
চুয়াডাঙ্গা জেলা ডেঙ্গু মুক্ত
বিভাগে ডেঙ্গু রোগী ১১৬১, সুস্থ ৮৭৮, মৃত্যু ৪
শেখ আব্দুল হামিদ : সারাদেশের মত খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ২০২৩ সালের এই পর্যন্ত এ বিভাগের ৯ জেলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সদর হাসাপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ হাজার ১৬১ জন রোগীর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। সুস্থ হয়ে হাসপতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮৭৮ জন। খুলনা বিভাগে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তে খুলনায় ২ ও যশোরে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় ৮৭ জন নতুন করে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে ১০ জেলায় ২৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সদর হাসাপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদিকে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। অধিকাংশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সদর হাসাপাতালে ডেঙ্গুর ওয়ার্ডের থাকায় রোগী ও স্বাজনদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে না। যে কারণে এই রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে কয়েক দিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারছে। তবে অর্থিক সংকটের কারনে নিজেস্ব তহবিল থেকে ডেঙ্গু পরীক্ষার কীট সংগ্রহ করতে মডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সদর হাসাপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তৃপক্ষকে হিমসিম খেতে হচ্ছে। বেশিরভাগ সরকারী হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিজস্ব অর্থায়নে কীট সংগ্রহ করে রোগীদের সেবা দিচ্ছে।
অন্যদিকে দেশের একমাত্র জেলা হিসেবে চুয়াডাঙ্গায় চলতি বছরে এখনো কোন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়নি। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের হাত থেকে সম্পূর্ন মুক্ত রয়েছে এ জেলার মানুষ। সেকারণে এই জেলা এখনো ডেঙ্গুমুক্ত।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক সূত্রে জানা যায়, খুলনা (৯ উপজেলা ও সদর হাসাপতাল) ঃ খুলনা জেলায় এ পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছে ৪৮ জন। সুস্থ হয়ে ছাড়াপত্র নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছে ৪০ জন। বর্তমানে ডেঙ্গ রোগে চিকিৎসা নিচ্ছে ৭ জন । এছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ৪জন।
॥ বাগেরহাট ॥
এ পর্যন্ত বাগেরহাট জেলায় ৭২ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছে। সুস্থ হয়ে ছাড়াপত্র নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছে ৪৯ জন। বর্তমানে ডেঙ্গু রোগে চিকিৎসা নিচ্ছে ২১ জন। গত ২৪ ঘন্টায় এ জেলায় নতুন করে কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়নি।
॥ সাতক্ষীরা ॥
এই জেলায় এ পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছে ৭৭ জন। সুস্থ হয়ে ছাড়াপত্র নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছে ৪৭ জন। বর্তমানে ডেঙ্গ রোগে চিকিৎসা নিচ্ছে ২৪ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ৫ জন।
॥ যশোর ॥
এ পর্যন্ত যশোর জেলায় ২১৪ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছে। সুস্থ হয়ে ছাড়াপত্র নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছে ১৬২ জন। মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। বর্তমানে ডেঙ্গ রোগে চিকিৎসা নিচ্ছে ৫০ জন। গত ২৪ ঘন্টায় এ জেলায় নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ১৯ জন।
॥ ঝিনাইদহ ॥
এই জেলায় এ পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছে ৬২ জন। সুস্থ হয়ে ছাড়াপত্র নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছে ৪৫ জন। বর্তমানে ডেঙ্গ রোগে চিকিৎসা নিচ্ছে ১৭ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ৬ জন।
॥ মাগুরা ॥
চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মাগুরা জেলায় ১৭৮ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছে। সুস্থ হয়ে ছাড়াপত্র নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছে ১৩৫ জন। বর্তমানে ডেঙ্গ রোগে চিকিৎসা নিচ্ছে ৪৩ জন। গত ২৪ ঘন্টায় এ জেলায় নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ১৭ জন।
॥ নড়াইল ॥
এই জেলায় এ পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছে ১৫৮ জন। সুস্থ হয়ে ছাড়াপত্র নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছে ১২৯ জন। বর্তমানে ডেঙ্গ রোগে চিকিৎসা নিচ্ছে ২১ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ১১ জন।
॥ কুষ্টিয়া ॥
চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলায় ১০২ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছে। সুস্থ হয়ে ছাড়াপত্র নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছে ৯০ জন। বর্তমানে ডেঙ্গ রোগে চিকিৎসা নিচ্ছে ৯ জন। গত ২৪ ঘন্টায় এ জেলায় নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ৪ জন।
॥ মেহেরপুর ॥
এই জেলায় এ পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছে ১৩ জন। সুস্থ হয়ে ছাড়াপত্র নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছে ৭ জন। বর্তমানে ডেঙ্গ রোগে চিকিৎসা নিচ্ছে ৫ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় নতুন রোগীর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়নি।
॥ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ॥
চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৩৭ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছে। সুস্থ হয়ে ছাড়াপত্র নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছে ১৭৪ জন। বর্তমানে ডেঙ্গ রোগে চিকিৎসা নিচ্ছে ৬১ জন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে ২ জন রোগীর। গত ২৪ ঘন্টায় এ জেলায় নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ১৭ জন।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ মোঃ মনজুরুল মুরশিদ জানান, খুলনা বিভাগের ১০ জেলার মধ্যে ৯ জেলায় যেমন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে, তেমনি চিকিৎসা সেবা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ীও ফিরছে রোগীরা। যে কারনে হাসপাতালে এই রোগীর সংখ্যা স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সব রোগী হাসাপাতালেও আসছে না। তিনি বলেন, ভর্তিকৃত রোগীদের চিকিৎসা সেবায় কোন ত্রুুটি নেই ডাক্তারদের। চাহিদার তুলনায় হাসপাতাওে অনেক বেশী বেড রয়েছে। রোগীদের সরকারী ঔষধ সরবরহ করা হচ্ছে। তিনি জানান, হঠাৎ করে ডেঙ্গ রোগ বেড়ে যাওয়ায় হাসপতাল কর্তৃপক্ষের নিজেস্ব তহবিল থেকে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার কীটস সংগ্রহ করতে হচ্ছে। যে কারনে আর্থিক সংকটে পড়েছে এই ৯ জেলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সদর হাসাপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলো। ডেঙ্গু রোগের পরীক্ষা করার জন্য কীটস সংগ্রহ করতে এ মুহূর্তে সরকারীভাবে অর্থ বরাদ্দ খুবই জরুরি। ডাঃ মুরশিদ আরো জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগ। সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেনতা বৃদ্ধির জন্য আলোচনা সভা ও সেমিনার করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি জেলায় ও উপজেলায় মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।