
ডেস্ক রিপোর্ট : গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ ঘিরে হামলা, সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনার পর জারি করা কারফিউ ১৪ ঘণ্টার জন্য শিথিল করা হয়েছে। শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল থাকবে।
কারফিউ শিথিল হলেও শহরটিতে জনমনে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। জরুরি প্রয়োজনেও ঘর থেকে বের হচ্ছেন না অনেকে। শহরের বেশিরভাগ দোকান বন্ধ রয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোতায়েন রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার এখানকার মার্কেট-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাপ্তাহিক ছুটির দিন। এ কারণে স্বাভাবিক সময়েও এদিন শহরে লোকজনের উপস্থিতি কম থাকে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বুধবারের (১৬ জুলাই) হামলা-সংঘর্ষের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কারফিউ। রয়েছে গ্রেপ্তার আতঙ্ক।
সদরের হরিদাসপুর ইউনিয়নের ইজিবাইক চালক আরিফুল ইসলাম বলেন, রাস্তায় নামছি, কিন্তু যাত্রী নেই। এমনিতেই শনিবার লোক কম থাকে, তার ওপর একটা আতঙ্ক আছে মানুষের মনে।
তিনি জানান, সাধারণত দিনে ৭০০-৮০০ টাকা উপার্জন করেন তিনি। তবে গত তিন দিনে ২০০-৩০০ টাকার বেশি পাননি। অথচ ইজিবাইকের জমা বাবদই দিতে হয় ৪০০ টাকা।
শহরের ডিসি রোডের সবুজ-সজীব বেডিং স্টোর দুদিন পর আজ খুলেছে। দোকানের মালিক বাবুল হোসেন বলেন, আজ মার্কেট বন্ধ। কিন্তু কারফিউ না থাকায় আজ দোকান খুলেছি। কিন্তু বেচাকেনা নেই।
তিনি জানান, দিনে ৭-৮ হাজার টাকার বিক্রি হয়। তবে বুধবার সংঘর্ষের কারণে দোকান বন্ধ করতে হয়। এ নিয়ে তিনদিন দোকান বন্ধ থাকায় প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া তার দোকানে ৫-৬টি গুলি লেগেছে। এতে দোকানের সাটার ও কাপড়ে গুলি লেগে আরও ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ব্যবসায়ী বাবুল হোসেন বলেন, আমরা রাজনীতি করি না, পেট নীতি করি। দোকান খুললে পেট চলে। তাই যত তাড়াতাড়ি সব স্বাভাবিক হয়ে আসে, আমাদের জন্য ততই ভালো।
বুধবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-সংঘর্ষের পর রাত ৮টা থেকে গোপালগঞ্জে চলছে কারফিউ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ওই হামলা চালায়। এতে সেদিন গুলিবিদ্ধ হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে রমজান মুন্সি নামে আরেকজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। চলমান কারফিউ আজ সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শিথিল করা হয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কারফিউ জারি রাখা বা না রাখার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। এদিকে কারফিউ শিথিল থাকলেও শহরে টহল দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
প্রধান সম্পাদক: লে. কমান্ডার (অব.) রাশেদ ইকবাল, প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত