
তালা প্রতিনিধি : তালায় কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে মামলা দায়েরের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই গ্রেফতার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন খেশরা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোঃ সফিউল্লাহ মোল্ল্যা। গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলো উপজেলার খেশরা ইউনিয়নে ডুমুরিয়া গ্রামের মৃত বক্স মোড়লের ছেলে রমজান আলী মোড়ল (৫৫) ও ইনছাব মোড়লের ছেলে বাপ্পী মোড়ল (২৮)। গ্রেফতারকৃতরা বর্তমানে সাতক্ষীরা জেল হাজতে আটক রয়েছে। তারা তালা থানার নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার আসামি।
জানা গেছে, খেশরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের ৬ষ্ঠ শ্রেনিতে পড়ুয়া এক নাবালিকা কিশোরীকে কয়েক দফা উপর্যুপরী জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ঐ পাষন্ডরা। উক্ত ঘটনায় ঐ কিশোরীর বাবার দায়েরকৃত মামলার প্রেক্ষিতে এজাহার নামীয় দুই আসামীদের কৌশলে পালানোর অপচেষ্টাকে রুখে দিয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সাহসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এসআই সফিউল্লাহ।
এ বিষয়ে তালা থানাধীন খেশরা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ সফিউল্লাহ মোল্ল্যা জানান, তিনি থানা থেকে এমন একটি মামলার প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক অনুসন্ধান করেন। অনুসন্ধানের তিনি জানতে পারেন দুই আসামি পালিয়ে যাওয়ার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এ সময় অত্যন্ত কৌশলে সঙ্গীয় ফোর্সসহ তাদেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন তিনি।
তালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) চৌধুরী রেজাউল করিম জানান, গত মঙ্গলবার বিকালে উক্ত দুই আসামীকে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষসহ তার নিদের্শনা মতে খেশরা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ সফিউল্লাহ মোল্ল্যার নেতৃত্বে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার তাদেরকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়। বর্মতানে তারা জেল-হাজতে রয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রায় ৫ মাস পূর্বে ঐ শিশুকে ডুমুরিয়া গ্রামের মৃত বক্স মোড়লের ছেলে রমজান আলী মোড়ল তার বাড়ির পাশে ঘরের পেছনে বাগানে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় ঐ শিশু যাতে চিৎকার করতে না পারে সেজন্য তার মুখ চেপে ধরা হয় এবং উক্ত ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণনাশেরও হুমকি দেয় রমজান মোড়ল। এদিকে দূর থেকে উক্ত ঘটনা দেখে ফেলে একই এলাকার ইনছাব মোড়লের ছেলে বাপ্পী মোড়ল। পরবর্তীতে বাপ্পী মোড়ল ঘটনাটি জানাজানি করে দেবে মর্মে ভয় দেখিয়ে ঐ শিশুকে তার বসতঘরে নিয়ে একাধিকবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনার ৫ মাস অতিবাহিত হলে মেয়ের শারিরীক অবস্থার পরিবর্তন হলে মেয়েকে গত ৯ জুন তাকে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মেয়ের গর্ভধারণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ ঘটনায় তিনি গত ১৩ জুন তালা থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত