
দশমিনা(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বিস্তৃর্ন মাঠে হলুদ আর হলুদের সমারোহ শোভা পাচ্ছে। সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধে চারিদিক উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ভরে গেছে। সরিষা ফুলের সমারোহ ফসলের মাঠে ছড়াচ্ছে নান্দনিক সৌন্দর্য আর সরিষা ফুলকে ঘিরে মৌমাছি ও প্রজাপতিরা উড়ছে। আর মৌমাছিরা মধু আহরনে ব্যস্ত আছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়,২০২৪-২৫ অর্থ বছরের রাজস্ব খাতের অর্থায়নে প্রদর্শনীয় বাস্তবায়ন ও রবি মৌসুমে প্রনোদনার কর্মসূচির আওতায় ক্ষদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে সরিষা বারি-১৪ বীজ সহ সার বিতরন করা হয়। সরিষা চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকেরা আগ্রহী হয়েছেন সরিষা চাষে। উপজেলার বেতাগি সানকিপুর, বহরমপুর, বাশঁবাড়ীয়, আলীপুর, দশমিনা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তৃর্ন মাঠে দু’চোখ যতদুর যায় হলুদ আর হলুদের সমারোহ। উপজেলায় চলতি মৌসুমে সরিষার ব্যাপক চাষ করা হয়। উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের বেতাগী গ্রামের চাষি রফিক হাওলাদার বলেন, আমি কৃষি অফিস থেকে বিনা -১৪ সরিষা বীজ এনেছি প্রায় ১হেক্টর জমিতে চাষ করেছি তারা সার ও দিছে আমি কিটনাশক দিয়েছি তারা এসে খোজ খবর নেয়। আমার জমির সরিষার গাছ ও ফুল ভালোদেখায় ভালো ফলন আশা করি। রনগোপালদীর কৃষক আঃ রাজ্জাক বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর সরিষার গাছ ও ফুল দেখে বুজতে পারছি দ্বিগুন ফলন পাওয়া যাবে। বাজারে দামও বেশি পাব আশা করছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো.জাফর আহমেদ দৈনিক সংবাদ প্রতিনিধিকে বলেন, তৈল জাতীর ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৭টি ইউনিয়নে রবি মৌসুমে প্রনোদনার কর্মসূচির আওতায় ক্ষদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বারি-১৪ সরিষা বীজ দেয়া হয়। মাঠ পর্যায় উপ-সহকারী কৃষি অফিসারগন কৃষকদের সার্বক্ষনিক পরামর্শ দিয়েছেন। উপজেলায় ২ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের চাহিদা দেয়া হয়েছে কিন্তু এই বছর ৮ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। কৃষকরা আগের তুলনায় অধিক আগ্রহ প্রকাশ করছেন। সরিষা বারি-১৪ জীবন কাল ৭৫-৮০দিন এবং সরিষা বারি-৯ জীবন কাল ৮০-৯০ দিন । সরিষা বারি-১৪ ফরনে চারটি প্রোকোস্ট থাকে এতে ফলন ভাল হয়। দশমিনায় এই বছর সরিষা চাষে কৃষকের আগ্রহ ব্যাপক গত বছরের তুলনায় এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষা গাছ ও ফুল ভাল দেখা যায়। এই বছর কৃষকরা ভাল ফলন পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে আমনের জমিতে সরিষার চাষাবাদ করা হয়। ফসলি ক্ষেতে সরিষার হলুদ ফুলে প্রকৃতিতে সবুজের ছোঁয়া লাগায় মাঠে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত দেখা দিয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উদ্যোগে কৃষকদেরকে কারিগরি প্রশিক্ষন দিয়ে চলতি মৌসুমে প্রায় ১০০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বারি সরিষা-১৪ বীজ বিতরন করা হয়ে ছিল। কৃষকরা তাদের রোপা আমনের ফসলি জমিতে আমন ক্ষেতে বিনা সরিষার চাষাবাদ করেছে। বাড়তি কোন খরচ ছাড়াই কৃষকরা সরিষা চাষে লাভবান হবে। আমন জমিতে সরিষা চাষাবাদের ফলে তৈল ফসলের ঘাটতি পূরনে অসাধারণ একটি প্রযুক্তি। দশমিনা উপজেলা মূলতঃ কৃষি নির্ভর একটি উপজেলা হলেও কৃষি ও কৃষকরা এক অপরের পরিপূরক হিসাবে কাজ করে থাকে। উপজেলা কৃষি সম্পসারন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে তদারকির মাধ্যমে কৃষকদেরকে কারিগরি ভাবে সার্বিক পরামর্শ প্রদান করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার কৃষকদেরকে বিনা চাষে সরিষা আবাদের জন্য পরামর্শ দেয়া হয়। কৃষকরা ইতিমধ্যে আমন ক্ষেতে বিনা সরিষার হলুদ ফুলে প্রকৃতিতে সবুজের ছোঁয়া লেগেছে। সরিষা আগাম একটি সাথী ফসল হয়ে কৃষকদেরকে বাড়তি লাভের মুখ দেখাবে।
কৃষি অফিস সূত্রে জনা যায়, গত বছর কম জমিতে সরিষার চাষ করা হলেও এই বছর উপজেলায় বেশ কয়েক একর জমিতে সরিষার চাষ হয়। উপজেলার আলীপুরা ইউনিয়নের সফল সরিষা চাষি মোঃ ফয়সাল বলেন, চলতি বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় দ্বিগুন জমিতে সরিষা চাষ করা হয়। সরিষা চাষে বারি সরিষা-১৪ বীজ ব্যবহার করছি। আশা করছি আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এই বছর গত বছরের চেয়ে বিশি ফলন ও লাভ হবো। উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরহোসনাবাদ গ্রামের সরিষা চাষি মো.পারভেজ বলেন, এলাকয় জমিতে সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে। চলতি বছর এই প্রথম বারের মতো সরিষার চাষ করছি। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এই বছর সরিষার ভালো ফলন আশা করছি। উপজেলাার বহরমপুর ইউনিয়নের সরিষা চাষী মো.শানু মুধা বলেন, এই বছর সরিষা আবাদ করছি। কোন খরচ না থাকা ও বিনামূল্যে বীজ পাওয়ায় জমিতে সরিষার চাষ করছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাফর আহমেদ জানান, উপজেলায় এই বছর ৪০ একর জমিতে সরিষার চাষ করা হয়। কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে বারি সরিষা-১৪ বীজ দেয়া হয়ে ছিল। কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগন কৃষকদের সাথে থেকে সকল প্রকার পরামর্শ দিচ্ছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এই বছর সরিষা চাষিরা বাম্পার ফলন পাবেন ও লাভবানও বেশি হবেন। কৃষিই সমৃদ্ধি এবং কৃষিকে এগিয়ে নিতে অত্র উপজেলায় আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত