
শাহরিয়ার কবির, পাইকগাছা : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনা–৬ (পাইকগাছা–কয়রা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস এম মনিরুল হাসান (বাপ্পী) নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা শপথপূর্বক হলফনামায় নিজের আর্থিক সক্ষমতা, পেশাগত পরিচয় ও সম্পদের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তুলে ধরেছেন। হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের ঠিকাদারি, মৎস্য খামার পরিচালনা ও কৃষিভিত্তিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি একটি স্থিতিশীল আর্থিক কাঠামো গড়ে তুলেছেন।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তথ্যে এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী নিজের পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ঠিকাদারি ব্যবসা, মৎস্য খামার পরিচালনা এবং কৃষিকাজ। তার বার্ষিক আয়ের প্রধান উৎস কৃষি খাত, যেখান থেকে তিনি আয় দেখিয়েছেন ৫ লাখ ৪ হাজার টাকা। এছাড়া বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা থেকে ভাড়া বাবদ তার আয় রয়েছে ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮৪৩ টাকা। আত্মীয় পরিসম্পদ থেকে প্রাপ্ত আয় তুলনামূলকভাবে কম হলেও সেটিও হলফনামায় স্বচ্ছভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে তার স্বচ্ছতা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। হলফনামা অনুযায়ী তার হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ৬১ লাখ ৫৯ হাজার ৬১ টাকা এবং বিভিন্ন ব্যাংকে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ২০ লাখ ৫২ হাজার ১৩৮ টাকা। তার স্ত্রীর নামে নগদ ও ব্যাংক আমানতের পরিমাণ সীমিত, যা পারিবারিক আর্থিক কাঠামোর বাস্তবচিত্রই তুলে ধরে।
স্থাবর সম্পদের দিক থেকেও এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পীর একটি সুসংহত ভিত্তি রয়েছে। তার মালিকানায় ৩৬ দশমিক ২৭১৩ একর কৃষিজমি রয়েছে, যা কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পৃক্ততার প্রমাণ বহন করে। ঢাকার কুড়িল এলাকায় স্ত্রীর মাতার অছিয়াতসূত্রে প্রাপ্ত একটি বাড়ির আনুমানিক মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পাশাপাশি খুলনার রূপসা উপজেলার বাধাল এলাকায় পৈতৃক বসতবাড়ির অংশের মূল্য ধরা হয়েছে ১২ লাখ টাকা। এছাড়া মাছের খামারের লিজ মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ৬ লাখ টাকা।
ব্যবসা সম্প্রসারণ ও গৃহ নির্মাণে নেওয়া ঋণের বিষয়টিও হলফনামায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, যা তার চলমান বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতাকেই নির্দেশ করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদনমুখী খাতে এই ধরনের বিনিয়োগ একটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক গতিশীলতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
সব মিলিয়ে হলফনামা অনুযায়ী এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পীর মোট আনুমানিক সম্পদের মূল্য ১ কোটি ৩৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দাখিল করা এই হলফনামা তার আর্থিক অবস্থান ও পেশাগত স্বচ্ছতার একটি স্পষ্ট প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খুলনা–৬ আসনে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা যখন ধীরে ধীরে গতি পাচ্ছে, তখন একজন প্রার্থীর এই স্বচ্ছ ও পরিমিত আর্থিক চিত্র ভোটারদের আস্থার জায়গাকে আরও দৃঢ় করবে—এমন প্রত্যাশাই এখন স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে।

