
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পার হতেই প্রকৃতিতে গরমের তীব্রতা অনুভূত হতে শুরু করেছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ বছর রেকর্ড গরম পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘ কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর অনেকেই হুট করে এসি চালিয়ে ফেলেন, যা যান্ত্রিক ত্রুটি এমনকি অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই গরমে স্বস্তি পেতে এসি চালু করার আগে কিছু জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
ফিল্টার পরিষ্কার করা সবচেয়ে জরুরি
এসি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে এর ফিল্টারের ওপর ধুলোবালির একটি আস্তরণ জমে যায়। ধুলোমাখা ফিল্টার নিয়ে এসি চালালে বাতাসের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়, যা সরাসরি এসির কম্প্রেসারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে ঘর ঠিকমতো ঠান্ডা হয় না এবং বিদ্যুতের বিলও আকাশছোঁয়া আসতে পারে। তাই এসি চালানোর আগে ইনডোর ইউনিটের ফিল্টারটি বের করে পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে শুকিয়ে পুনরায় লাগানো উচিত।
আউটডোর ইউনিটের যত্ন
স্প্লিট বা উইন্ডো—যেকোনো এসির আউটডোর ইউনিট যেহেতু বাইরে থাকে, তাই সেখানে ধুলোবালি ও কাদা জমার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। এসি পুরোদমে ব্যবহারের আগে আউটডোর ইউনিটের ফ্যান এবং কয়েল হালকা জলের ঝাপটা দিয়ে পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো। এতে এসির কুলিং ক্ষমতা বাড়ে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, জল যেন সরাসরি কোনো বৈদ্যুতিক তার বা সেন্সরের ওপর না পড়ে।
কানেকশন ও তার পরীক্ষা
কয়েক মাস অব্যবহৃত থাকায় এসির বৈদ্যুতিক সংযোগস্থলে ধুলো বা মরিচা পড়তে পারে, এমনকি ইঁদুর তার কেটে রাখার ঘটনাও বিরল নয়। তাই এসি চালানোর আগে প্লাগ, সকেট এবং সংযোগকারী তারগুলো একবার দেখে নেওয়া নিরাপদ। কোনো লুজ কানেকশন বা পোড়া গন্ধ পাওয়া গেলে বিশেষজ্ঞ টেকনিশিয়ানের সাহায্য নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও সার্ভিসিং
আপনার এসি যদি অনেক পুরনো হয় বা গত বছর আশানুরূপ ঠান্ডা না করে থাকে, তবে নিজে না হাত দিয়ে একজন দক্ষ সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার ডেকে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। এসির গ্যাস লেভেল ঠিক আছে কি না এবং ড্রেন পাইপে কোনো ব্লকেজ আছে কি না, তা সার্ভিসিংয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়। মনে রাখবেন, সঠিক সময়ে সার্ভিসিং করালে এসি যেমন ভালো থাকে, তেমনি আপনার পকেটের খরচও সাশ্রয় হয়।