তক্বের যত্নে বহুকাল ধরেই ঘরোয়া উপাদান ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ত্বকের সমস্যার সমাধান করা যায়। এমনই একটি অতি পরিচিত উপাদান হলো ফিটকিরি। দাড়ি কাটার পর ত্বকে যেন ইনফেকশন না হয় সেজন্য ফিটকিরির প্রলেপ দেওয়ার প্রচলন বহু বছরের।
কেবল এ কাজে নয়, আরও অনেক ত্বকের সমস্যায় ফিটকিরি ব্যবহার করা যায়। বিশেষত ত্বক থেকে তেলতেলে ভাব দূর করতে এবং ব্রণ তাড়াতে এর জুড়ি মেলা ভার। তবে এটি ব্যবহার করতে হবে সঠিক নিয়মে। তবেই মিলবে সুফল। চলুন জেনে নিন ফিটকিরি ব্যবহারে কী উপকার মেলে-
ত্বকের নানা সমস্যার কার্যকরী সমাধান
অ্যান্টি-সেপটিক ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণের জন্য বিখ্যাত ফিটকিরি। এটি ত্বকের জীবাণু নাশ করতে সাহায্য করে। ব্রণ বা ফুসকুড়ির সমস্যাতেও ফিটকিরি বেশ কার্যকর। ফিটকিরি গুঁড়ো করে সামান্য পানিতে মিশিয়ে ব্রণের ওপর লাগালে প্রদাহ কমে। এটি ব্রণ শুকাতে সাহায্য করে।
যাদের ত্বক খুব তেলতেলে, তাদের জন্যও ফিটকিরি বেশ উপকারী। এটি ত্বক থেকে অতিরিক্ত তেল শোষণ করে ত্বককে পরিষ্কার ও সতেজ রাখতে সাহায্য করে।
প্রাকৃতিক টোনার
ফিটকিরির আরেকটি বড় গুণ হলো এটি প্রাকৃতিক টোনার হিসেবে কাজ করে। নিয়মিত সঠিকভাবে এটি ব্যবহার করলে ত্বকের লোমকূপ ছোট করতে সাহায্য করে। ফলে ত্বক টানটান দেখায়। শেভিং বা ওয়াক্সিংয়ের পর ফিটকিরি লাগালে ত্বকের জ্বালা ও লালচেভাব কমে।
পাশাপাশি ছোটখাটো কাটাছেঁড়ার ক্ষেত্রেও কিন্তু কার্যকর ফিটকিরি। এটি দ্রুত রক্তপাত বন্ধ করে। আবার এর অ্যান্টি-সেপটিক গুণ বড় ভয়ের হাত থেকে ত্বককে রক্ষা করে।
কীভাবে ফিটকিরি ব্যবহার করা নিরাপদ?
ফিটকিরি ব্যবহারের পদ্ধতি খুব সহজ। একটি পরিষ্কার ফিটকিরির পাথর সামান্য পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ভেজা ফিটকিরি বা ফিটকিরি ভেজানো পানি মুখ বা প্রয়োজনীয় স্থানে হালকা করে ঘষে নিলেই হলো।
চাইলে ফিটকিরি গুঁড়ো করে গোলাপ জলের সঙ্গে মিশিয়ে ফেস প্যাক হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন। তবে এই প্যাক সপ্তাহে ১–২ বারের বেশি ব্যবহার না করাই ভালো।
যেসব বিষয় মাথায় রাখা জরুরি:
ফিটকিরির অনেক উপকারিতা থাকলেও কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। এটি ত্বক শুষ্ক করে দিতে পারে, তাই শুষ্ক ও সংবেদনশীল ত্বকে এই উপাদানটি অতিরিক্ত ব্যবহার করা উচিত নয়। প্রথমবার ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করা দরকার, এতে অ্যালার্জির ঝুঁকি এড়ানো যায়। চোখের আশপাশে বা খোলা ক্ষতে ফিটকিরি ব্যবহার না করাই ভালো।
মনে রাখবেন, ত্বকের সমস্যা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় বা অতিরিক্ত জ্বালা, র্যাশ বা চুলকানি দেখা দেয়, তা হলে শুধু ঘরোয়া উপায়ে ভরসা না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত