শেখ আব্দুল হামিদ : খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু রোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করতে চলেছে। প্রতিদিনই বিভাগের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ছে এর বিস্তার। গত ছয় দিনে বিভাগে বিভিন্ন জেলার হাসপাতালে নতুন ভর্তি হয়েছে ৫১৬ জন ডেঙ্গু রোগী। মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। আক্রান্তের দিক থেকে খুলনা এবং যশোর জেলা রয়েছে শীর্ষে। খুলনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩২৩ জন আর যশোরে ২৪৪ জন। চলতি বছর জানুয়ারী থেকে এ পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মোট রোগীর সংখ্যা ১৩৫৬ জন। ছাড়পত্র পেয়েছেন ১০০৭ জন আর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৩২০ জন রোগী।
গত ২১ জুলাই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৪১ জন। পরের দিন ২২ জুলাই রোগীর সংখ্যা হয় ৯১ জন আর গত কাল ২৩ জুলাই মোট আক্রান্ত হয় ১০২ জন, ২৪ জুলাই আক্রান্ত হয় ৮৭ জন, ২৫ জুলাই ৯২ জন, ২৬ জুলাই ১০৩ জন। খুলনা বিভাগে মোট ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ২ জনের মৃত্যু হয় যশোর জেলায় এবং অন্য দু’জনের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
খুলনা জেলায় চলতি বছর মোট রোগীর সংখ্যা ৫০ জন, বাগেরহাট জেলায় ৮৪ জন, সাতক্ষীরা জেলায় ৯৯ জন, যশোর ২৪৪, ঝিনাইদহ ৭২, মাগুরায ২১৭ জন, নড়াইল ১৭২, কুষ্টিয়ায় ১১৪ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৬ জন, মেহেরপুর ২৫ জন ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৭৩ জন।
নাগরীক নেতাদের দাবী মশা নিধনের জন্য নগরীতে উল্লেকযোগ্য কোন ব্যবস্থা আজও চোখে পড়েনি। ওলি-গলিতে মশার উপদ্রব আরও বেশী। সিটি কর্পোরেশন থেকে ফগার মেশিনের মাধ্যমে যে ওষুধ দেয়া হয় তাতেও মশা নির্মূলের কোন লক্ষণ নেই। প্রতিদিনই মশার উপদ্রব নগরীতে বাড়ছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, খুলনা বিভাগের সর্বত্রই এখন মশার উপদ্রব। তবে শুধুমাত্র এডিস মশার কামড়েই ডেঙ্গু রোগ হতে পারে। ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য এডিস মশা রোধ করা এবং এ মশা যেন কামড়াতে না পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা। স্বাধারণত স্বচ্ছ ও পরিস্কার পানিতে এরা ডিম পাড়ে। ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত অথবা ড্রেনের পানিতে এরা ডিম পাড়ে না। বিভিন্ন পাত্রে পানি বেধে থাকা, ফুলের টবে জমে থাকা পানিসহ বিভিন্ন জায়গার পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা তাদের বংশ বিস্তার করে থাকে।
খুলনা বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মনজুরুল মুর্শিদ বলেন, ঢাকার মতই খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়তে চলেছে। প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। মানুষ সচেতন না হলে আগামী মাসে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। অতিরিক্ত গরম এবং বৃষ্টির কারণে এডিশ মশার বংস বিস্তার ঘটে থাকে। এখন প্রতিটি মানুষকে সচেতনতার বিকল্প নেই।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত