
ডুমুরিয়া প্রতিনিধি : ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়াই উনিয়ানের টিপনা গ্রাম এখন মডেল-৩৯ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে। এই পরিচিতি এসেছে, চিংড়ি চাষ করে। মূলত মৎস্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারণ কাজের সফলতার সর্বশেষ সাফল্য কাস্টার পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ। এর ফলে অধিকাংশ মৎস্য চাষি সনাতন পদ্ধতির বদলে, ক্লাস্টার পদ্ধতিতে ঝুঁকে পড়ছেন। তাতে চিংড়ি উৎপাদন যেমন বাড়ছে, তেমনি পাওয়া যাচ্ছে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত মাছ। একই সঙ্গে পরিবেশেরও কোনো ধরনের ক্ষতি হচ্ছে না। আগে সনাতন পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করার ফলে উৎপাদন যেমন কম হচ্ছিল, তেমনি নিয়মিতভাবেই লেগে থাকত রোগবালাই। যে কারণে চিংড়ি চাষে লোকসানের মুখে পড়তেন চাষিরা। সেই তাদের মধ্যে চিংড়ি চাষে অনীহা বাড়তে থাকে। এমন অবস্থাতেই এগিয়ে আসে। টিপনা এলাকার ২৫ জন চাষিকে নিয়ে তৈরি করেন, কাস্টার বা দল। বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার আর্থিক সহযোগিতায় মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত এসটিডিএফ প্রকল্পের মাধ্যমে ওয়ার্ল্ড ফিশের সহযোগিতায় এই অঞ্চলের ২টি ক্লাস্টারে ৫০ জন চাষিকে একত্রিত করে, সনাতন পদ্ধতির বদলে আধুনিক প্রযুক্তি ও পদ্ধতির সমন্বয়ে লাভজনক ও নিরাপন চিংড়ি চাষের কলাকৌশল শেখানো হয়। ফলে অল্পদিনেই চাষিরা দেখতে পান লাভের মুখ। রুমেই তাদের মধ্যে ক্লাস্টার পদ্ধতিতে চিংড়ি চাগে ব্যাপক উৎসাহ অন্যদিকে, সাসটেনেবব কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারি প্রকল্পের আওতাধীন গঠিত ৩০০ ক্লাস্টারের সাড়ে সাত হাজার চিংড়ি চাষি নিরে মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন।
চিংড়ি চাষের আশা ক্লাস্টার পদ্ধতি সংবাদের মাধ্যমে জানা যাচ্ছে, সনাতন পদ্ধতিতে বেশ কয়েক বছর ধরে চিংড়িভাগে লাভের মুখ দেখতে পারছেন না অধিকাংশ চাষি। জলবায়ুর প্রভাব, রোগবালাইসহ নানাবিধ কারণে উৎপাদনের আগে চিংড়ি মারা যাওয়ায় ক্রমাগত লোকসানে আর্থিক বিপর্যয়ে পড়েছেন দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক লাখ চাষি। চিংড়ি চাষিরা যখন হতাশায় দিন পার করছে, ঠিক তখনই মৎস্য অধিদপ্তর তাদের সংগঠিত করে দেখিয়েছে নতুন সম্ভাবনা ও আশার আলো।
সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মাছ চাষিদের সুসংগঠিত করে ৩০০ ক্লাস্টারকে প্রকল্পভূক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি ক্লাস্টারে রয়েছে ২৫টি ঘের। সেসব ঘেরের আয়তন ৩০ থেকে ১৫০ শতক। প্রকল্পের নির্দেশনা অনুযায়ী দের প্রস্তুতির পর কাস্টারগুলোকে ম্যাচিং প্ল্যান্ট (আর্থিক অনুদান) পাওয়ার জন্য আবেদন করতে বলা হয়। ক্লাস্টারভুক চাষিদের একর (১০০ শতক) প্রতি অফেরতযোগ্য ৮১ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। যে অনুদান নিয়ে তারা খনন ও রাস্তা নির্মাণ কালে পোনা মজুদ, ঘের প্রস্তুত, গুড অ্যাকোয়া প্র্যাকটিস, বিদ্যুৎ সংযোগ, অফিস কক্ষ নির্মাণ, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসহ যাবতীয় খরচ মেটাবেন।
এখন অনুদান পাওয়া ক্লাস্টারগুলো ভালো উৎপাদনের স্বপ্ন নিয়ে পোনা মজুদের প্রস্তুতি নিচ্ছে। চিংড়ি
চাষিদের মধ্যে দেখা গেছে কারণ এর ফলে চাষিদের আয় বেড়েছে। কমেছে চিংড়ি চাষের ঝুঁকি। আবার কোনো ধরনের রোগবালাইও নেই। এমন কথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, দক্ষিণ উপকূলের সব চাষিকে সুসংগঠিত করে ক্লাস্টার পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ সম্প্রসারণ করতে পারলে কৃষি অর্থনীতিতে খুব কম সময়ের মধ্যে বিপ্লব ঘটবে। কারণ এতদিন সনাতন পদ্ধতি হচ্ছিল চিংড়ি চাষ। সেখানে ক্লাস্টারের কোনো ধারণা ছিল না। এর ফলে চিংড়ি চাষিদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা কাজ করছিল। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি আনুল পাল্টে গেছে। পরিবেশবান্ধব এই ক্লাস্টার পদ্ধতিতে চিংড়ি উৎপাদন বাড়িয়ে, বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষস্থানে থাকবে।