
সকালবেলার প্রথম কাপে চুমুক না দিলে দিনটাই যেন শুরু হয় না। বিকালে আড্ডা মানেই ধোঁয়া ওঠা চা। অফিসের ক্লান্তি, বৃষ্টির দিন, পড়ার চাপ কিংবা মন খারাপ—সব কিছুর একটাই সহজ সমাধান, এক কাপ চা।
আমাদের জীবনযাপনের সঙ্গে চা এতটাই জড়িয়ে গেছে যে অনেকে হাসতে হাসতে বলেন, ‘চা না পেলে মাথা কাজ করে না!’
কিন্তু এই প্রিয় পানীয়েরও আছে কিছু নিয়ম-কানুন। উপকার পেতে হলে জানতে হবে সীমা, সময় আর পদ্ধতি।
চায়ের ভালো দিক: শুধু অভ্যাস নয়, উপকারও আছে
চায়ের প্রধান শক্তি তার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান। বিশেষ করে গ্রিন টি বা লিকার চা শরীরের কোষকে ক্ষতিকর উপাদান থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে।
হালকা গরম চা মন সতেজ করে, ক্লান্তি কমায়, মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। চায়ের ক্যাফেইন কফির তুলনায় কম হলেও তা মস্তিষ্ককে সচল রাখে।
আবার অনেকের ক্ষেত্রে হালকা চা হজমে সহায়ক। সর্দি-কাশির সময় আদা-লেবু চা সাময়িক আরাম দেয়।
অর্থাৎ চা শুধু স্বাদ নয়, কিছু স্বাস্থ্যগুণও বহন করে।
অতিরিক্ত চা: কোথায় সমস্যা
সমস্যা শুরু হয় যখন ‘এক কাপ’ গড়ে দাঁড়ায় পাঁচ-ছয় কাপে।
অতিরিক্ত ক্যাফেইন ঘুমের সমস্যা তৈরি করতে পারে। অনেকেই রাতে ঘুমাতে পারেন না, অথচ দিনের বেলায় একের পর এক চা পান করেন।
খালি পেটে বেশি চা খেলে অম্বল বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়তে পারে। অতিরিক্ত দুধ-চিনি দেওয়া চা ওজন বৃদ্ধির কারণও হতে পারে।
আবার চায়ে থাকা ট্যানিন শরীরে আয়রন শোষণে বাধা দিতে পারে—বিশেষ করে যারা অ্যানিমিয়ায় ভোগেন, তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
কখন, কীভাবে, কতটা
চা খাওয়ার কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে উপকার পাওয়া যায়, ক্ষতি কমে।
খালি পেটে খুব গাঢ় চা না খাওয়াই ভালো। সকালে হালকা নাস্তার পর চা পান করা নিরাপদ।
দিনে দুই থেকে তিন কাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকাই উত্তম। রাতে ঘুমানোর অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে শেষ কাপ চা পান করা ভালো।
চায়ে অতিরিক্ত চিনি কমিয়ে আনুন। ধীরে ধীরে চিনি কমালে স্বাদের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়।
যদি বারবার চা খাওয়ার ইচ্ছে হয়, তবে মাঝে মাঝে হারবাল টি বা গ্রিন টি বেছে নিতে পারেন।
আড্ডা, আবেগ আর অভ্যাস
চা আমাদের সংস্কৃতির অংশ। অতিথি আপ্যায়ন থেকে অফিস মিটিং—সব জায়গায় চা এক নীরব সঙ্গী। তাই একে পুরোপুরি বাদ দেওয়া অনেকের পক্ষেই কঠিন।
কিন্তু যেকোনও ভালো জিনিসের মতো চায়ের ক্ষেত্রেও প্রয়োজন সংযম। চা যেন অভ্যাসকে নিয়ন্ত্রণ না করে; বরং আপনি নিয়ন্ত্রণ করুন আপনার অভ্যাসকে।
বলা দরকার
‘চা ছাড়া আমার চলেই না’—এ কথা সত্যি হতে পারে। কিন্তু সুস্থ থাকতে হলে একটু সচেতন হওয়াও জরুরি। চা যেন সতেজতার প্রতীক হয়—অস্বস্তির নয়।