
সিরাজুল ইসলাম, শ্যামনগর : আজকাল বাজারে অসংখ্য দামি স্কিনকেয়ার পণ্য পাওয়া যায়, যেগুলো ত্বকের সমস্যা দূর করার ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চয়তা দাবি করে। কিন্তু অনেক সময় আপনার ঘরের সাধারণ একটি উপাদানই হতে পারে ত্বকের সমস্যার সবচেয়ে ভালো সমাধান। ত্বকের যত্নে এমনই একটি উপাদান হলো মধু।মধু একটি প্রাকৃতিক ও শক্তিশালী স্কিনকেয়ার উপাদান। এই সাশ্রয়ী উপাদানটি ত্বকের জ্বালাপোড়া কমাতে, আর্দ্রতা রক্ষা করতে এবং আরো অনেক কাজে দারুণ কার্যকর।
তো আর দেরি না করে জেনে নিন মধুর ত্বক উপকারিতা ও ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে-
(১) ত্বকের জ্বালাপোড়া কমায়: আবহাওয়া বা অন্য কোনো কারণে ত্বকে জ্বালাপোড়া হলে মধু তা কমাতে সাহায্য করে। মধুতে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও মিনারেল রয়েছে, যা ত্বকের নিরাময় প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
(২) ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে: ব্রণ বা ত্বকের অন্যান্য সমস্যায় ভুগছেন? মধু হতে পারে আপনার রক্ষাকর্তা। মধুর প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ এটিকে ব্রণ চিকিৎসায় কার্যকর করে তোলে। এটি ত্বককে উজ্জ্বল করে। তবে মধুর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ পেতে চাইলে অবশ্যই কাঁচা মধু ব্যবহার করুন।
(৩) সানবার্ন এবং উইন্ডবার্ন সারায়: সানবার্ন বা উইন্ডবার্ন দুটোই খুব কষ্টকর হতে পারে। তবে দুধ ও মধুর কম্প্রেস দিয়ে এটি সহজেই সারানো যায়। ফ্লোরিডার ডার্মাটোলজিস্ট ডা. মারিয়ানা ব্লিউমিন-কারাসিক বলেন, মধু অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং হিউমেকট্যান্ট, তাই এটি ত্বকের জ্বালাপোড়া কমায় এবং আর্দ্রতা বজায় রাখে। আর দুধের প্রোটিন ত্বকের বেয়ারার মেরামত করে।
উইন্ডবার্ন সারাতে ১/৪ কাপ দুধ ও ১ টেবিল চামচ মধু মাইক্রোওয়েভে হালকা গরম করে একটি কাপড় ভিজিয়ে আক্রান্ত স্থানে ৫ মিনিট রাখুন, তারপর ধুয়ে ফেলুন।
সানবার্ন সারাতে ২ টেবিল চামচ গরম দুধ ও ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে আইস কিউব ট্রেতে জমিয়ে ফ্রিজে রাখুন। জমে গেলে সানবার্নে ৫ মিনিট মালিশ করুন।
(৪) ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বক শুষ্ক ও পাতলা হয়ে যায়, ফলে আর্দ্রতা বা হাইড্রেশন ফিরে পেতে সমস্যা হয়। লস অ্যাঞ্জেলেসের বিউটি এক্সপার্ট এরিকা মারি গাট বলেন, মধু ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখে। এছাড়া এতে এনজাইম ও আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড রয়েছে, যা মৃত ত্বক কোষ দূর করে।
(৫) মধুর ফেস মাস্ক: ড্রাই স্কিনের জন্য মধুর সঙ্গে অলিভ অয়েল বা তিলের তেল মিশিয়ে ফেস মাস্ক বানাতে পারেন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য শুধু মধুই যথেষ্ট। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
(৬) ফাটা ঠোঁটের চিকিৎসা: নিউ ইয়র্কের ডার্মাটোলজিস্ট ডা. জোশুয়া জেইচনার বলেন, মধু ও চিনি দিয়ে লিপ স্ক্রাব বানালে ঠোঁট নরম হয়। মধু অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল, আর চিনি এক্সফোলিয়েট করে।
(৭) মধু ফাটা গোড়ালি সারায়: এক চতুর্থাংশ কাপ অলিভ অয়েল ও ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে গরম করুন। গোড়ালিতে লাগিয়ে ১০ মিনিট রাখুন, তারপর ধুয়ে ফেলুন।
এত গুণাগুণ থাকলেও মধু সবার জন্য নয়। যাদের মধু বা পরাগরেণুতে অ্যালার্জি আছে, তাদের মধু এড়িয়ে যাওয়া উচিত। এটি ত্বকের পোর বন্ধ করতে পারে, তাই তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ ত্বকের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকুন। একজিমা বা রোসেসিয়ায় আক্রান্তরা মধু ব্যবহারের আগে ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিন। প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ত্বকের যত্ন নিন। সুস্থ থাকুন, আনন্দে থাকুন।