
॥ ২০ বছরেও ভাতা কার্ড পায়নি বিধবা নুরজাহান ॥
তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামের হতদরিদ্র নারী নুরজাহান খাতুন। স্বামী আবু বক্কর গাজী মারা গেছে প্রায় ২০ বছর আগে। তাদের বসতঘরটি কপোতাক্ষ নদের জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে। বর্তমানে মাথা গোঁজার মতো কোনো ঠাঁই নেই। দিন মজুরী করে এতদিন সংসার চালাতেন, ধীরে-ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়ায় কাজকর্ম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এত দিনেও তাঁর কপালে জোটেনি একটি বিধবা ভাতার কার্ড।
নুরজাহান খাতুন (৫৬) বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে দিনমজুর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে তার স্বামী মারা যায়। মেয়ে পারভীনের বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু স্বামী সংসারে বেশিদিন থাকতে পারেনি সে। দ্বিতীয় বিয়ে করে দু’টি শিশু সন্তানসহ তাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয় স্বামী। দুই ছেলে রাজমিস্ত্রীর কাজ করে পৃথক সংসার চালায়। কপোতাক্ষ নদের জোয়ারের তোড়ে নদী ভাঙনে বসতভিটা ভেসে গেছে। এতদিন মজুরী করে জীবিকা নির্বাহ করতেন নুরজাহান। কিন্তু হঠাৎ বিভিন্ন রোগ তার শরীর বাসা বেধেছে। কাজকর্ম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। হাঁটাচলা করাও তাঁর পক্ষে কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
নুরজাহান বলেন, ‘নিজের বলতে জীবনটা ছাড়া আর কিছুই যেন নেই আমার। একখন্ড জমি নেই, মাথা গোঁজার মতো একটি ঘরও নেই। পাশর্^বর্তী ডুমুরিয়া গ্রামে ছেলের ভাঙ্গা ঘরের বারান্দায় মাঝে মাঝে যেয়ে থাকি। বর্তমানে শরীরে কোনো বল পাই নে। একটা বিধবা ভাতার কার্ডের জন্য ২০ বছর ধরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বরের কাছে গিয়েছি। কিন্তু এখনও কপালে ভাতার একটি কার্ড জোটেনি।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ বিল্লাল হোসেন বলেন, তিনি নির্বাচিত হবার পর এখনও বিধবা ভাতার কার্ডের তালিকা হয়নি। নুরজাহান একজন অসহায় মহিলা। আগামীতে কার্ড আসলে তাকে অবশ্যই ব্যবস্থা করা হবে।
খেশরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ কামরুল ইসলাম লাল্টু বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। আগামীতে কার্ড আসলে নুরজাহান খাতুনকে বিধবা ভাতার কার্ডের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হবে।
॥ বয়স্ক ভাতার কার্ডের আকুতি শিবপদ সরকারের ॥
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার সদর ইউনিয়নের জাতপুর গ্রামের মৃত রাখাল চন্দ্র সরকারের ছেলে শতবর্ষী শিবপদ সরকার। ৭ ছেলে-মেয়ে তার সংসার। স্ত্রী মারা গেছে ৫/৬ বছর আগেই। বর্তমানে চলাফেরা করতে পারেনা বৃদ্ধ শিবপদ। মাথাও অনেকটা বিগড়ে গেছে। আয়েরও কোনো পথ নেই। ছেলেদের পৃথক সংসার। বিধবা দুই বোন তার সাথে থাকে।
এক সময়ে নিজ জমির পাশাপাশি অন্যের জমিতে কাজ করে ও ঝুঁড়িডালা বুনে তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু বয়সের ভারে অনেক আগেই কর্মশক্তি হারিয়েছেন তিনি। তাই অনেকটা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটে এই বৃদ্ধের। অথচ এখনও তার কপালে জোটেনি বয়স্ক ভাতার কার্ড। বেঁচে থাকার জন্য তিনি একটি কার্ড চান।
বৃদ্ধ শিবপদ সরকারের ভাঙ্গ ভাঙ্গা কণ্ঠে প্রশ্ন ‘আর কত বয়স হলে বয়স্ক ভাতার কার্ড পাবো? বর্তমানে খেয়ে পরে বেঁচে থাকার জন্য শুধু একটা বয়স্ক ভাতার কার্ড চাই।’ তবে বেশ কয়েক বছর তার জাতীয় পরিচয়পত্রটি হারিয়ে গেছে বলে জানান তিনি।
বৃদ্ধ শিবপদ সরকারের সংসারে থাকা বিধবা বোন কৌশলী সরকার বলেন, দাদার বয়স একশ’ পার হয়ে গেছে। মাথাও ঠিক নেই। বসে বসে ভুল বকাবকি করে। তার কিছু জমি ছিল তাই দিয়ে সংসার চলতো। জমাজমি ছেলে-মেয়েদের দিয়ে এখন তিনি প্রায় নিঃস্ব। বর্তমানে একটা বয়স্ক ভাতার কার্ড হলে দাদার সাথে আমরা বিধবা দু’বোনও কোনো রকম তিনবেলা খেয়ে পরে বাঁচতে পারতাম।”
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য লুৎফর রহমান গোলদার জানান, শিবপদ সরকারের ছেলে বয়স্ক ভাতা পান।
তালা সদর ইউপি চেয়ারম্যান সরদার জাকির হোসেন বলেন, ঐ বৃদ্ধ হয়তো আবেদন করেন নি। তবে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা সরকারের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার আওতায় আছেন।
॥ সাংবাদিকদের ফ্যাক্ট চেকিং বিষয়ক কর্মশালা ॥
সাতক্ষীরায় সাংবাদিকদের নিয়ে নলেজ শেয়ারিং অন ফ্যাক্ট চেকিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিসিডি বাংলাদেশের আয়োজনে ও ইন্টারনিউজের সহযোগিতায় তালার ত্রিশমাইলে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অগ্রগতির কনফারেন্স রুমে গত শনিবার এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় সাংবাদিক আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, এবিএম মোস্তাফিজুর রহমান, মনিরুল ইসলাম মনি, এসকে কামরুল হাসান, রেজাউল ইসলাম, এম রফিক, খন্দকার আনিসুর রহমান, আসাদুজ্জামান সরদার, সাহিদুর রহমান ও দীপঙ্কর বিশ্বাস এই কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। এ সময় ফ্যাক্ট চেকিং বিষয়ে নানা দিকনির্দেশনা প্রদান করেন মাছরাঙা টেলিভিশন ও আমাদের সময়ের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল ও তথ্য অধিকার আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন অগ্রগতি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সবুর বিশ্বাস।