জন্মভূমি ডেস্ক : জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, সংসদে যাব কি না তা সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে, তিনি বলেছেন, এখন পর্যন্ত সংসদে যাব না এমন কোনো সিদ্ধান্ত আমরা নিইনি।
সোমবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুরের সেনপাড়া দি স্কাই ভিউর বাসভবনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জাপা চেয়ারম্যান ও রংপুর-৩ আসনে বিজয়ী লাঙ্গল প্রতীকের এই প্রার্থী। তিনি বলেন, ৭ জানুয়ারির নির্বাচন সরকারের নিয়ন্ত্রণে হয়েছে। আমার বিশ্বাস, এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। সরকার যেখানে নিরপেক্ষ করতে চেয়েছে, সেখানে নিরপেক্ষ হয়েছে। সরকার যেখানে যাকে জেতাতে চেয়েছে, সেটিই করেছে। এটা নিয়েই আমরা সব সময় আতঙ্কিত ছিলাম।
জাপা চেয়ারম্যান বলেছেন, আমাদের লোককে মেরে-কেটে বের করে দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের প্রোটেকশন পাইনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন, ইলেকশন কমিশন, রিটার্নিং অফিসার কোনোখান থেকে সুযোগ পাইনি সুষ্ঠুভাবে ভোট করার। আমরা অসহায় হয়ে গেছি। যেখানে-যেখানে দরকার যোগাযোগ করেছি। তারা বলেছে লোক পাঠাচ্ছি, কিন্তু কোনো কিছু করা হয়নি। এমনকি ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে বাড়িঘর ঘেরাও করে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটা একটা নতুন ধরনের ডাইমেনশন দেখা গেল। ভবিষ্যতে সরকারকে এটার জন্য মাশুল দিতে হবে বলে আমার বিশ্বাস।
এক প্রশ্নের জবাবে জাপার প্রধান বলেন, ‘নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল কি শুদ্ধ, এখনই তা মূল্যায়ন করা যাবে না। সামনের দিনগুলো দেখতে হবে। তারপর আমরা সঠিকটা বুঝতে পারব। এখন পর্যন্ত সংসদে যাব না এমন কোনো সিদ্ধান্ত আমরা নিইনি। এটা এমপিদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমাদের মতো দলের পক্ষে নির্বাচন বর্জন করা প্রার্থীরা হয়তো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। দলকে রক্ষা করা, দলীয় রাজনীতি রক্ষা এটাতে একটা আঘাত আসতে পারে।’
জি এম কাদের আরও বলেন, ‘যে নির্বাচনি ফলাফল আমরা দেখেছি, তাতে আশানুরূপ ফলাফল পাইনি। আমি বারবার বলেছি, আসন ভাগাভাগি হয়নি, কোনো মহাজোট হয়নি, ছাড় দেওয়া হয়নি। আমরা চেয়েছিলাম একটা পরিবেশ, যেখানে প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকবে, আমাদের ক্যান্ডিডেটের বিরুদ্ধে অস্ত্র এবং অর্থের প্রভাবমুক্ত পরিবেশ থাকবে। তারা কথা দিয়েছিল, নিশ্চিত করেছিল। তার পরিপ্রেক্ষিতে তারা ২৬টি আসনে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী দেয়নি। তখন আমি বলেছিলাম, এটা কোনো সমঝোতা নয়, আসান ভাগাভাগি নয়। যেহেতু ওখানে তারা আওয়ামী লীগের শক্ত একজন স্বতন্ত্র প্রতিদ্বন্দ্বী দিয়েছে। সেই প্রার্থীকে তারা বিদ্রোহীও বলেনি, দল থেকে বহিষ্কারও করেনি। দলীয় লোকজন তার সঙ্গে কাজ করেছে। সরাসরি আওয়ামী লীগের লোক আমাদের প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। সেহেতু আসন ভাগাভাগির প্রশ্ন আসে না।
প্রধান সম্পাদক: লে. কমান্ডার (অব.) রাশেদ ইকবাল, প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত