
জন্মভূমি রিপোর্ট : বৃহস্পতিবার দুপুর তিনটা পেরিয়েছে। নগরীর খানজাহান আলী থানাধীন আফিল গেট এলাকার একটি গ্যারেজে সোহেল শেখ (৪৫) নামে এক যুবক মোটর সাইকেল মেরামত করাচ্ছিলেন। হঠাৎ নীল রঙের একটি মোটর সাইকেল যোগে হেলমেট পরিহিত দুই আততায়ী এসেই তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি শুরু করে। আকষ্মিক আতঙ্কজনক পরিস্থিতিতে আশ-পাশের লোকজন ছোটাছুটি শুরু করেন। সোহেলের মাথায় ও বুকে বুলেট বিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থলের পাশের একটি স্থাপনার জানালার কাচেও বুলেটের ছিদ্র রয়েছে। রক্তাক্ত জখম অবস্থায় সোহেল বেশ কিছু সময় ঘটনাস্থলেই পড়ে ছিলেন। ঘাতকেরা তার মৃত্যু নিশ্চিত করে মোটর সাইকেল যোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে, সিসি ফুটেজে যেটির নাম্বার প্লেট অস্পষ্ট। খবর পেয়ে পুলিশ সোহেলের মরদেহ উদ্ধার করে। ময়না তদন্ত শেষে শুক্রবার দুপুরে নিহতের স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।
নিহত সোহেলের ভাই জুয়েল শেখ অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এজাহারে তিনি হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে কিছু উল্লেখ করেননি। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে খুনের সাথে জড়িত সন্দেহে পুলিশ কাউকে আটক কিংবা গ্রেফতার করতে পারেনি। পূর্ব শত্রুতার জের ধরেসহ অন্যান্য বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের কুল-কিনারা খুঁজছিলেন।
পুলিশ জানায়, নিহত সোহেল একসময় পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি নামে একটি চরমপন্থী দলের ক্যাডার ছিলেন। তিনি দুইটি হত্যাসহ মোট তিনটি মামলায় জামিনে ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তার বিরুদ্ধে আলোচিত কোন অপরাধের অভিযোগ মেলেনি। তিনি এলাকায় ইন্টারনেট সরবরাহের ব্যবসা করতেন।
খানজাহান আলী থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম দৈনিক জন্মভূমিকে বলেন, মৃতদেহের মাথায় দুইটি ও বুকে একটি বুলেটের ক্ষত ছিল। ঘটনাস্থল হতে পিস্তলের চারটি গুলির খোসা ও দুই রাউণ্ড তাজা গুলি আলামত হিসেবে জব্দ হয়েছে। হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য উদঘাটনের জন্য ইতোমধ্যে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, কিন্ত তাদের কেউ শ্যুটারদের সম্পর্কে গ্রহণযোগ্য তথ্য দিতে পারেনি। আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেফতার এবং তাদের ব্যাবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত