
তালা প্রতিনিধি : তালা উপজেলার খলিশখালী ইউনিয়নে ছিঁড়ে পড়া বিদ্যুতের তারের আগুনে তিনটি পরিবারের প্রায় দেড় বিঘা জমির পানের বরজ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার টিকারামপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা গেছে, টিকারামপুর গ্রামের মণি শংকর ভদ্র, বিশ্বনাথ ভদ্র ও রাজকুমার ভদ্রের পানের বরজের ওপর দিয়ে পল্লী বিদ্যুতের আবাসিক সংযোগের লাইন গেছে। দুপুরে হঠাৎ সেই লাইনের তার ছিঁড়ে বরজের ওপর পড়লে মুহূর্তেই আগুন ধরে যায়। আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত বরজের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামবাসীর চিৎকারে আশপাশের প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরা পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উৎস থেকে পানি এনে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। খবর পেয়ে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। ক্ষতিগ্রস্ত চাষি মনি শংকর ভদ্র অভিযোগ করে বলেন, “পানের বরজের ওপর দিয়ে বিপজ্জনকভাবে বিদ্যুতের তার ঝুলে ছিল। আমরা কয়েকবার বিদ্যুৎ অফিসে বিষয়টি জানিয়েছি, কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাদের এই উদাসীনতার কারণেই আজ আমাদের পথে বসার দশা হয়েছে।”
মনি শংকর আরও জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। বাড়িতে ফিরে দেখেন তাঁর সব শেষ হয়ে গেছে। তবে আগুনে কোনো প্রাণহানি না ঘটায় তিনি সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। সরেজমিনে দেখা গেছে, আগুনে দেড় বিঘা জমির পান ও বরজের কাঠামো সম্পূর্ণ পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, বর্তমান বাজারে এই পরিমাণ পানের বরজের মূল্য ও উৎপাদন খরচ মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ ১০ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এলাকাবাসীর দাবি, পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। সেই সঙ্গে পানের বরজের ওপর দিয়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ লাইনগুলো দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
প্রধান সম্পাদক: লে. কমান্ডার (অব.) রাশেদ ইকবাল, প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত