এস রফিক, ডুমুরিয়া : আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (ডুমুরিয়া -ফুলতলা) খুলনা -৫ আসনে জমে উঠেছে প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণা। দিনভর পথসভা,উঠান বৈঠকে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থী সহ কর্মী সমর্থকরা। কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। স্ব স্ব প্রার্থী ভোটারদের পক্ষে টানার চেষ্টা করছেন তারা। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা সহ দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি। নির্বাচনী প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে নানা রং ঢংও। ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পাড়া মহল্লায় মাইকে বাজছে নানা ধরনের ভোটের গান। ব্যাপক হারে প্রচারণা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। প্রার্থী ছাড়াও প্রচার প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন তাদের পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনেরা। গণসংযোগ থেকে শুরু করে পোষ্টার ব্যানার সাঁটানো, মাইকিং এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাচ্ছেন তারা। আহ্বান জানাচ্ছেন ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার। তবে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামীলীগ। তুমুল লড়াইয়ে রয়েছেন আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ঈগল প্রতীকের ফুলতলা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব শেখ আকরাম হোসেন। দুজনেই রয়েছে শক্ত অবস্থানে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি এবং যেই বিজয়ী হবে স্বল্প সংখ্যক ভোটের ব্যবধানে এ মন্তব্য ভোটারদের। ভোটাররা চুল চেরা বিশ্লেষণ শুরু করছেন তারা বলছেন একই জিনিস কখনো ভাসে, কখনো দৌঁড়ায়, আবার কখনো উঁড়ে। এ নিয়ে নানা হিসাব নিকাশে আছেন অধিকাংশ ভোটাররা।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, বৃহত্তর ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৬৯ হাজার ৪৮১ জন, পাশাপাশি ফুলতলায় রয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৭৮৮ জন। সব মিলে এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ২৬৯ জন। এ দুই উপজেলা খুলনা বিভাগীয় শহর ঘেঁষা হওয়ায় সংসদীয় এ আসনটির গুরত্ব অনেক বেশি। তৎকালীন আওয়ামী লীগের শাসনামলে প্রয়াত স্বাস্থ্যমন্ত্রী সালাউদ্দিন ইউসুফ মৃত্যুর পর ২০০০ সালের ২০ ডিসেম্বর উপ-নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ প্রথম বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে বিএনপি -জামায়াত জোট প্রার্থী অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের কাছেই তিনি হেরে যান। এরপর ২০০৮ সালে নবম, ২০১৪ সালে দশম ও ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। চার চার বার নির্বাচিত এমপি হওয়ায় এবং দল ক্ষমতায় থাকায় এলাকার রাস্তা ঘাট, স্কুল কলেজ মাদ্রাসা, মসজিদ মন্দির, কালভার্ট ব্রীজের অভূতপূর্ব উন্নয়নের দাবিদার তিনি। এ অঞ্চলের লবণ পানি বন্ধে, জলাবদ্ধতা নিরসন ও আধুনিক ডুমুরিয়া -ফুলতলা গড়ায় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন তিনি। তাছাড়া সব কয়টি ইউনিয়নে সাংগঠনিক মজবুত বলয় রয়েছে তার। আঞ্চলিকতাও অনেকাংশে কাজ করবে। এ কারণে তিনি আবারও এ আসনে বিজয়ে শতভাগ আশাবাদী।
অপরদিকে ফুলতলা উপজেলা সদ্য পদত্যাগ কারী উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ্ব শেখ আকরাম হোসেন লড়ছেন স্বত›র প্রার্থী হয়ে ঈগল প্রতীক নিয়ে। দফায় দফায় আইনী লড়াইয়ে উচ্চ আদালত থেকে প্রার্থীতা বহাল থাকায় অল্প সময়ে মাঠে নেমেছেন তিনি। তবে আওয়ামীলীগের বড় একটি অংশ ঈগল প্রতীকের পক্ষে কাজ করছে খুব জোরে সোরে। ইতোমধ্যে ভোটারদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। মূলত আওয়ামীলীগের প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগ হওয়ায় আওয়ামী ঘরোনার নেতা কর্মীরা এখন বিভক্তি হয়ে পড়েছে। অনেকেই আবার দ্বিধা দ্বন্দ্বে ভুগছেন। অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে এ আসনে বরাবরই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একক ভোট পেয়ে থাকেন নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি। কিন্তু এবারের নির্বাচনে সেই ভোট ব্যাংকে কিছুটা ফাঁটল ধরেছে। অনেক হিন্দু নেতারা প্রকাশ্যে স্বত›র প্রার্থী আকরাম হোসেনের সাথে নির্বাচন করছেন। এ কারণে তার পাল্লা ভারী বলে মন্তব্য করেছেন একাধিক ভোটাররা। তবে উভয় প্রার্থী রয়েছেন চ্যালেঞ্জের মুখে। শেষ হাসি কে হাঁসবে এ নিয়ে চলছে জল্পনা কল্পনা।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত