
পূর্ণ চন্দ্র মন্ডল, পাইকগাছা : খুলনার উপকূলীয় সুন্দরবন সংলগ্ন সোলাদানা ইউনিয়ন দ্বীপব্যষ্টিত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রবণ অঞ্চল। প্রতিনিয়ত আম্ফান, সুনামী, ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপে জর্জরিত এ এলাকার মানুষ কে যুদ্ধ করতে হয়। ছিন্নভিন্ন এ অঞ্চলের ওয়াবদা সহ বিভিন্ন রাস্তাঘাট। যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে সরকারের পাশাপাশি ভূমিকা রাখছে দাতা সংস্থা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ( ডব্লিউএফপি) এর অর্থায়নে, উন্নয়ন সংস্থা সুশীলন। অবহেলিত পাইকগাছায় ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে দাতা সংস্থা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এর অর্থায়নে, উন্নয়ন সংস্থা সুশীলনের বাস্তবায়নে "দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রমের মাধ্যমে কমিউনিটি সম্পদ তৈরি" শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৩ কোটি ৭ লক্ষ ৯৬ হাজার ৪৯৬ টাকার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করছে। ওই প্রকল্পের আওতায় পাইকগাছায় ইউএনও'র নেতৃত্বে উপজেলা টাস্ক ফোর্স কমিটি সোলাদানা ইউনিয়নে সোয়া ১ কোটি টাকার দুই কিলোমিটার ৬৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের গুরুত্বপূর্ণ দুটি রাস্তার চলমান কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন। ইতোমধ্যে ৮৭ ভাগ উন্নয়ন কাজ শেষ করেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এদুটি রাস্তার উন্নয়ন করার ফলে উপজেলা সদর সহ এলাকার হাটবাজার, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ ও মন্দিরে যাতায়াত এবং নদী পারাপার সহজ হওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি এবং মানুষের জীবনমান উন্নত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন শিবসা নদীর ধারে অবস্থান হওয়ায় প্রতিবছর দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সোলাদানা ইউনিয়ন। আধুনিক জনজীবনে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে এই ইউনিয়নটি। এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সবচেয়ে নাজুক। ফলে মানুষের জীবন মানের এখনো তেমন উন্নতি হয়নি। বেশির ভাগ রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী। ফলে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি হয় এখানকার মানুষের। দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা ইউনিয়ন গুলোর মধ্যে সোলাদানা অন্যতম। রাস্তা দুটি সরজমিনে পরিদর্শন কালে দেখা যায়, সোলাদানায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার উন্নয়ন করা হচ্ছে। যার মধ্যে আমুরকাটা বাজার হতে দীঘা পর্যন্ত দুই কিলোমিটার ৪২০ মিটার দৈর্ঘ্যের মাটির রাস্তা সংস্কার (বিএফএস)। একাজের চুক্তি মূল্য ধরা হয়েছে ৯৯ লক্ষ ৫২ হাজার ৯০৪ টাকা। উন্নয়ন কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাগর এন্টারপ্রাইজ। গুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তার উন্নয়ন করার ফলে দীঘা, দক্ষিণ কাইনমূখী, উত্তর কাইনমূখী, পশ্চিম কাইনমূখী ও গোলবুনিয়া সহ ৫ গ্রামের মানুষের জেলা ও উপজেলা সদর, আমুরকাটা বাজার ও চারবান্দা বাজার এবং স্কুল, মসজিদ মন্দিরে যাতায়াত সহজ হবে।
অনুরূপভাবে ২৪ লাখ ৫৯ হাজার ৭৩৬ টাকা ব্যয়ে সোলাদানা বাজার হতে খেয়াঘাট পর্যন্ত ২৩০ মিটার মাটির রাস্তা উন্নতিকরণ করা হচ্ছে। উন্নয়ন কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরাফ এন্টারপ্রাইজ। এটার প্রায় ৯৫ ভাগ উন্নয়ন কাজ শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ইট বসানোর কাজ শেষ হলে রাস্তাটি শতভাগ ব্যবহার করতে পারবেন নদী পারাপারের মানুষ। এর আগে সোলাদানা খেয়াঘাটের এই রাস্তাটির অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। যার কারণে নদী পারাপারে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ এবং ভোগান্তি হতো। এখন থেকে সোলাদানা, লতা ও দেলুটি সহ ৩ ইউনিয়নের মানুষের নদী পারাপার সহজ হবে বলে জানান সোলাদানা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এসএম এনামুল হক। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী তিনি সরকারি কর্মকর্তা ও প্রকল্পের কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে ২৬ জানুয়ারি সোমবার দুপুরে দুটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক, উপজেলা প্রকৌশলী শাফিন শোয়েব, শিক্ষা অফিসার বিদ্যুৎ রঞ্জন সাহা, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এসএম এনামুল হক, উপ সহকারী প্রকৌশলী প্রশান্ত পাল ও জাহাঙ্গীর আলম, সুশীলনের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. ইমরান হোসেন, ডিআরআর কো অর্ডিনেটর রিফাত রহমান তানভীর, জেলা সমন্বয়কারী স্নিগ্ধা ঘোষ, উপজেলা কনস্ট্রাকশন ইঞ্জি. আয়ুব আলী, প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, ইউপি সদস্য শেখর চন্দ্র ঢালী, ঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলম ও গাজী ফয়সাল রাশেদ সনি।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত