
দশমিনা(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে উদ্যোক্তা যুব কৃষকদের কৃষি খামারে বহুমুখী ফসল উৎপাদন করে স্থানীয় চাহিদা পূরন এবং স্বনির্ভর হওয়ায় আর্থিক ভাবে লাভবান হছে। কৃষি খামারে বহুমুখী ফসল উৎপাদন করে উপজেলার কৃষকরা কৃষির চিত্র পাল্টে দিচ্ছে। উপজেলার কৃষকরা তাদের অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙ্গিনার আশেপাশে বিভিন্ন ধরনের ফসল আবাদের পাশাপাশি শীতকালিন সবজি চাষ করেছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের সহযোগিতায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনী ও উদ্বুদ্বকরনের মাধ্যমে বিভিন্ন কৃষি উপকরন পেয়ে পতিত জমির পাশে মাচায় সবজি চাষাবাদ করে উপজেলার কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। কৃষকরা পতিত জমি ও বসতবাড়ীর আঙ্গিনায় মাচায় সবজির চাষ করে নতুন স্বপ্ন বুনছে। কৃষকরা পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে অর্থনৈতিক ভাবে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়নের দক্ষিন আদমপুর গ্রামের কিষানী পিয়ারা বেগম মাচায় লাউ আবাদ করে তাক লাগিয়ে দিয়ে ব্যাপক ফলন পেয়েছে। অত্র উপজেলা একটি কৃষি বান্ধব জনপদ। এই জনপদের ৮০ ভাগ মানুষ কৃষি নির্ভর এবং অত্র উপজেলার যে কোন স্থানে ভাল ফসল উৎপাদন হয়। এই উপজেলায় কৃষকদের সহযোগিতায় কৃষি বিপ্লব ঘটানো সময়ের ব্যাপার মাত্র। খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পারিবারিক পুষ্টি বাগান প্রকল্পের মাধ্যমে প্রদর্শনী করে কৃষক ও কিষানীদের মধ্যে আর্থিক স্বনির্ভরতা বাড়ছে।
এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আবাদি-অনাবাদি জমিতে কৃষি প্রদর্শনী এবং শীতকালিন সবজির চাহিদা কথা চিন্তা করে কৃষকরা মাচা পদ্ধতিতে লাউ আবাদ করে সফলতা অর্জন করেছে। কৃষি জমিতে পানি থাকায় চাষাবাদ করতে পারতো না। ফলে স্থানীয়রা চাহিদা মিটাতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সবজি নিয়ে আসা হতো। বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা নিজেরাই সবজি চাষে ঝুঁকে পড়েছে। স্থানীয়রা আগাম চাহিদা মেটাতে টমেটো,বেগুন,লাউ,কচু, কুমড়া, সিম, বরবটি, লালশাক,পালংশাক চাষ করে পুষ্টির চাহিদা মিটানেরা চেষ্টা করছে। স্থানীয়দের চাহিদা মিটাতে কৃষকরা পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ শাক-সবজি বাজারে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ জাফর আহমেদ বলেন, কৃষকদেরকে চাষাবাদে উৎসাহিত করার পাশাপাশি উন্নতমানের সবজিসহ পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন প্রকল্পের মাধ্যমে অন্যান্য সবজি আবাদ করার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া পুষ্টি বাগান স্থাপনের জন্য কৃষক ও কিষানীদের মাঝে বিনামূল্যে সার,বীজ ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের আর্থিক স্বনির্ভরতা বাড়ানোসহ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় উপজেলা কৃষি বিভাগ সর্বাত্নক সহযোগিতা করছে।
প্রধান সম্পাদক: লে. কমান্ডার (অব.) রাশেদ ইকবাল, প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত