মোঃ এজাজ আলী : শিশু গাছে (রোড শিরিশ) সংক্রমিত ছত্রাক এখন উপার্জনের মাধ্যম। খুলনার পাইকগাছাসহ আশেপাশের এলাকায় নারী-পুরুষ-শিশু-কিশোররা প্রতিদিন কাক ডাকা ভোরে উঠেই বেরিয়ে পড়ছে শিশু গাছের কথিত ভাইরাস পোকার সন্ধানে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতি কেজি পোকা বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। এরপর পিকআপ ভরে চলে যাচ্ছে এর পাইকারী মোকামে। তবে কারা কিনছে আর কেনইবা কিনছে আর তারা এই বিকৃত আকৃতির পোকা কিনে করছেটা বা কি! এর চাহিদার বিপরীতে রীতিমতো চাপা পড়ে যাচ্ছে এরকম সব নানান প্রশ্ন। শিশু গাছের ভাইরাস পোকা বিক্রি হচ্ছে। চরম চাহিদার বিপরীতে আবাল, বৃদ্ধ, বণিতা সকলের চাই এই পোকা। আর তাই দাঁড়িয়ে থাকা জীবিত গাছের সংক্রমিত ডাল বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। এরপর ব্যবসার সাথে জড়িত সংশ্লিষ্টরা শ্রমিক দিয়ে যত্ন সহকারে গাছ থেকে আহরন করছে পোকা ভর্তি ডাল। এরপর বাসা-বাড়ি, আড়ৎ কিংবা নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে অন্য শ্রমিকেরা ডাল থেকে ছাড়িয়ে নিচ্ছে পোকা ও তার উচ্ছিষ্ট। যা মোকামে পাঠানোর জন্য উপযোগী করেই বস্তাবন্দী করা হচ্ছে। ভোর থেকে জনপদের বেকার যুবকদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি, পেশা ও বয়সী নারী পুরুষরা নাওয়া খাওয়া বাদ দিয়ে বেরিয়ে পড়ছে পোকার সন্ধানে। ইতোমধ্যে এই কারবারে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হলেও ঠিক কতোদিন চলবে এই ব্যবসা তা জানা নেই কারোর। ব্যবসার সাথে জড়িতদের অনেকেই জানান, অঞ্চল থেকে কপিলমুনির নাছিরপুর, রেজাকপুর, কাজিমুছাসহ কয়েকটি স্পট থেকে এজেন্ট হিসাবে পোকা কিনে তাদের তত্ত্বাবধানে নির্দিষ্ট গন্ত্যেবে চালান পাঠাচ্ছে। প্রথমে পোকার দাম কেজি প্রতি ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হলেও ক্রমশও আশাতীত যোগান পাওয়ায় দাম কমেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নাওয়া-খাওয়া বাদ দিয়েই বেরিয়ে পড়ছে পোকার সন্ধানে। আর তারা সংক্রমিত রোড শিরিশ গাছের ডাল ক্রয় করছেন। যে গাছের ডালে যত বেশি ভাইরাস পোকার সংক্রমণ হয়েছে, সে গাছের ডাল ততোই বেশি দামে কিনছেন তারা। অনেক ব্যবসায়ীরা আবার দিনভর উপজেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত ঘুরে ভাইরাস সংক্রমিত ডাল কিনছেন। পরদিন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় জনপ্রতি শ্রমিক নিয়ে ওইসব গাছের ডাল কেটে ভ্যান যোগে নিয়ে যাচ্ছেন গন্ত্যেবে। তবে তারা এই পোকা কিনে যে মোকাম বা ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করছেন তারাই বা এগুলো দিয়ে কি করছেন তা তাদের কারোরই জানা নেই। এ ব্যাপারে উপজেলার কপিলমুনি এলাকার আলমগীর ও মালেক নামে ব্যবসার সাথে জড়িত দুই ব্যাক্তি জানান তাদের কারোরই এটা মূল পেশা নয়। গত প্রায় তিনমাস বাবদ এই পেশায় জড়িয়েছেন তারা। মূলত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ভাইরাস সংক্রমিত রোড শিরিশ গাছের ডাল কিনেন তারা। ২০০-৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০০-২৫০০ টাকা দরেও ভাইরাস পোকার সংক্রমিত ডাল কিনছেন তারা। এরপর ওই ডাল ভেঙ্গে বাড়িতে নিয়ে আশপাশের মানুষদের দিয়ে ডালের গায়ে লেগে থাকা আঠার মতো বস্তুু কেজি প্রতি ৪০-৫০ টাকা ছাড়িয়ে নিয়ে সেগুলো বস্তাভর্তি করে প্রথমে ২৫০-৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন তারা। তবে বর্তমানে ক্রমশ আশাতীত যোগান পাওয়ায় এর দাম বহুলাংশে কমেছে। এর ফলে তাদের প্রায় সাড়ে ১১ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে বলেও জানান তারা। তবে লোকমুখে এগুলো দিয়ে এক ধরনের আঠা ও আসবাবপত্রের রঙ তৈরি হচ্ছে বলেও লোকমুখে শুনেছেন বলে দাবি করেন তারা।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত