে নৌকা প্রতীকের সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক নির্বাচন হবে। তবে নৌকার প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ক্ষমতাসীন দলের হওয়ায় এ তিনটি আসনে নির্বাচন কমিশনের কাছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পড়ছে অহরহ। নির্বাচন আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগে জরিমানা করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ঘটনাগুলো আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। আদালত থেকেও প্রার্থীদের সর্তক করে দেওয়া হচ্ছে। যতই দিন যাচ্ছে ততই এ তিনটি আসনে সংঘাতময় পরিস্থিতি হয়ে উঠছে।
এলাকার সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার পরিবেশ চান। তারা ভোট কেন্দ্রের উপযুক্ত ও শংকামুক্ত পরিবেশ চান। তারা বলছেন, সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তারা ভোট কেন্দ্রে যাবেন না। এ তিনটি আসনের জনা পঞ্চাশেক ভোটাদের সাথে কথা বলে এ তথ্য জানাগেছে।
খুলনা -৪ (রূপসা-দিঘলিয়া-তেরখাদা) আসনে নৌকার প্রতীক নিয়ে বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ আসনে স্বতন্ত্র ‘কেটলি‘ প্রতীকের প্রার্থী এস এম মোর্ত্তুজা রশিদী দারার তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।
খুলনা-৫ (ফুলতলা-ডুমুরিয়া) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য এবং সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ’র ‘নৌকা‘ প্রতীকের সাথে স্বতন্ত্র শেখ আকরাম হোসেনের ‘ঈগল‘ প্রতিকের লড়াই জমে উঠেছে। এই আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বীতা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. রশীদুজ্জামানের ‘নৌকা‘ প্রতীকের সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থী জি এম মাহবুবুল আলমের ‘ঈগল‘ প্রতীকের প্রতিদ্বন্দিতা হবে বলে জানা গেছে।
নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, খুলনার ৬টি সংসদীয় আসনে মোট ৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। জাতীয় পাটি সবকয়টি আসনে প্রার্থী দিলেও মাত্র একটি দিন প্রচারে নেমেছিলেন। বর্তমানে এ দলটি প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা থেকে বিরত রয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ কংগ্রেস, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, জাকের পার্টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), তৃণমূল বিএনপি, ইসলামী ঐক্যজোট ও বিএনএম এর মতো ছোট দলগুলো কয়েকটি আসনে প্রার্থী দিলেও তারা মাঝে মাঝে ৪-৫ জন নিয়ে প্রচারণা করছেন। তবে এসব দলের প্রার্থীরা ভোটারদেও আলোচনায় নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ এবং খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে মেম্বার ও কাউন্সিলর পদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী অংশগ্রহণ করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহ ছিল। প্রার্থীরা ভোটারদের একটি অংশকে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসতে পেরেছিলেন। কিন্তু এখন সে অবস্থা নেই। বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মতো দলগুলো নির্বাচনে না আসায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ কম।
কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বৃদ্ধি সম্পর্কে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা বলেন, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশে ইতিমধ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি। ভোট নিয়ে বিরোধীদের অপপ্রচার, নাগরিকদের স্থান পরিবর্তন, ভোটের দিন গণপরিবহন না থাকা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে সাংগঠনিক ব্যর্থতা এবং দলীয় সমর্থকদের একটি অংশের ভোটের প্রতি অনীহা স্থানীয় নির্বাচনে ভোট কম পড়ার অন্যতম কারণ। তবে, জাতীয় নির্বাচনে সমর্থকরা অতীতের মতো ধারাবাহিকভাবে তাদের ভোট দেবেন। কারণ, জাতীয় নির্বাচনে গাছাড়া ভাবের কোনো সুযোগ নেই। আমাদের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রভিত্তিক গণসংযোগ চালাচ্ছে। এছাড়া ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য পাড়ায়-মহল্লায় প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুজিত অধিকারী বলেন, একজন ভোটার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়া তার নৈতিক দায়িত্ব, নাগরিক দায়িত্ব। এরপরও আমরা বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছি। ভোটারদের কেন্দ্রে নিতে আমাদের দল থেকে মোটিভেশনাল ক্যাম্পেইনগুলো বাড়িয়েছি। ডোর টু ডোর প্রচারণা চালাচ্ছি। ভোটারদের নৈতিক অধিকারের বিষয়ে তাদের সচেতন করা হচ্ছে। আশা করি নির্বাচনে ভোটারদের সন্তোষজনক উপস্থিতি থাকবে।
প্রধান সম্পাদক: লে. কমান্ডার (অব.) রাশেদ ইকবাল, প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত