
হুমকির মুখে সুন্দরবনের বনজ সম্পদ
বিধান চন্দ্র ঘোষ, দাকোপ (খুলনা) : নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে খুলনার দাকোপে বিভিন্ন এলাকায় যত্রতত্র অবৈধ ভাবে গড়ে উঠেছে কয়েকটি করাতকল বা ‘স’মিল। ব্যস্ততম সড়কের আশেপাশেসহ বিভিন্ন জনসমাগম এলাকায় গড়ে ওঠা এসব করাতকলে নিয়ন্ত্রহীনভাবে চলছে কাঠ চেরাই। মাঝে মধ্যে সুন্দরবন থেকে পাচার হয়ে আসা বিভিন্ন প্রকারের নিষিদ্ধ গাছও চেরাই হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে যেমন উজাড় হচ্ছে বনাঞ্চল অপরদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমান রাজস্ব। আবার পরিবেশও হচ্ছে মারাত্মক দুষিত। সুন্দরবনের নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রশাসনের নাকের ডগায় লাইসেন্স বিহীন করাতকলে চোরাই গাছ চেরাই চললেও যেন দেখার কেউ নেই।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, এ উপজেলায় মোট ১৯টি করাতকল বা ‘স’মিল রয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি করাতকলের লাইসেন্স রয়েছে। আর বাকি ৬টি করাতকল লাইসেন্স নেই। কিন্তু অধিকাংশ করাতকল বিভিন্ন বাজার সংলগ্ন এবং জনসাধারনের চলাচলের ব্যস্ততম সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে। করাতকল লাইসেন্স বিধিমালা ২০১২ এর ৭ ধারা অনুযায়ী সংরক্ষিত, রক্ষিত, অর্পিত ও অন্য যে কোন সরকারি বনভূমি ও আন্তর্জাতিক স্থল সীমানার ১০ কিলোমিটারের মধ্যে এবং কোন সরকারি অফিস, আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বিনোদন পার্ক উদ্যানে করাতকল স্থাপন ও পরিচালনা করা যাবে না। কিন্তু ওই নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের ছত্র ছায়ায় অবৈধভাবে এসব করাতকল গড়ে উঠেছে। এসব ‘স’মিলের কয়েকটিতে মাঝে মধ্যে সুন্দরবন থেকে পাচার হয়ে আসা কর্তন নিষিদ্ধ সুন্দরীসহ নানা প্রকারের কাঠ চেরাই হচ্ছে বলে জানা গেছে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে সুন্দরবনের বনজ সম্পদ। পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি ও ফলজ ভূমিসহ জনবসতিও। এসব অবৈধ করাতকলের মালিকরা বনবিভাগসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তাদের সাথে জ্বালানি কাঠ ও অনুষ্ঠানে চাঁদা দিয়ে সখ্যতা রেখে অনিয়মকে নিয়মে পরিনত করে দীর্ঘদিন যাবৎ রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। অনেক দিন পরপর প্রশাসন এসব করাতকলের দুই একটিতে লোক দেখানো নাম মাত্র অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করলেও কখনো সম্পূর্ণ বন্ধ হতে দেখা যায়নি।
চালনা বাজার এলাকার গোবিন্দ সাহাসহ আরো একাধিক ব্যক্তি জানান, ব্যস্ততম সড়কের পাশে করাতকল থাকায় স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসতে মারাত্মক সমস্যা হয়। যখন করাতকল চলে তখন শব্দ দূষণসহ কাঠেরগুড়া বাতাসে ছড়িয়ে নিঃশ্বাসের সঙে নাকের ভেতর দিয়ে মানব শরীরে প্রবেশ করে। এতে মানুষের শরীরের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ ছাড়া যানবাহনের চালক ও পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তা ছাড়া জনবসতিপূর্ণ এলাকায় করাতকল থাকায় পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
এবিষয়ে উপজেলা বন কর্মকর্তা শহিদুর রহমান বলেন, এ উপজেলায় মোট ১৯টি করাতকল রয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি করাতকলের লাইসেন্স আছে। তা ছাড়া লাইসেন্স না নিয়ে অবৈধভাবে করাতকল পরিচালনার জন্য ২টি করাতকলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এ ছাড়া কোন করাতকলে সুন্দরবনের নিষিদ্ধ গাছ চেরাই হলে এবং তার সঠিক তথ্য প্রমান পেলে সেই করাতকলের মালিকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

