
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : দিন যতই যাচ্ছে ততই কমে যাচ্ছে সামুদ্রিক ও সুন্দরবনের নদীর হাঙ্গর মাছ। এই হাঙ্গর মাছ অনেক দাম সে কারণে জেলের জালে পড়লে হাঙ্গর মাছ নদীতে ছেড়ে দেয় না একশ্রেণীর অসাধু ব্যক্তিরা আছে এই হাঙ্গর মাছ কিনে নিয়ে বিদেশে পাচার করে ।হাঙ্গর আহরণ (Shark fishery) মৎস্য আহরণের অংশ হিসেবে সমুদ্র থেকে Chondrichthyes শ্রেণীর বিভিন্ন বর্গের কোমলাস্থিময় মৎস্য অনেক সময় ধরা পড়ে। বাংলাদেশে অবশ্য সামুদ্রিক মৎস্য শিকারে হাঙ্গর টার্গেট প্রজাতি নয়। সাধারণত অন্যান্য মাছ ধরার সময় এরা জালে আটকা পড়ে। এখানকার উপজাতিরা হাঙ্গরের মাংস ও পাখনা খায়।
হাঙ্গর
সম্প্রতি রপ্তানির জন্য হাঙ্গরের চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। জেলেরা সংগ্রহ করে হাঙ্গরের শক্তিশালী চোয়াল যা অলঙ্কার হিসেবে বিক্রি হয়। গিল-নেট, ট্রামেল-নেট, সেটব্যাগ নেট, টানা বড়শি এবং টানা জালে হাঙ্গর ধরা পড়ে। আটকে পড়া হাঙ্গরের মোট হিসাব জানা কঠিন, কারণ জেলেরা হাঙ্গরের পাখনা রেখে দেহ সমুদ্রে ফেলে দেয়। হাঙ্গরের পাখনার শুঁটকি রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। এদেশের সমুদ্রে ১৬ প্রজাতির হাঙ্গর রয়েছে। ‘কামট’ নামে পরিচিত এক ধরনের হাঙ্গর দক্ষিণ বাংলার নদীমোহনায় প্রবেশ করে। স্বাদুপানিতে কোন হাঙ্গর বাস করে না।
মৎস্য শিক্ষা ও গবেষণা (Fisheries education and research) দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কৃষি সম্প্রসারণ, পলি জমা হয়ে জলাভূমি হ্রাস ও অন্যান্য কারণে মৎস্যসম্পদে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় এ অবস্থার উন্নয়নে মৎস্য শিক্ষা ও গবেষণার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি হয়ে পড়ে। তাই বাংলাদেশের মৎস্য চাষের বিপুল সম্ভাবনাকে সত্যিকার অর্থে কাজে লাগাতে এবং মৎস্যচাষ শিক্ষার চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ১৯৬৭ সালে ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি অনুষদের অন্যতম মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চারটি বিভাগ, একটি মৎস্যখামার ও একটি মাঠ গবেষণাগার নিয়ে গঠিত এ অনুষদ মৎস্য চাষের বিভিন্ন দিকের ওপর প্রশিক্ষণ, শিক্ষণ ও গবেষণার ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের অন্যতম বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান। গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রসারের মাধ্যমে দেশের মৎস্যখাত উন্নয়ন এবং মাৎস্যবিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন উচ্চমানের দক্ষ জনশক্তি তৈরি এই অনুষদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য। অনুষদ বি.এসসি মাৎস্যবিজ্ঞান (সম্মান) ডিগ্রি প্রদান করে। অনুষদের পঠিতব্য বিষয় হচ্ছে: Fisheries Biology and Genetics, Aquaculture, Fisheries Management, Limnology এবং Fisheries Technology। এসবের রয়েছে তত্ত্বীয় ও ফলিত উভয় ক্ষেত্রেই বিস্তারিত পাঠ্যক্রম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে মৎস্যবিদ্যার ওপর যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়। সম্প্রতি (১৯৯৮) ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে Aquaculture and Fisheries নামে পৃথক বিভাগ খোলা হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে Institute of Marine Sciences, যেখানে সামুদ্রিক মাৎস্যসম্পদের ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে Fisheries and Marine Resources Technology Discipline নামে একটি পৃথক বিভাগ।
গবেষণা মৎস্যচাষের বিভিন্ন বিষয়ে মৌলিক গবেষণা প্রধানত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগগুলিতেই পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ নিজস্ব চারটি বিভাগের মাধ্যমে বিবিধ গবেষণা পরিচালনা করে। মৎস্য জীববিদ্যা ও বংশগতিবিদ্যা বিভাগ, মৎস্যকুল প্রজনন জীববিদ্যা, পোনা সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা, মৎস্য প্রজনন এবং ক্রোমোজোম ও জিন ম্যানিপুলেশনের ওপর অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে। মৎস্যচাষ ব্যবস্থাপনায় অর্থনীতি ও বিপণন, জীবপরিসংখ্যান এবং মৎস্যস্বাস্থ্য বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা করা হয়। সবগুলি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে মৎস্যবিদ্যায় এম.এসসি, এম.ফিল, পিএইচ.ডি পর্যায়ের গবেষণা কর্মসূচি।
মৎস্যচাষ সম্পর্কিত ফলিত গবেষণা চলে কয়েকটি গবেষণা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানে। সেগুলির মধ্যে অগ্রগণ্য হলো মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রতিষ্ঠিত এই ইনস্টিটিউটের রয়েছে কয়েকটি স্টেশন ও ইউনিট: কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে স্বাদুপানি স্টেশন; চাঁদপুরে নদী স্টেশন (Riverine station); কক্সবাজারে সামুদ্রিক মৎস্য প্রযুক্তি স্টেশন; খুলনায় স্বল্পলোনা পানির স্টেশন; এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে দুটি পৃথক সামুদ্রিক মৎস্য জরিপ ও ব্যবস্থাপনা ইউনিট।
বিভিন্ন স্টেশনে গৃহীত গবেষণা প্রকল্পের প্রাপ্ত ফলাফলের মাধ্যমে দেশের মৎস্যজীবী ও মৎস্যচাষীদের সহায়তা প্রদানই মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের লক্ষ্য। দেশের সকল নীতিনির্ধারক সংস্থা, সম্প্রসারণ বিভাগ, এনজিও এবং প্রসেসিং ও রপ্তানি শিল্পকে গবেষণালব্ধ ফলাফল সরবরাহের জন্য ইনস্টিটিউট একটি সহজ পদ্ধতি উদ্ভাবনের চেষ্টা করছে। বঙ্গোপসাগর উপ-উষ্ণমন্ডলীয় অঞ্চলে অবস্থিত এবং এই উপসাগরে সমুদ্রস্রোত প্রবেশ না করার ফলে এতে পানির ভরণ-নিষ্কাশনের (upwelling) মাধ্যমে পুষ্টি পুনরাবর্তন (nutrient recycling) তেমন সম্পাদিত হয় না। অবশ্য গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার সম্মিলিত স্রোতবাহিত বিশাল পরিমাণ স্বাদুপানি বঙ্গোপসাগরে এসে মেশে। এই নদীগুলি ভূ-পৃষ্ঠ বিধৌত জৈব ও অজৈব পুষ্টি উপাদান বয়ে আনে এবং স্বাদুপানি ও লোনাপানি মিশিয়ে পৃথিবীর অন্যতম বিপুল একটি স্বল্পলোনাপানির মাছের আবাসস্থল সৃষ্টি করেছে। উপরন্তু, বঙ্গোপসাগরে বিপুল পরিমাণ স্বাদুপানি মেশার ফলে মাছের জন্য এমন এক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে যেখানে ডিম পাড়ার জন্য সমুদ্রের গভীর পানির মাছ এখানকার অগভীর পানিতে ছুটে আসে। ইলিশ সামুদ্রিক মাছ, জীবনের বেশির ভাগ বঙ্গোপসাগরেই কাটায়, কিন্তু ডিম ছাড়ার জন্য নদীতে আসে এবং অল্পবয়সী ইলিশ আবার সমুদ্রে ফিরে যায়।
সামুদ্রিক চিংড়ি আহরণ বর্তমানে বাংলাদেশের উপকূলীয় প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার হেক্টর এলাকায় চিংড়ির চাষ হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরের ১০-১০০০ মিটার গভীর অর্থনৈতিক জলসীমা এলাকার (৭৬,৮০০ বর্গ কিলোমিটার) চারটি মৎস্য অঞ্চল- দক্ষিণ অঞ্চল, মধ্য অঞ্চল, Swatch of No Ground ও দক্ষিণ অঞ্চলের দক্ষিণ এলাকার মৎস্যসম্পদ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। বাংলাদেশের সমুদ্রাঞ্চলে ১৯ প্রজাতির সামুদ্রিক চিংড়ি রয়েছে, তন্মধ্যে কোলা বা বাঘা চিংড়ি (Penaeus merguiensis), বাগদা চিংড়ি (P. monodon), চাপড়া বা চাপদা চিংড়ি (P. indicus), বাঘতারা চিংড়ি (P. semisulcatus), হরিণা চিংড়ি (Metapenaeus monoceros) এবং হন্নি চিংড়ি (M. brevicornis) বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সামুদ্রিক চিংড়ি
গলদা চিংড়ি স্বাদুপানির চিংড়ি হলেও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় ডিম ছাড়ে এবং পোনাগুলি সেখানেই বড় হয়। উষ্ণমন্ডলীয় উষ্ণ জলবায়ু, ১২-৩৯ ppt লবণাক্ততা ও ৪.০-৪.৮ ppm অক্সিজেনসহ খাদ্যসমৃদ্ধ পানি চিংড়ির দ্রুতবৃদ্ধির উপযোগী। সাধারণ নৌকা (প্রায় ২০,০০০) ও মোটরচালিত নৌকা (প্রায় ১২,৭০০) থলেজাল, ট্রামেল জাল, বেলাভূমির বেড়জাল, ফাঁসজাল, দীর্ঘ লাইন বড়শি ইত্যাদি দিয়ে বাংলাদেশের মহীসোপানে (৬৬,৪৪০ বর্গ কিমি) মাছ ধরে। জাল দিয়ে ১০-৫০ মিটার গভীরে চিংড়িসহ অন্যান্য মাছ ধরা হয়। উপকূল থেকে দূরে ১০-১০০ মিটার গভীর পানিতে পূর্বে উল্লিখিত চারটি এলাকা থেকে অন্তত ৫০টি চিংড়ি ট্রলারের একটি বহর চিংড়ি সংগ্রহ করে। চারটি অঞ্চলের দক্ষিণ খন্ডের দক্ষিণ ভাগ (সেন্ট মার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্বে) বাগদা চিংড়ির জন্য খুবই গুরুত্বপুর্ণ। দেশে বাগদা চিংড়ির পোনা উৎপাদনের ছয়টি হ্যাচারি রয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার ও খুলনার উপকূলে সূক্ষ্ম বুনটের কুনিজাল, থলেজাল ও টানাজাল দিয়ে বাগদা চিংড়ির প্রচুর লার্ভা ধরা হয়। এই পোনা সংগ্রহে অবশ্য অন্যান্য চিংড়ি ও মাছের অজস্র পোনা ধ্বংস হয়। সামুদ্রিক চিংড়ি আহরণ করে হাজার হাজার লোক জীবিকা নির্বাহ করে। [মো. আব্দুল কাদের]
উপকূল দূরবর্তী মৎস্য আহরণ (Offshore trawler fishery) সমুদ্রতট থেকে দূরে যান্ত্রিক জলযান (trawler) ব্যবহার করে টানা জালের (trawl net) সাহায্যে মাছ শিকার বা অন্যান্য সম্পদ আহরণ করা হয়। বাংলাদেশে বঙ্গোপসাগরের গভীর পানিতে, বিশেষ করে উপকূলের চারটি মৎস্য বিচরণ ক্ষেত্রে মাছ শিকারে ট্রলারের ব্যবহার বেশ ব্যাপক। ১৯৭৮-৭৯ সালে ট্রলারের সাহায্যে (২১-৪১ মিটার দীর্ঘ) মাছ ধরার কাজ শুরু হয়। সূচনালগ্নে ট্রলারের সংখ্যা ছিল মাত্র চারটি, কিন্তু ১৯৮১ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৩০টিতে।
বর্তমানে, সমুদ্র উপকূলবর্তী জলসীমায় মাছ ধরার জন্য অন্তত ৭০টি ট্রলার ব্যবহার করা হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরে টানা জাল দিয়ে ধরা ৫০টি প্রজাতির মাছ ও ১৫টি প্রজাতির চিংড়ি চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রধান প্রজাতিগুলির মধ্যে রয়েছে চিংড়ির দুটি প্রজাতি, বাদামি ও বাগদা চিংড়ি এবং ফিন ফিশের মধ্যে রূপালি ও কালো রূপচাঁদা, গ্র্যান্টস, ভারতীয় স্যামন, স্ন্যাপার, গোটফিশ, ক্রোকার, ম্যাকেরেল, লিজার্ড ফিশ ও ছুরি মাছ। বঙ্গোপসাগরে চিংড়ি ও ফিন ফিশ ধরার জন্য পৃথক ধরনের টানা জাল ব্যবহূত হয়। চিংড়ির জন্য ব্যবহূত জালে বাদামি চিংড়ি, বাগদা চিংড়ি, ভারতীয় সাদা চিংড়ি ও কলা চিংড়ি এবং ফিন ফিশের জন্য ব্যবহূত জালে ক্রোকার, ব্লচ ক্রোকার, লইট্টা, লিজার্ড ফিশ, গোটফিশ ও ইলিশ ধরা পড়ে। ফিন ফিশের জালে ধৃত মাছগুলির মধ্যে রয়েছে ২০টি বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি। সেগুলির মধ্যে ভারতীয় স্যামন, গ্রাউপার, গ্র্যান্ট, রূপচাঁদা, ছুরিমাছ ইত্যাদি অধিক পরিমাণে আহরণ করা হয়। ফিন ফিশের জালে ৩০-৮০ মিটার গভীর সমুদ্রে কিছু চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ ধরা পড়ে। ত্রিশ মিটারের কম গভীর পানি থেকে ছোট আকারের দুটি প্রজাতির চিংড়ি (Metapenaeus species ও Parapenaeopis species) অপেক্ষাকৃত বেশি পরিমাণে সংগৃহীত হয়। ১৯৯০ সালে চিংড়ি আহরণের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০০০ মে টন। ১৯৮৬-৮৭ সালে ফিন ফিশ ধরা পড়েছিল প্রায় ৭,৪০০ মে টন। অবশ্য, ধৃত শতকরা ৫০-৬৫ ভাগ ফিন ফিশকে ‘বর্জ্যমাছ’ হিসেবে গণ্য করে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়। বিজ্ঞানীদের এক হিসাব অনুযায়ী বঙ্গোপসাগরে বর্তমানে মজুদ মৎস্যসম্পদের পরিমাণ নিচের সারণিতে উল্লেখ করা হলো:
১৯৮১ সালে ধানমন্ডি হ্রদে ০.২৫ হেক্টর এলাকায় ১০০ ২৫ মিটার আয়তনের ঘেরে হেক্টর প্রতি ৩৮,৬০০টি ৪.০-৫.৬ গ্রাম আকারের মাছের ঘনত্বে পাঁচ প্রজাতির কার্প, যথা সিলভার কার্প, গ্রাস কার্প, কাতলা, রুই ও মৃগেল ছাড়া হয়। সম্পূরক খাদ্য সরবরাহ করে ৬ মাসের মধ্যে মাছের গড় ওজন দাঁড়ায় ১৮৬ গ্রাম এবং সর্বমোট ১৫,১৯৫ কিলোগ্রাম মাছ আহরিত হয়। দেখা গেছে যে, পলিইথাইলিনের গিঁটহীন জাল, বাঁশের বেড়া, বাঁশের খুঁটি, নাইলন রশি ইত্যাদি সামগ্রী ঘের নির্মাণের জন্য উপযোগী। প্রতি একরে ২০,০০০ মাছের ঘনত্বে রুই-কাতলাজাতীয় মাছ এবং চীনা কার্পের পোনা একত্রে চাষ উপযোগী ও লাভজনক বলে প্রমাণিত হয়েছে। ঘেরে কার্পের সঙ্গে Macrobrachium rosenbergii, Oreochromis species, Pangasius sutchi ও Pangasius pangasius মাছের সম্মিলিত চাষও যথার্থ দেখা গেছে। এক্ষেত্রে ৩ মাস বয়সের ১০ সেন্টিমিটার আকারের পোনা ব্যবহার উত্তম। অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সেচ সুবিধা সম্পন্ন ০.৫০ হেক্টরের একটি ঘেরে একবার মাছ চাষে মোট ৭০,০০০ টাকা (প্রায় ১৩০০ মার্কিন ডলার) মুনাফা লাভ করা সম্ভব হয়।
আর্টেমিয়ার চাষ (Artemia culture) চিংড়ির খাদ্য হিসেবে ব্যবহার্য আর্টেমিয়ার (Artemia) সিস্ট গবেষণাগারের পরিবেশে উৎপাদন প্রক্রিয়া। আর্টেমিয়া হচ্ছে প্রায় ১২মিমি দীর্ঘ প্লাঙ্কটনিক ক্রাসটেসিয়ান (planktonic crustacean), যা অতি লবণাক্ত পানির জীব। পৃথিবীব্যাপী শেলফিশ ও ফিনফিশের হ্যাচারিতে এর সিস্ট আহার্য হিসেবে ব্যবহূত হয়, কেননা এতে পালন পুকুরের পানি দূষিত হয় না। আর্টেমিয়ার সিস্ট কয়েক বছর অবাত অবস্থায় মজুদ রাখা যায় এবং প্রয়োজনের সময় সমুদ্রের পানিতে ছেড়ে দিলে অতি সহজে নপ্লিয়াস-এ পরিণত হয়। কয়েকটি দেশ বাণিজ্যিকভাবে এই সিস্ট উৎপাদন করে এবং আবদ্ধ পাত্রে বিপণন করে।
সারা পৃথিবীতে নানা ধরনের অতি লবণাক্ত আবাসস্থলে যেমন উপকূলীয় নুন-কুয়া ও অভ্যন্তরীণ লবণহ্রদে আর্টেমিয়া দেখা যায়। কিন্তু আর্টেমিয়া সর্বত্র পাওয়া যায় না, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রাকৃতিকভাবে আর্টেমিয়া জন্মায় না। এজন্য প্রয়োজন পানির পর্যাপ্ত লবণাক্ততা (অধিকাংশ ক্ষেত্রে ১০০ পিপিটি-র বেশি), যা বিভিন্ন শিকারি জীবকে দূরে রাখে এবং পানির অনুকূল তাপমাত্রা (আর্টেমিয়ার প্রজনন ও বিকাশের জন্য), যা বাংলাদেশে নেই। প্রকৃতপক্ষে আর্টেমিয়ার সিস্ট বিস্তারের জন্য বাতাস, জলচর পাখি ও মানুষের মতো সক্রিয় বাহক দরকার। অনুকূল পরিবেশে অত্যন্ত ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়ে আবাসস্থল এদের অজস্র কলোনিতে ভরে ওঠে। ডিম্ব-জরায়ুজ (ovoviviparously) পদ্ধতিতে প্রজননের মাধ্যমে প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী-আর্টেমিয়া ৪ দিন পর পর ২০০-৩০০ অবাধ সন্তরণশীল নপ্লিয়াস উৎপন্ন করে। দুই সপ্তাহেরও কম সময়ে নপ্লিয়াস প্রাপ্তবয়স্ক আর্টেমিয়ায় পরিণত হয়।
বাংলাদেশে প্রাকৃতিকভাবে যেহেতু আর্টেমিয়া জন্মায় না, সেহেতু বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য কৃত্রিম চাষই একমাত্র বিকল্প। বাংলাদেশের ৫-৬ মাস (নভেম্বর-এপ্রিল) শুষ্ক মৌসুম। এছাড়া এদেশে রয়েছে ১৭,০০০ হেক্টরের অস্থায়ী নুন-কুয়া (saltpan), যার একাংশে লবণ ও আর্টেমিয়া সমন্বিতভাবে উৎপাদন করা সম্ভব। মাটির পাত্রের অত্যধিক লোনাপানিতেও এরা বাঁচতে পারে; উদ্ভিদ-প্লাঙ্কটন, জৈব বর্জ্য এবং চালের কুড়ার মতো কম দামি খাবার খেয়ে থাকে। যথাযথ জীবতাত্ত্বিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশে লবণ উৎপাদনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে পুকুরে আর্টেমিয়া সন্তোষজনকভাবে চাষ করা সম্ভব।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ১৯৭৬ সাল থেকে আর্টেমিয়া চাষের ওপর গবেষণা চলছে এবং ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশের উপকূলীয় একটি নুন-কুয়ায় প্রথমবারের মতো আর্টেমিয়ার সিস্ট উৎপাদন সফল হয়েছে। পরবর্তীকালে বাংলাদেশে বিভিন্ন ভৌগোলিক স্ট্রেইন নিয়ে পরীক্ষাতেও উৎসাহজনক ফল পাওয়া গেছে।
স্বল্পলোনাপানিতে মৎস্যচাষ (Brackish-water aquaculture) স্বল্পলোনাপানিতে মৎস্যচাষ (ঝিনুক ও কাঁকড়াজাতীয় প্রাণিসহ)। খামারগুলির কর্মকান্ড বাড়ছে এবং বাংলাদেশের সার্বিক মৎস্য উন্নয়ন প্রয়াসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব খামারে সামুদ্রিক ও মোহনার চিংড়ি, মাছ ও কাঁকড়া উৎপন্ন হয়। বাগদা চিংড়িই প্রধান লক্ষ্য, আনুষঙ্গিক হিসেবে রয়েছে কতিপয় প্রজাতির মাছ, নানা জাতের চিংড়ি ও কাঁকড়া। উপকূলীয় জেলাগুলির মধ্যে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট ও কক্সবাজারে স্বল্পলোনাপানিতে মৎস্যচাষ হয়। অবশ্য উপকূলীয় বিস্তৃত অঞ্চল স্বল্পলোনাপানির মৎস্যচাষের আওতাধীন, যা প্রধানত চিংড়িচাষভিত্তিক। সত্তরের দশকে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কর্মকান্ড হিসেবে স্বল্পলোনাপানিতে মৎস্যচাষ শুরু হলেও চাষপদ্ধতি ছিল একেবারে সেকেলে। আশির দশকের গোড়া থেকে বাংলাদেশ সরকার সনাতন মাছচাষ পদ্ধতির উন্নতির চেষ্টা চালিয়ে আসছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের ভিতরের নিচু জমির জোয়ার-ভাটা এলাকায় প্রধানত স্বল্পলোনাপানির মৎস্যচাষ চলে। মূলত লোনাপানির কবল থেকে কৃষিজমি রক্ষার জন্য এসব বাঁধ নির্মিত হয়েছিল। অনেক জায়গায় কৃষকেরা নিজেরাই কৃষি ও মৎস্যচাষ উভয় উদ্দেশ্যে নদীর পাড় বরাবর মাটির বাঁধ নির্মাণ করেছে। মৎস্যচাষের আওতাধীন মোট ২,৯২,৩৭৮ হেক্টর জমির প্রায় ৪৮% স্বল্পলোনাপানির জমি।
১৯৯৩-৯৪ সালে মৎস্য উৎপাদনের মোট পরিমাণ ছিল ১০ লক্ষ মে টনের কিছু বেশি। যার ২৪% ছিল কৃত্রিম মৎস্যচাষ থেকে। স্বল্পলোনাপানির খামারগুলি একত্রে চিংড়ি ও মাছ উৎপাদন করে প্রায় ৩৯,৪৭৭ মে টন, যার মধ্যে চিংড়ি প্রায় ২৫,০০০ মে টন (হেক্টরপ্রতি ২০৪ কেজি)। মোট মৎস্য উৎপাদনে স্বল্পলোনাপানির মৎস্যচাষের অবদান ছিল ওজনে প্রায় ১৫% এবং মূল্যে ৩৮.৫%। স্বল্পলোনাপানির চিংড়ি হিসেবে চাষকৃত মোট চিংড়ির পরিমাণ ছিল ওজনে প্রায় ৮০% এবং মূল্যে প্রায় ৮৪%। উৎপন্ন সর্বমোট চিংড়ির (১,০০,৫৩৮ মে টন) মধ্যে স্বল্পলোনাপানির চিংড়ি ছিল ওজনে প্রায় ২৫% এবং মূল্যে প্রায় ৫০%। তৈরি পোশাক ও পাটের পরই চিংড়ি বাংলাদেশের তৃতীয় বেশি বিদেশী মুদ্রা অর্জনকারী পণ্য। ধারণা করা হয় জোয়ার-ভাটাবিধৌত ২,২০০,০০০ হেক্টর জমি স্বল্প-লোনাপানির চিংড়িচাষের উপযোগী।
বাংলাদেশে স্বল্পলোনাপানিতে নিবিড় চিংড়িচাষ না হলেও দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে সনাতন পদ্ধতিতে ব্যাপক চিংড়িচাষ চলছে। চাষীরা উপকূলীয় নিচু জমিতে বাঁধ দিয়ে মাছ ও চিংড়ি সনাতন পদ্ধতিতে চাষ করে। কোথাও কোথাও ধানচাষ ও লবণ উৎপাদনের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে, আবার কোথাও এককভাবে চিংড়িচাষ হয়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলিতে লবণাক্ততার পরিমাণ দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম। ফলে দুই অঞ্চলের চিংড়িখামারের চিংড়ি ও চিংড়ির আহরণপদ্ধতি ভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে চিংড়ি/মাছের এককচাষ বা চিংড়ি/মাছ ও লবণের যৌথচাষ দেখা যায়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলিতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দুই ধরনের পদ্ধতিতে চাষ হয়, যেমন যৌথ চিংড়ি/মাছ ও ধান চাষ এবং চিংড়ি/মাছের এককচাষ। দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে বাগদা চিংড়ি এবং দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে প্রধানত গলদা ও বাগদা উভয় চিংড়িরই চাষ হয়ে থাকে। [ইউসুফ শরীফ আহমদ খান]
অয়েস্টার চাষ (Oyster fishery) অগভীর উষ্ণ-পানির তলদেশে অয়েস্টার ও খাবারযোগ্য ঝিনুকের চাষ। অয়েস্টার ছাড়া এই চাষের অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য ঝিনুকজাতীয় প্রাণী হলো মাসেল (Mussel), ক্ল্যাম (Clam) ও স্ক্যালোপ (Scallop)।
অয়েস্টার চাষ
ছাঁকন পদ্ধতিতে খাদ্য সংগ্রহকারী (filter feeder) এসব প্রাণীর জীবনচক্র প্রায় একই ধরনের এবং জীবনচক্রের প্রথম দিকের পর্যায়সমূহ প্লাঙ্কটনিক।ডিমের নিষেক হয় দেহের বাইরে এবং প্লাঙ্কটনিক লার্ভা আটকে থাকার জন্য মাধ্যম প্রয়োজন হয়। চাষের জন্য ব্যবহূত খুঁটিগুলি উপকূলের অগভীর পানির স্বল্পঢালু তলদেশে স্থাপন করা হয়। প্রাকৃতিক প্রজননভূমি থেকে অয়েস্টারের ডিম সংগ্রহ করে চাষের জায়গায় স্থানান্তরিত করলে সেগুলি সেখানকার আশ্রয় অাঁকড়ে থাকে এবং ৭-৮ মাস পর অয়েস্টার ৪-৭ সেমি হলে বাজারজাত করা যায়।
বাংলাদেশে
বাংলাদেশে Ostrea ও Crassostrea-এর কতিপয় প্রজাতি রয়েছে এবং এগুলির চাষের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সকল উপাদানই এখানে বিদ্যমান। উঁচু জোয়ারের ব্যাপ্তি, জোয়ার-ভাটার পর্যাপ্ত জলস্রোত, দোঅাঁশ কাদামাটির নিচু সমতল, ম্যানগ্রোভ বনের উপকূল ভাগ, দূষণমুক্ত অঞ্চল, লবণাক্ততার সহনক্ষম মাত্রা ও বিদ্যমান পর্যাপ্ত প্ল্যাঙ্কটনসহ বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার অগভীর পানিতে গোঁজ, খুঁটি, তাক ফেলে বা অপেক্ষাকৃত গভীর পানিতে ভাসন্ত ভেলা ও লম্বা রশি ব্যবহার করে স্বল্পপুঁজি খাটিয়ে অয়েস্টার চাষ সম্ভব। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ না হলেও বাংলাদেশের কোন কোন এলাকার স্বাদুপানির ঝিনুকজাত মুক্তা নিয়মিতভাবে আহরণ করা হয়ে থাকে।
স্বল্পলোনাপানির আহরণ স্বল্পলোনাপানির মৎস্যসম্পদকে মোহনার মৎস্যসম্পদও বলা হয়। পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপে অবস্থিত বিধায় বাংলাদেশের স্বল্পলোনাপানির অঞ্চলও বেশ ব্যাপক। স্বল্পলোনাপানির মৎস্যসম্পদ দু’ধরনের; উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য ও বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মৎস্যসম্পদ। মাছ আমাদের মোট জাতীয় উৎপাদনের একটি ক্ষুদ্র অংশ হলেও কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, খাদ্য সরবরাহ ও উপকূলীয় গ্রামীণ এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থা সুস্থিত রাখার নিরিখে জাতীয় উন্নয়নে এর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। স্বল্পলোনাপানির অঞ্চল থেকে সংগৃহীত মৎস্যসম্পদের একটা বড় অংশ হিমায়িত করে রপ্তানি হয়।
বাংলাদেশে উন্মুক্ত স্বল্পলোনাপানি থেকে আহরিত মাছকে সাধারণত সামুদ্রিক মাছের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। স্বল্পলোনাপানিতেই বাগদা চিংড়ির চাষ হয়। এটি বাংলাদেশের হিমায়িত খাদ্য হিসেবে প্রধান রপ্তানি পণ্য। এদেশে স্বল্পলোনাপানির মাছ সমুদ্র থেকে আহরিত মাছের একাংশ হলেও বহু সামুদ্রিক ও স্বাদুপানির মৎস্য প্রজাতির প্রজনন ও লালনভূমি হিসেবে এ অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত গলদা নামে পরিচিত স্বাদুপানির গলদা চিংড়ি প্রজননের জন্য স্বাদুপানির আবাস থেকে স্বল্পলোনাপানিতে নেমে আসে এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক চিংড়ি সেখানে লার্ভা পর্যায়ে পৌঁছায়। এ আবাসে জীবনের প্রাথমিক পর্যায়গুলি অতিক্রম করে গলদা চিংড়ি স্বাদুপানিতে ফিরে আসে। একইভাবে অনেক সামুদ্রিক প্রজাতি স্বল্পলোনাপানির অঞ্চলে জীবনের একটি অংশ কাটায় এবং বাড়ন্ত বয়সে উন্মুক্ত সমুদ্রে ফেরে।
উপকূলীয় নদীসমূহ ও প্রাকৃতিক নিম্নভূমি এবং ম্যানগ্রোভ অঞ্চলের প্রায় ২৫,০০০ বর্গ কিমি এলাকা স্বল্পলোনাপানির আওতাভুক্ত। বর্তমানে ম্যানগ্রোভ বনে রয়েছে প্রায় ৭,০০,০০০ হেক্টর জমি এবং বাকিটা সাধারণত বাঁধ, বেড়িবাঁধ দিয়ে ঘিরে কৃষি জমিতে পরিণত করা হয়েছে। উন্মুক্ত স্বল্পলোনাপানি এলাকা থেকে মৎস্যসম্পদ আহরণ করে মৎস্যজীবী সম্প্রদায়, কিন্তু উপকূলীয় স্বল্পলোনাপানির এলাকা ব্যক্তিমালিকানাধীন। স্বল্পলোনাপানির মোহনা, নদীমুখ ও খালগুলি মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের কর্তৃত্বাধীন। হিসাব মতে, বাংলাদেশে উৎপন্ন মোট মাছের ১৯% সমুদ্র থেকে আসে। স্বল্পলোনাপানি থেকে আসে মোট সামুদ্রিক মৎস্য উৎপাদনের ১০-১৫%। উপরন্তু, স্বল্পলোনাপানির অঞ্চল থেকে বছরে মোটামুটি ৩০০-৩৫০ কোটি লার্ভা পর্যায়ের বাগদা চিংড়ির (Peneus monodon) সরবরাহ আসে। এক হিসেব অনুযায়ী ১,৫০,০০০ হেক্টর উপকূলীয় এলাকা থেকে বছরে লক্ষ্যমাত্রার বাইরে প্রায় ৭০,০০০ মে টন বিভিন্ন ধরনের মাছ, কাঁকড়া ও ছোট চিংড়ি উৎপন্ন হয়।
স্বল্পলোনাপানির মৎস্যসম্পদ দুই শ্রেণীতে বিভক্ত স্থানীয় ও পরিযায়ী। স্থানীয় প্রজাতির মধ্যে রয়েছে খল্লা, Threadfins, Saienidaes, Perches, ফিতামাছ, Clupeids, Catfish, Bombay Duck, Camila ইত্যাদি। এছাড়া Penaeidae গোত্রভুক্ত অনেক চিংড়িও স্থানীয়। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানো ও বিদেশে রপ্তানির জন্য ফিনফিশ ও শেলফিশ উৎপাদন এবং বাস্ত্তসংস্থানিক ভারসাম্য রক্ষার নিরিখে বাংলাদেশের স্বল্পলোনাপানিতে মৎস্যচাষ একটি গোটা পদ্ধতি ।

