
জন্মভূমি রিপোর্ট
গত কিছুদিন ধরে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও মাদক কারবারী চক্রের সদস্যরা খুলনা মহানগরীকে নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। গত এক মাসে তিন দিনের ব্যবধানে এই রুটে বহনের সময় পৃথক ঘটনায় এক নারী ও এক পুরুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট এবং পাঁচটি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রসহ বুলেট উদ্ধার করা হয়। উভয় আসামিই সাতক্ষীরা থেকে খুলনা হয়ে রাজধানী ঢাকায় মাদক ও অস্ত্রের চালান নিয়ে যাচ্ছিল।
মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং এলাকার মিরাজ সরদারের ছেলে নাহিদ সরদার (২৫) শনিবার দুপুরে সাতক্ষীরা থেকে বাসযোগে খুলনায় এসে নগরীর হরিনটানা থানাধীন কৈয়া বাজার এলাকায় নামেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানা পুলিশের একটি দল সেখানে তল্লাশি চৌকি বসায়। সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে তাকে আটক করা হয়।
তল্লাশিকালে তার হাতে থাকা ব্যাগ থেকে ১০ হাজার ৩০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যা ৫২টি পলিথিন প্যাকেটে সংরক্ষিত ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, নাহিদ সরদার দীর্ঘদিন ধরে খুলনাকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে মাদক পাচার করে আসছিল। সে মাদক চক্রের সদস্যদের সম্পর্কে পুলিশকে কিছু তথ্য দিয়েছে।
হরিনটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ খায়রুল বাশার তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আসামিকে রোববার আদালতে সোপর্দ করা হবে।
এর আগে গত ৭ মার্চ নগরীর লবণচরা থানা এলাকা থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল, দুটি রিভলভার এবং ৯৬ রাউন্ড গুলিসহ সুরাইয়া পারভিন সুমি (৩৭) নামে এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়। সেও খুলনাকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে এসব বহন করছিল।
ওই দিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে লবণচরা থানাধীন নিজখামার এলাকায় পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দা শাখার একটি দল চেকপোস্ট বসায়। ইমাদ পরিবহনের একটি বাস থামিয়ে তল্লাশি চালানো হলে সুমির হাতে থাকা ব্যাগ থেকে পাঁচটি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। সে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাটকেখালী গ্রামের মৃত আশরাফ উদ্দীনের মেয়ে।
এ বিষয়ে কেএমপি’র উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে এসেছে। সেগুলো সাতক্ষীরা হয়ে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল। তিনি আরও বলেন, অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীরা বেশ কিছুদিন ধরে এই রুটটি ব্যবহার করছে।
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ তুহিনুজ্জামান জানান, তিন দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সুমি অস্ত্র বহনকারী হিসেবে কাজ করছিল। তদন্তের স্বার্থে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি কারবারী চক্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আপাতত প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত