
তালা প্রতিনিধি : তালা উপজেলার মৎস্য চাষীদের অনাবৃষ্টি, খরা ও তাপামাত্রা বৃদ্ধির প্রভাবে টানা দ্বিতীয় বারের মতো মিঠা পানির মৎস্য চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এতে করে উপজেলার ৩ হাজার ৯৭৭ হেক্টর জমিতে মিঠা পানির মৎস্য চাষ ব্যাহত হবে বলে ধারণা করছেন উপজেলা মৎস্য অফিস। এদিকে অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন অধিকাংশ মাছ চাষীরা।
উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্য মতে, তালা উপজেলায় মৎস্য উৎপাদনে বিশেষ অবদান রেখে আসছে প্রতিবছর। এই উপজেলায় মোট ৭৭৪৫টি মৎস্য ঘের আছে। এরমধ্য মিঠা পানির গলদা মাছের ঘের রয়েছে ৬ হাজার ৪৫০টি আর নোনা পানির ঘের রয়েছে ১ হাজার ২৯৫টি। সেই হিসেবে উপজেলায় ৭ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে মৎস্য চাষ হয়ে থাকে। যার মধ্যে মিঠা পানির ৩ হাজার ৯৭৭ হেক্টর ও নোনা পানির ৩ হাজার ৩৮ হেক্টর জমিতে মৎস্য চাষ হয়।
তথ্য মতে, দেশে মৎস্য উৎপাদনে একটি বিশেষ ভূমিকা রাখে তালা উপজেলাসহ সাতক্ষীরার প্রায় সকল উপজেলাগুলো। অত্র এলাকায় রুই, মৃগেল, কাতলা, গলদা চিংড়ি, সিলভার কার্প, গ্রাসকার্পসহ নানা প্রজাতির মাছ চাষ করা হয়ে থাকে। অথচ টানা দ্বিতীয় বারের মতো মিঠা পানির মৎস্য চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হতে চলেছে।
তালায় মিঠা পানীয় মৎস্য চাষি মোঃ খলিলুর রহমান, ইকবাল হোসেন, ফয়সাল হোসেনসহ কয়েকজন চাষী জানান, ঘের করেই তাদের জীবন জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। গত বছরের মতো এবছরও বৃষ্টি না হওয়ায় কারণে ঘেরে মাছ ছাড়তে পারেনি। বছর শেষে জমির মালিক দের লক্ষ লক্ষ টাকা হারি বাবদ পরিশোধ করতে হবে। কিভাবে তারা হারির টাকা পরিশোধ করবে তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে।
তালা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্নীগ্ধা খাঁ বাবলি বলেন, অত্র উপজেলায় প্রতিবছর ৩হাজার ৯৭৭ হেক্টর মৎস্য ঘেরে মিঠা পানীর মৎস্য উৎপাদন করা হয়। কিন্তু এবার পানির অভাবে সেই উৎপাদনে কিছুটা ব্যাহক হচ্ছে। লক্ষ্যমাত্রাও অর্জনে হিমসিম পোহাতে হচ্ছে। উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে মাছ চাষীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও মাছের খাদ্যসহ নানা উপকরণ প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু পানির অভাবে হুমকির মুখে পড়েছে এই এলাকার মৎস্য ঘেরগুলো।

