
জন্মভূমি রিপোর্ট: খুলনা-৫ আসনটি এখন মন্ত্রীর আসন! এমনটি ধারনা ভোটারদের মাঝে। কেননা বিএনপি ও জামায়াত জোটের দুই হেভিওয়েট প্রার্থী এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একজন হচ্ছেন, জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ট, খুলনা-২ আসনের সাবেক এমপি আলী আসগার লবি। অপরজন হলেন, বাংলাদশে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে আলী আসগার লবি বিজয়ী হলে এবং বিএনপি সরকার গঠন করলে তার মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কেননা প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের শীর্ষ নেতা এবং জামায়াতের সর্বোচ্চ দ্বিতীয় ব্যক্তি হলেন, অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি সংগঠনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল এবং সাবেক এমপি। তাকে হারানো মানেই এক হেভিওয়েট প্রার্থীর বিরুদ্ধে জয়ের কারণে পুরস্কার স্বরূপ মন্ত্রীত্ব লাভ। এছাড়া আলী আসগার লবি একমাত্র প্রার্থী যিনি খুলনার ৬টি আসনের মধ্যে বিএনপি’র সবচেয়ে বয়স্ক নেতা। আবার দলের হাইকমান্ডের পছন্দের ব্যক্তি। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি নিজের পূর্বের খুলনা-২ আসনের নির্বাচনী এলাকা ছেড়ে খুলনা-৫ আসনে নতুন করে প্রার্থী হয়ে চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। এটিও একটি রেকর্ড হতে পারে তার বিজয়ের মাধ্যমে। আলী আসগার লবি ২০০১ সালে খুলনা-২ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে বিসিবি’র সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে তিনি নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। তিনি এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সফলভাবে। এছাড়া বাংলাদেশের ক্রিকেটর আর্থিকভাবে ভীত গড়ে তুলেছিলেন। যা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আজও তার সুফল ভোগ করছে।
অপর দিকে আলী আসগার লবির প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার জামায়াতের দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যক্তি। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে তিনিই মন্ত্রী হবেন, এটি দিবালোকের ন্যায়ে সত্য। বলতে গেলে মন্ত্রী পরিষদ গঠনে তার ভূমিকা থাকবে নীতি নির্ধারনী পর্যায়ে। অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি তৃণমূল থেকেই জামায়াতের শীর্ষ দ্বিতীয় ব্যক্তি হয়েছেন। অতীতে এই পদটি ছিল সাবেক আমীর মতিউর রহমান নিজামী ও সাবেক সেক্রেটারী জেনারেল আলী আহসান মুজাহিদ। সাধারণত জামায়াতের সেক্রেটারী জেনারেল ও আমীর পদে ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি- সেক্রেটারী বা তার আগে ইসলামী ছাত্র সংঘের সাবেক সভাপতি-সেক্রেটারী থাকা নেতারাই হতেন। যা দলের মধ্যে অঘোষিত প্রথা। এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা থাকলেও শীর্ষ নেতা ছিলেন না। ছাত্র জীবন শেষে কিছু দিন সাংবাদিকতা করেছেন। পরে তিনি জামায়াতের শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা হন। ’৯০-এর দশকে তিনি খুলনা মহাগর জামায়াতের শীর্ষ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পান। অল্প কিছু দিনের মধ্যেই তিনি এমপি নির্বাচিত হন এবং দলের কেন্দ্রীয় নীতি নির্ধারনী পর্যায়ে স্থান করে নেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলনা মতিউর রহমান ও সাবেক সেক্রেটারী জেনারেল আলী আহসান মুজাহিদকে ফাঁসী দেওয়া হয়। তখন রাজনৈতিকভাবে কোনঠাসা হয়ে পড়ে দলটি। এ সময় এক কঠিন মুহূর্তে দলের সেক্রেটারী জেনারেলের মতো গুরু দায়িত্ব পান অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পেছনে তার অবদান ছিল। সরকার পতনের পর অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে জাতীয় নেতা হিসেবে আবির্ভাব হয়েছেন।
খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) এলকার দুই জোটের সমর্থক ভোটার থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ধারণা এই আসন থেকে যিনি নির্বাচিত হবেন, এবং তার দল সরকার গঠন করলে তিনিই মন্ত্রী হবেন।
এছাড়া ডুমুরিয়া-ফুলতলা এলাকার একটি মিথ রয়েছে। তা হলো, খুলনার ৬টি আসনের মধ্যে খুলনা-৫ আসনটি মন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত। এই আসনের অধিকাংশ বিজয়ী প্রার্থীরাই মন্ত্রী হয়েছেন। ভাগ্যগুণে খুলনা-৫ আসনটি মন্ত্রীর আসন। খুলনা-২ ও ৩ আসনটি ভিআইপি বলা হলেও বাংলাদেশ স্বাধীনের পর খুলনা-৫ আসন থেকেই মন্ত্রী হয়েছে বেশির ভাগ সময়ে। বিগত জাতীয় পার্টি সরকারের সময়ে কর্নেল আব্দুল গফ্ফার, আওয়ামী লীগ সরকার আমলে মরহুম সালাহউদ্দিন আহমেদ মন্ত্রী হয়েছেন। তার মৃত্যুর পর এই আসনটি ধরে রাখেন নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। তিনি একবার প্রতিমন্ত্রী ও দুইবার পূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন। এমনকি ২০২৪-এর ৫ আগস্টের পতনের আগ মুহূর্ত নারায়ণ চন্দ্র চন্দ ভূমি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যে কারণেই খুলনা-৫ আসনের বিজয়ী প্রার্থীর সামনে মন্ত্রীত্বের হাতছানি অপেক্ষা করছে!
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত