জন্মভূমি রিপোর্ট : খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় পাশ্বেমারী গ্রামে সিরাজুল ইসলাম ওরফে সাদ্দাম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঝাড় ফুঁক, তাবিজ কবজ, আয়না দর্পন ও জ্বীনের নামে চিকিৎসা করার অভিযোগ উঠেছে। পাশে^মারী গ্রামেই তার বসবাস। সেখানেই আমেনা চেম্বার নামে গড়ে তুলেছেন এক চিকিৎসা কেন্দ্র। সাইনবোর্ডে নিজের নামের আগে লেখা আছে ডাক্তার। লেখাপড়া না জানলেও দীর্ঘদিন ধরে সমাজের সহজ সরল মানুষদের তিনি সহজেই ঠকিয়ে আসছেন। তিনি যোগাড় করেছেন কিছু প্রশিক্ষণের সার্টিফিকেট। কোথাও কোন কাজে বাধা হলে তখন তিনি জ্বিন, ভূত, তাবিজ দিয়ে ভয় দেখিয়ে থাকেন। তন্ত্র-মন্ত্রের উপার্যনে এখন তার অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে।
জানা গেছে, তিনি ভগবতিপুরের জনৈক মিনাস এর কাছ থেকে নগদ ২২ হাজার টাকা নিয়েছেন। তার ব্যক্তিগত কিছু কাজ করে দেয়ার কথা বলে অর্থ নিলেও কোন ফল মেলেনি। তার এক ভাইয়ের কাছ থেকে জ্বিন দ্বারা কাজ করে দেবে বলে কৌশলে ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। শুধু তাই নয় সে বাঘের চামড়া, হরিণের চামড়া, বাঘের দুধ,পতিতা মেয়েদের কবরের হাড্ডি, সিঁদুর, জাফরানি রঙ এ ধরনের অনেক দুষ্প্রাপ্য জিনিস দিয়ে তাবিজ দিবে বলে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়। এভাবে সুচিকিৎসা দেয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহজ সরল নারী পুরুষদের বোকা বানিয়ে বিদেশে চাকরি, বিয়ে, জায়গা জমি সংক্রান্ত সমস্যা, স্বামী-স্ত্রীর কলহ, হারানো জিনিস ফিরে পাওয়া, প্রেম-ভালোবাসা সহ নানা সমস্যা সমাধান করে দেয়ার কথা বলে অর্থ নিয়ে থাকেন। এছাড়াও শরীরে জ্বীন ধারণ, উপকারী গাছ ব্যবহার, তাবিজ কবজের বই সামনে রাখা, আয়নার দিকে তাকিয়ে কথা বলা, হাত ও চোখ দেখেই কালো জাদুসহ বিভিন্ন কথা বলে তদবির প্রদান করেন।
এ ব্যাপারে কবিরাজ সিরাজুল ওরফে সাদ্দামের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি ডাক্তারী কোর্স করে এসেছি। তাই আমি নামের আগে ডাক্তার লিখি। আমার ডাক্তার লেখার বৈধতা আছে। যদি লেখা না যায়, তাহলে বাদ দিয়ে দেব। আমি কারও নিকট থেকে অর্থ গ্রহণ করি নাই। আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগের কতা বলা হয়েছে তা সত্য নয়। ঝাড়ফুঁক এর ব্যপারে জানতে চাইলে সাদ্দাম বলেন, আমি পবিত্র কোরআন এর আমলিয়াত এর মাধ্যমে জ্বিন কন্ট্রোল করি। কারও উপর জ¦ীন আছর করলে ছাড়াতে পারি। এই ধরনের চিকিৎসায় লাইসেন্সের প্রয়োজন হয় না।
বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্েরর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মিজানুর রহমান বলেন, এমবিবিএস (ব্যাচেলর অফ মেডিসিন, ব্যাচেলর অফ সার্জারি) এবং বিডিএস (ব্যাচেলর অফ ডেন্টাল সার্জারি) স্নাতক ডিগ্রি পদবী ছাড়া কেউ ডাক্তার লিখতে পারবেনা। যদি কেউ লেখেন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। আইনে বলা আছে তার বিরুদ্ধে ৬ মাসের জেল ও অর্থদন্ডের বিধান রয়েছে।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত