
ডেস্ক রিপোর্ট : মেহেরপুরের গাংনীতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুস্থ অসহায়দের জন্য বরাদ্দ ভিজিএফ চাল জামায়াতের এমপি নাজমুল হুদার নাম ভাঙ্গিয়ে ২৫ পার্সেন্ট চাল চাওয়াকে কেন্দ্র করে হট্টগোল ও হামলার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুর ১ টায় গাংনী উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে চোরাচালান,আইনশৃংখলা,বিজয় দিবস পালনের প্রস্তুুতি সভা চলাকালে প্যানেল চেয়ারম্যানদের সমর্থকরা কাজিপুরের ইউপি চেয়ারম্যান আলম হুসাইনের উপর হামলার চেষ্টা করলে সেনা ও পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। প্যানেল চেয়ারম্যান সমর্থকদের দাবি, এমপি নাজমুল হুদার নাম ভাঙ্গিয়ে কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা আলম হুসাইন উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কাছে ভিজিএফের ২৫ পার্সেন্ট চাল দাবি করেন। চেয়ারম্যানরা ভিজিএফের চালের ভাগ দিতে অফরগতা প্রকাশ করায় গত কয়েকদনি যাবৎ প্যানেল চেয়ারম্যান সমর্থক বিএনপি কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ক্ষোভ থেকে প্রস্তুতি সভায় প্রবেশ করে হট্টোগোলের ঘটনা ঘটে এসময় কাজিপুরের ইউপি চেয়ারম্যান আলম হুসাইনকে মারধর করার চেষ্টা করে।
বিএনপি পর্ন্থী প্যানেল চেয়ারম্যানদের দাবি বিধি অনুযায়ী ইউনিয়ন এবং পৌরসভা ভিজিএফ কমিটি কর্তৃক প্রকাশ্য সভায় বর্ণিত তালিকা প্রণীত হবে। কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে চাল চাওয়া নীতিমালা পরিপন্থি। দুস্থ অসহায়দের চাল দাবি করা নিয়ে এলাকায় বইছে নানা আলোচনা সমালোচনা।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন,গত কয়েকদিন আগে ভিজিএফের চালের কার্ড ভাগ করা নিয়ে ধানখোলা ইউনিয়নে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় ঘটেছে। এসময় কয়েকজন আহত হয়েছে। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। হট্টোগোল ও হামলার চেষ্টার পর গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন কালু বলেন,আজকের ঘটনাটি দু:খ জনক। তবে ইতোপূর্বে তিনি চেয়ারম্যান থাকাকালে হামলার শিকার হয়েছিলেন। গাংনী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন,তিনি চেয়ারম্যান থাকাকালে এই সভাক্ষেই হামলার শিকার হয়েছেন। তবে আজকের ঘটনা কাম্য নয়। বিষয়টি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখা উচিত।
এছাড়া গাংনী উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আব্দুল আওয়াল ও পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলাও এ ঘটনায় দু;খ প্রকাশ করেন। গাংনী উপজেলা জামায়াতের আমির রবিউল ইসলাম বলেন,হামলা বা হট্টোগলের ঘটনা অত্যান্ত ন্যাক্কার ও দু:খ জনক। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তারা উপজেলার কোন সভায় আসবেন না। গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার দাশ বলেন,সাময়িক উত্তেজনা হয়েছিলো। আইনশৃংক্ষলা বাহিনীর সদস্য ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিত শান্ত হয়। এদিকে ধানখোলা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মন্টু বলেন,জামায়াত নেতারা ভিজিএফ চালের ৩৫ ভাগ দাবি করে এ নিয়ে হট্টগোল হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
জানা গেছে,চলতি বছর গাংনী উপজেলায় চলতি বছর গাংনী উপজেলায় ৪৬৮.৪৫ টন বা ৪৬৮৪৫ টি কার্ড ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এরমধ্যে কাথুলীতে ৩৫৭০, তেঁতুলবাড়িয়ায় ৪৯২৭জন,কাজিপুরে ৬৩৫৬জন, বামন্দীতে ৪২৭৫, মটমুড়ায় ৭১২০, ষোলটাকায় ৩৯১৬, সাহারবাটিতে ৩৬৯৩,ধানখোলায় ৬৫৯৯, রায়পুরে ৩৪০৯ ও গাংনী পৌরসভা ৩০৮৫ জন কার্ড বরাদ্দ রয়েছে। সরকারী বিধি অনুযায়ী যে সব পরিবারের মালিকানায় কোন জমি নেই বা ভিটাবাড়ী ছাড়া কোন জমি নেই, দিনমজুরের আয়ের উপর নির্ভরশীল, মহিলা শ্রমিকের আয় বা ভিক্ষাবৃত্তির উপর নির্ভরশীল, উপার্জনক্ষম পূর্ণ বয়স্ক কোন পুরুষ সদস্য নেই, স্কুলগামী শিশুকে উপার্জনের জন্য কাজ করতে হয়,উপার্জনশীল কোন সম্পদ নেই, স্বামী পরিত্যক্তা, বিচ্ছিন্ন বা তালাকপ্রাপ্তা মহিলা, অসচ্ছল ও অক্ষম প্রতিবন্ধি শুধুমাত্র তারাই ভিজিএফের চাল পাবেন। সাহারবাটি ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আসমা তারা অভিযোগ করে বলেন,তিনি ৩৬৯৩ টি কার্ড বরাদ্দ পেয়েছেন। এই কার্ডের মধ্যে থেকে গাংনী উপজেলায় জামায়াতের এমপি নাজমুল হুদার নামে ২৫ পার্সেন্ট চাল চেয়েছে কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা আলম হুসাইন। ষোলটাকা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আফরোজা খাতুন বলেন,দুস্থ অসহায়দের জন্য সরকার চাল দিয়েছে সেই চালের ২৫ পার্সেন্ট ভাগ চাইছে আলম চেয়ারম্যান। বামন্দী ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান শাহ আলম বলেন,২রা মার্চ ভিজিএফের ২৫ পার্সেন্ট চাল ভাগ নেওয়ার জন্য জামায়াতের এমপি নাজমুল হুদা তার কার্যালয়ে উপজেলার সকল চেয়ারম্যানদের ডেকে বৈঠক করেছেন। চেয়ারম্যানরা নীতিমালা অনুযায়ী চাল সুষ্ঠ ভাবে দুস্থ অসহায়দের মাঝে বিতরন করতে চান। এবিষয়ে জানতে কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা আলম হুসাইনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল দেয়া হলে বন্ধ পাওয়া যায়। গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, কাউকে ভাগ দেওয়ার সুযোগ নেই বিধি অনুযায়ী তালিকা তৈরি করে দুঃস্থ,অতিদরিদ্র ব্যক্তি,পরিবারকে এ সহায়তা প্রদান করতে হবে এবং চাল বিতরন শেষে ভুক্তভুগীদের তালিকা (মাষ্টাররোল) জমা দিতে হবে। তবে হামলার চেষ্টা ও হট্টোগোল কাম্য ছিলনা। মেহেরপুর ২ গাংনী আসনের জামায়াত নেতা সংসদ সদস্য মো: নাজমুল হুদা বলেন,কাউকে ভাগ দিতে হবেনা। প্রকৃত দুস্থরা পেলেই হবে। তবে মিটিংয়ে হামলার চেষ্টা কিংবা হট্টোগোল করা ঠিক হয়নি। উল্লেখ্য : চাল চাওয়ার বিষয়টি সূরহা করতে সম্প্রতি গাংনী উপজেলা জামায়াত ইসলামীর কার্যালয়ে ডেকে চেয়ারম্যানদের সাথে বৈঠক করে জামায়াতের এমপি নাজমুল হুদা
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত