
জন্মভূমি রিপোর্ট : চিকিৎসকের ভুলে মেধাবী ছাত্র আশিকুর রহমান পাপ্পুর (২১) জীবন থেকে ঝরে গেছে একটি শিক্ষা বছর। চলতি বছর অনার্সে ভর্তি হওয়ার কথা থাকলেও চিকিৎসকের ভুলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময়টা তাকে চিকিৎসার জন্য কাটাতে হয় দেশের বাইরে।
জানা যায়, খুলনা মহানগরীর টুটুপাড়া এলাকার মোঃ আইয়ূব আলী সানার একমাত্র পুত্র আশিকুর রহমান পাপ্পু ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। এরপর অসুস্থতার কারণে ২০২২ সালের এইসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ লাভ করে। ক্রমতাগতভাবে অসুস্থতা বাড়লে চলতি বছরের মার্চ মাসে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় খুলনার খুলনা গ্যাষ্ট্রো-লিভার এণ্ড কোলন-রেক্টম রিসার্চ সেন্টার এণ্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। সেখানকার চিকিৎসক, ঢাকা মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক, গ্যাস্ট্রো এণ্ড ক্লোরেক্টল সার্জন ডাঃ জওহর লাল সিংহ তার বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন। প্রথমেই তাকে ভিডিও ক্লোনোস্কপি এবং ফটোস্কপি করান। এই পরীক্ষার রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে ডাঃ জওহর লাল জানান, পাপ্পুর ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা রয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে অপারেশন না করা হলে পাপ্পু মারা যাবে। কারণ তার মলদ্বারের ভিতরে ভয়াবহ অবস্থা। প্রথমে পেটে অপারেশন করে পায়খানা ও প্রস্রাবের থলি বের করে বাইরে রাখতে হবে। এবং দেড় মাস পর আবার অপারেশন করে ভিতরে ঢুকিয়ে দেয়া হবে। এজন্য তিন লাখ টাকা দাবি করে ডাঃ জওহর লাল। এরপর পাপ্পুর হিস্টো প্যাথলজি রিপোর্টের জন্য তার শরীরের মাংশ কেটে ঢাকার ল্যাব এইডে পাঠান পরীক্ষার জন্য। এই রিপোর্ট প্রাপ্তির আগেই চিকিৎসক জানিয়ে দেন যে, ওই রিপোর্টেও পাপ্পুর ক্যান্সার ধরা পড়বে। অতি দামি এই রিপোর্ট আনতে গেলে ডাঃ জওহর লাল তাদেরকে একটা ফটোকপি করা রিপোর্ট ধরিয়ে দেন। যাতে উল্লেখ রয়েছে পাপ্পুর ক্যান্সার হয়েছে।
এই রিপোর্ট পেয়ে ছেলেকে ভারতে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দেন আইয়ূব আলী। ভারতের ভেলোরে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, পাপ্পুর ক্যান্সার নয় হয়েছে আল্সার। এতে কোন অপারেশনের দরকার হবে না। ঔষধ খেলেই ঠিক হয়ে যাবে।
পাপ্পু দেশে ফিরে আসার পর তার পিতা ছেলের ক্ষতিপূরণ দাবি করে ও ভুল চিকিৎসার জন্য ডাঃ জওহর লাল সিংহ এর বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। একই সাথে এই চিকিৎসক অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং অকারণে রোগীর অপারেশন করান বলেও অভিযোগ করেন আইয়ূব আলী।
তবে আইয়ূব আলীর অভিযোগ অস্বীকার করে ডাঃ জওহর লাল সিংহ বলেন, পাপ্পু আমার কাছে আসার পর আমি তার বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা করি। আমার কাছে মনে হয়েছে তার মলদ্বারে টিউমার হয়েছে। তাই তার শরীরের মাংশ নিয়ে ঢাকা ল্যাব এইডে পাঠিয়ে দেই। সেই রিপোর্টে তার ক্যান্সার ধরা পরে। আমি তাদেরকে বুঝাই যে, এটা অল্প বয়সে হলে খুব ক্ষতি হয়। কিন্তু তারা চলে যায় ভারতে। সেখানে ডায়গোনসিসে ক্যান্সারটা নির্নয় হয়নি। এজন্য তারা আমাকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন। আমি এটা পাবার পর আমি বিএমএ কে জানিয়েছি। এটা আইন অনুযায়ী মোকাবেলা করা হবে। তবে আমার যদি কোন ভুল থাকে তাহলে বিধি মোতাকেব যা হবে তা আমি মেনে নেবো।
চিকিৎসক আরও বলেন, মেডিকেল সায়েন্সে এধরণের ঘটনা ঘটে। এতে রোগী ও চিকিৎসকদের খেসারত দিতে হয়।