
জন্মভূমি ডেস্ক : ফরিদপুরের ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মালিগ্রাম এলাকায় একটি অ্যাম্বুলেন্সের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুন লেগে ৮জন নিহত হন। নিহতের মধ্যে তিনজন নারী, তিনজন পুরুষ ও দু’টি শিশু রয়েছে। এরমধ্যে সাতজন একই পরিবারের সদস্য রয়েছেন।
জানা যায়, শনিবার বেলা ১১টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় একটি মাইক্রোবাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হাইওয়ে সড়কের রেলিংয়ে ধাক্কা লেগে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আগুন ধরে যায়। এতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৮ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৪ জুন) বেলা ১১ টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মালিগ্রাম এলাকায় একটি ফ্লাইওভারে এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ৮ জনের মধ্যে ৭ জনের বাড়ি বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের ফেলাননগর গ্রামে। নিহত সাত জনই একই পরিবার ও আত্মীয় স্বজন। হলেন, উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের ফেলাননগর গ্রামের প্রবাসী আজিজার রহমানের স্ত্রী তাছলিমা বেগম (৫৫) তার মেয়ে কমলা পারভিন (২৬), বিউটি বেগম (২৪) নাতি হাসিব (৮) হাফসা (২), আরিফ (১২) মেহেদি (১২)। এর মধ্যে কমলা বেগম ঢাকায় বসবাস করতেন। ছোট মেয়ে বিউটি বেগম উপজেলার শেখর ইউনিয়নের মাইটকুমরা গ্রামের মাহমুদ ইসলাম রনির স্ত্রী। নিহত অ্যাম্বুলেন্স চালকের নাম মিতুল (২৫)। তিনি ফরিদপুর শহরের লক্ষ্মিপুর মহল্লার তকি মোল্যা সড়কের সুভাষ চন্দ্র মালোর সন্তান।
ভাঙ্গা থানার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খালিদ মাহমুদ বলেন, সকাল ১১ টার দিকে ঢাকা-ভাঙ্গা মহাসড়কে ভাঙ্গাগামী মালিগ্রাম ফ্লাইওভারের উপর সম্ভবত মহাসড়কের মধ্যবর্তী ডিভাইডারের সাথে ধাক্কা লেগে এ্যাম্বুলেন্সে আগুন ধরে যায়।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। চালককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ্যাম্বুলেন্সে থাকা ৭ জন মারাত্মকভাবে দ্বগ্ধ হয়ে ভষ্মিভূত হয়ে এ্যাম্বুলেন্সেই মারা গেছেন। বর্তমান আগুন নিয়ন্ত্রণে। মহাসড়কের যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক। উদ্ধার কাজ চলমান।
ভাঙ্গা উপজেলার ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মো. জাফর বলেন, সকাল ১০ টা ৫৫ মিনিটে তারা খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে তার আগেই ভস্মীভূত অ্যাম্বুলেন্সের যাত্রীরা পুড়ে অঙ্গার হয়ে যায়। সম্ভবত ৬ জন যাত্রী ছিলেন। সকলেই মারা যান।
স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানাগেছে, উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের ফেলাননগর গ্রামের সৌদি প্রবাসী আজিজার রহমানের স্ত্রী তাছলিমা বেগম হৃদরোগে আক্রান্ত হলে এক মাস আগে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা শেষে এবং বড় মেয়ে কমলা বেগমের বাসায় ছিলেন। ঘটনার দিন সকালে আগে ঢাকায় নিয়ে তাছলিমা বেগম তার দুই মেয়ে নাতি-নাতনি নিয়ে ঢাকা থেকে বোয়ালমারী গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন, পথিমধ্যে দুর্ঘটনায় সাতজনই প্রাণ হারান।
এ ব্যাপারে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব বলেন,নিহতের বাড়িতে গিয়ে শোকাহত পরিবারে সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধিন।
বোয়ালমারী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মোশারেফ হোসাইন নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, খবর পেয়ে ওই বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়া হয়। শোকাহত পরিবারে শোকের মাতম চলছে। খুবই মর্মান্তিক হৃদয় বিদারক ঘটনা, যা সহ্য করার মতো নয়। শোকাহত পরিবারে প্রয়োজনীয় সর্বাত্মক সহযোগিতার চেষ্টা করা হবে।
তদন্ত কমিটি গঠন: ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদার জানান, ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) বিপুল চন্দ্র দে কে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত শেষে তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। এছাড়া নিহতদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে এবং আহতকে ১০ হাজার টাকা প্রদান করা হবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

