By using this site, you agree to the Privacy Policy and Terms of Use.
Accept
খবর সার্চ

প্রকাশনার ৫৫ বছর

দৈনিক জন্মভূমি

NEWSPORTAL

  • মূলপাতা
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধূলা
  • বিনোদন
  • জেলার খবর
    • খুলনা
    • চুয়াডাঙ্গা
    • বাগেরহাট
    • মাগুরা
    • যশোর
    • সাতক্ষীরা
  • ফিচার
  • আজকের ই-পেপার
  • সকল ই-পেপার
Reading: দুর্যোগে বিপদমুক্ত থাকুক উপকূল
Share
দৈনিক জন্মভূমিদৈনিক জন্মভূমি
Aa
  • মূলপাতা
  • জাতীয়
  • খুলনা
  • জেলার খবর
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলাধূলা
  • সম্পাদকীয়
  • ALL E-Paper
অনুসন্ধান করুন
  • জাতীয়
  • জেলার খবর
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলাধূলা
  • বিনোদন
  • ই-পেপার
Have an existing account? Sign In
Follow US
প্রধান সম্পাদক মনিরুল হুদা, প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত
দৈনিক জন্মভূমি > জেলার খবর > সাতক্ষীরা > দুর্যোগে বিপদমুক্ত থাকুক উপকূল
সাতক্ষীরা

দুর্যোগে বিপদমুক্ত থাকুক উপকূল

Last updated: 2026/01/10 at 10:27 AM
জন্মভূমি ডেস্ক 2 months ago
Share
SHARE

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : ছবিতে পাকা দালানটি দেখে যে কেউ অনুমান করতে পারবেন, এটি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র। দালানটি কতটা পুরোনো সেটাও বোঝা যাবে। সামনের খোলা আঙিনা অনেক আগেই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সামনের এবং পাশের গ্রাম, ফসলি মাঠ, রাস্তা, পুকুর, সুপারি বাগান, নারিকেল গাছ, কবরস্থান- সবই নদী গর্ভে হারিয়েছে। ছবিতেই দৃশ্যমান- শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র প্রভাবে আশ্রয়কেন্দ্রের সামনে থইথই পানি। এটি ভোলার চরফ্যাসনের ঢালচরের চিত্র। প্রথমবার আমি যখন এই দ্বীপে যাই, তখন এই আশ্রয়কেন্দ্রটির সামনে নদী দেখা যেতো না। নদীর তীরে যেতে হলে হাঁটতে হতো ১০-১৫ মিনিট। এভাবেই বিপদ বাড়ছে উপকূলের দ্বীপ-চরে। ‘ফণী’ সতর্কতায় এই আশ্রয়কেন্দ্রেও ঠাঁই নিয়েছেন কিছু মানুষ। আশ্রয়কেন্দ্র নিজেই যেখানে বিপদাপন্ন, সেখানে সে আবার মানুষের আশ্রয় কীভাবে দিবে?   দুর্যোগ আসে, দুর্যোগ যায়। রেখে যায় বিপদ। উপকূলের মানুষের বিপদ যায় না। সমগ্র উপকূলে চোখ ফেরালে এমন বিপদাপন্ন এলাকার শেষ নেই। আমাদের সব আছে, আবার কিছুই নেই। যে দ্বীপে একটিও পাকা দালান নেই, সেখানকার মানুষ সর্বোচ্চ সতর্কতায় কীভাবে প্রস্তুতি নিবে? কোথায় আশ্রয় নিবে? যে দ্বীপে নেই রাস্তাঘাট, সে দ্বীপের মানুষ কত পথ পাড়ি দিবে আশ্রয়ের খোঁজে? যে দ্বীপের এক প্রান্তে পড়ে আছে সংস্কারবিহীন আশ্রয়কেন্দ্রটি, অন্যপ্রান্ত থেকে মানুষগুলো সেখানে যাবে কীভাবে? তারপর ধরে নিলাম, দ্বীপ থেকে মানুষগুলো আশ্রয় নিতে মূল ভূ-খণ্ডে আসবে- কিন্তু কীভাবে? দুর্যোগ সহনশীল প্রয়োজনীয় যানবাহন আমাদের আছে কী? ধরা যাক, আমাদের সব কিছু আছে। আশ্রয়কেন্দ্র আছে। রাস্তাঘাট আছে। বেড়িবাঁধও হয়েছে। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর উপকূল অঞ্চলে অসংখ্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। সে কারণেই ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আগের চেয়ে কমেছে; কিন্তু ভেবে দেখেছেন, প্রস্তুতির ক্ষেত্রে এখনও কোথায় ফাঁকফোকরগুলো রয়ে গেছে? নতুন বেড়িবাঁধ, রাস্তাঘাট, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করলেই হবে? এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে না? রক্ষণাবেক্ষণের কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায় না। ফলে একবার নির্মিত অবকাঠামো ক্রমে ক্ষয়ে যেতে থাকে। এসব কারণে উপকূলের অনেক এলাকা রয়ে যায় অরক্ষিত। এ অবস্থায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেও উপকূলের এই দুর্যোগপ্রবণ স্থানগুলো নিরাপদ রাখা কতটা সম্ভব হবে? সে প্রশ্ন থেকেই যায়। ধরা যাক, ভোলার চরফ্যাসনের দ্বীপ ইউনিয়ন ঢালচর। সেখানে বেশ কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র অনেক আগেই নদীতে হারিয়েছে। এখনও অসহায়ের মত দু’একটি দাঁড়িয়ে আছে। এখানে আশ্রয়ের জন্য ছিল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দোতলা ভবন আর মাটির কিল্লা। তা গত বর্ষায় ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। ঢালচরের মানুষ সর্বোচ্চ সতর্কতায় কী ব্যবস্থা নিতে পারবেন আমার জানা নেই। ঝড়ো হাওয়া শুরু হওয়ার আগেই কী সেখানকার সব মানুষের নদী পাড়ি দিয়ে এপারে চলে আসা সম্ভব? আমরা সকলেই জানি, সেটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাহলে সেখানকার মানুষের নিরাপত্তা আমরা কীভাবে নিশ্চিত করতে পারি? সর্বোচ্চ সতর্কতা জারির পর ঢালচরের মানুষের মনে পড়ছে ’৭০-এর প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের কথা। সে প্রলয়ে ভেসে গিয়েছিল সম্ভাবনাময়ী দ্বীপ ঢালচর। ঘন জঙ্গলে পরিপূর্ণ দ্বীপটিতে তখন কেবল জনবসতি শুরু হয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষজন সেখানে ঘর বাঁধতে শুরু করে। অনেকে গরু মহিষ চড়াতে ওই চরে মৌসুমভিত্তিক অবস্থান করতেন। প্রলয়ংকরী ঝড়ের তোড়ে পানি বাড়তে থাকে। মানুষগুলো তখন অসহায় হয়ে পড়েন। একটিমাত্র দোতলা ভবনে আশ্রয় নেন কিছু মানুষ। বনজঙ্গলের কারণে দূরের মানুষ আশ্রয়ে আসতে না পেরে ভেসে যান। ঢালচরের একমাত্র পাকা ভবনে আশ্রয় নিয়ে বেঁচে যাওয়া বাসিন্দা ইউসুফ আলী পাটোয়ারী এখনও সেখানে বসবাস করছেন। বয়স ৬৬ বছর। ’৭০-এর ঘূর্ণিঝড়ে ছিলেন ১৬ বছরের কিশোর। সেদিনের ভয়াল চিত্র তুলে ধরে তিনি জানালেন, সে প্রলয়ের কথা ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। কীভাবে যে বেঁচে আছি আল্লাহ জানেন। ঘূর্ণিঝড়ের দুই বছর আগে বড় ভাইয়ের সঙ্গে এই চরে আসি। ঘূর্ণিঝড়ের আগের দিন দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবল বেগে বাতাস আসে, পানি বাড়তে থাকে। কিছু মানুষ পাকা ভবনে আশ্রয় নিতে পারলেও অনেকেই সে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। পাকা ভবনের বাইরে থাকা মানুষ সকলেই ভেসে গেছে। শুধু মানুষ নয়, শত শত মহিষ, গরু পানির প্রবল তোড়ে ভেসে গেছে। ঢালচরের বাসিন্দা ৯৫ বছর বয়সী আমিন উদ্দিন বলছিলেন, ‘আমাদের তো আল্লাহ বাঁচাই রাখছে।’ ’৭০-এর প্রলয়সহ বিভিন্ন সময়ের ঘূর্ণিঝড়ে বার্তায় আতঙ্কিত হয় ঢালচরের মানুষ। ‘ফণী’ আসার খবরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারির পর আমার কথা হয় ঢালচরের অনেকের সঙ্গে। ঢালচরের বাসিন্দা কাওসার ফরাজী বলেন, এখানে প্রায় ১৭-১৮ হাজার মানুষের বসবাস। এর মধ্যে নদী ভাঙনের কারণে কিছু মানুষ বাইরে চলে গেছে। এখনও অন্তত ১২-১৩ হাজার লোকের বসবাস এখানে। সমুদ্রের মোহনায় চারদিকে জলরাশিবেষ্টিত দ্বীপের মাঝে আমরা বাস করি। সতর্ক করা হলেও আমাদের বাঁচার উপায় কী? আল্লাহকে ডাকা ছাড়া আমাদের আর বিকল্প নেই। ঢালচরের বাসিন্দা এম. আবদুর রহমানের সঙ্গে আলাপের সময় জানান তার অসহায়ত্বের কথা। তিনি বলেন, বড় দুর্যোগ এলে কী করব? ভেবে পাচ্ছি না। ঢালচর প্রসঙ্গে কথা বলতে বলতে আমি ভাবছিলাম, ঢালচরে যখন ভাঙন শুরু হয়নি, তখন এ দ্বীপের চারদিকে বেড়িবাঁধ দেয়া হলে এই জরুরি সময়ে সেখানকার মানুষদের হয়তো কান্নাকাটি করতে হতো না।  লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতির দ্বীপ ইউনিয়ন চর আবদুল্লাহ’র ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল ’৭০-এর ঘূর্ণিঝড়ে। সেখানকার বহু মানুষ প্রাণ হারান। অনেক পরিবার একেবারেই নিঃশেষ হয়ে যায়। চর আব্দুল্লাহ’র মূল ভূ-খণ্ড এখন আর নেই। ভেসে গিয়ে নতুন চর জেগেছে, নাম হয়েছে চর গজারিয়া। এ দ্বীপের মানুষেরাও আছেন চরম আতঙ্কে। এ দ্বীপে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র তো নেই-ই, চলাচলের রাস্তাঘাটও নেই। সর্বোচ্চ সতর্কতা দিয়ে এখানকার মানুষদের কীভাবে বাঁচানো সম্ভব হবে? এই দ্বীপের বাসিন্দা মাস্টার আলাউদ্দিন বলছিলেন, আমরা বেঁচে আছি আল্লাহর উপর ভরসা করে। এখানে আশ্রয় নেওয়ার মতো পাকা ভবন নেই। একটি আশ্রয়কেন্দ্র ছিল, সেটি অনেক আগেই নদীতে হারিয়ে গেছে। জরুরি সময়ে এখানকার মানুষের নিরাপদে যাওয়ার সুযোগ নেই। গজারিয়ার মেঠো পথে কিলোমিটারে পর কিলোমিটার হাঁটার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, মাষ্টার আলাউদ্দিনের কথা সত্য। এই বিচ্ছিন্ন দ্বীপ, যেখান থেকে মূল ভূ-খণ্ডের দেখা মেলে না, সেখান থেকে জরুরি সময়ে মানুষদের নিরাপদে যাওয়া সম্ভব নয়। শুধু ঢালচর আর গজারিয়া নয়, এমন অনেক এলাকার নাম লেখা যায়, যেসব স্থানে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা খুবই অপ্রতুল। প্রশ্নটা আসতেই পার- সর্বোচ্চ সতর্কতায় কী করবে সেইসব এলাকার মানুষ?
সরেজমিনে পাওয়া মাঠের তথ্যসূত্র বলছে, প্রান্তিক উপকূলের বহু মানুষ এখনও প্রাকৃতিক দুর্যোগের আতঙ্কে দিন কাটান। জোয়ারের পানি বাড়লে, জলোচ্ছ্বাস হলে, ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত পড়লে ভয় বাড়ে। পূর্ব উপকূলের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের মানুষ গত কয়েক বছরে চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছে। স্বাভাবিক জোয়ারের পানিতেও বাড়িঘর, ফসলি জমি ডুবে যাচ্ছে। লবণের মাত্রা অস্বাভাবিক বেড়েছে। ভাঙ্গনে দ্বীপটি ছোট হয়ে গেছে, বহু মানুষ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। লবণচাষি, মৎস্যজীবী, কৃষিজীবীরা পেশা বদল করেছে। মহেশখালীর ধলঘাটা, মাতারবাড়ি, সোনাদিয়া অনেক এলাকার মানুষ নানামূখী পরিবেশ সংকটে রয়েছে। অনেক স্থানে নেই বেড়িবাঁধ। একই অবস্থা কুতুবদিয়ার তাবালচর, কিরণপাড়া, ধূরুংসহ অনেক স্থানে। সন্দ্বীপের চারদিকে সম্প্রতি বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হলেও এ উপজেলার দ্বীপ ইউনিয়ন উড়িরচর জোয়ার এলেই পানিতে ভাসে। বেড়িবাঁধ না থাকায় নষ্ট হয় ফসল, ডুবে যায় বাড়িঘর। নোয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী দ্বীপ হাতিয়া ক্রমেই ছোট হচ্ছে। নলচিরা, সুখচর, তমরুদ্দি ক্রমাগত ভাঙছে। সুখচর ইউনিয়ন প্রায় বিলীন হওয়ার পথে। হাতিয়ার দ্বীপচরগুলোতে থাকা হাজারো মানুষের বিপন্নতায় বসবাস। আকাশে মেঘ দেখলেই তাদের মাঝে আতঙ্ক বাড়ে। হাতিয়ার পশ্চিমে, রামগতি-আলেকজান্ডারের দক্ষিণে, মনপুরার উত্তরে এবং ভোলা-দৌলতখানের পূর্বে মেঘনার বুকে রয়েছে বৃহৎ চরাঞ্চল। এসব চরে হাজারো মানুষ সারাবছর চরম ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করে। এই বৃহৎ চর এলাকার মধ্যে রামগতির চর আবদুল্লাহ, দৌলতখানের চর জহিরুদ্দিন, হাজীপুর, তজুমদ্দিনের চর মোজাম্মেল, মনপুরার কলাতলী, ঢালচর। বিভিন্ন এলাকা থেকে নদী ভাঙনের শিকার মানুষ এসব চরে ঠাঁই নিয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে তারা অসহায় হয়ে পড়ে। দ্বীপ জেলা ভোলার মনপুরার মানুষেরা এখনও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কাছে অসহায়। এ উপজেলায় রয়েছে চর নিজাম কলাতলী, ঢালচরসহ বেশ কয়েকটি চর। এতে অসংখ্য মানুষের বসবাস। পলি জমে গড়ে ওঠা নিচু চরে এদের বাস। মাঝারি আকারের উচ্চতায় জোয়ারের পানি এলেও এসব এলাকার মানুষের রক্ষা নেই। জীবন বাঁচানোর মতো আশ্রয়ের ব্যবস্থা এসব চরে একেবারেই সীমিত। বড় কোনো গাছপালাও নেই, যা ধরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে চরবাসীরা জীবন রক্ষা করবে। চরফ্যাসনের ঢালচর সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে। নদী ভাঙনের কারণে বঙ্গোপসাগরের মোহনায় থাকা এ দ্বীপটি এরইমধ্যে অনেক ছোট হয়ে গেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে সম্ভাবনাময় দ্বীপ কুকরি মুকরি। এছাড়াও ভোলা সদরের মাঝেরচর, রামদাসপুর, চর চটকিমারা, দৌলতখানের মদনপুর, হাজীপুর, মেদুয়া, বোরহানউদ্দিনের চর জহিরুদ্দিন (আংশিক), তজুমদ্দিনের চর মোজাম্মেল, চর জহিরুদ্দিন (আংশিক), লালমোহনের কচুয়াখালীর চরের বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক বিপদের মাঝে বসবাস করছে। পটুয়াখালীর গলাচিপা, কলাপাড়া, রাঙ্গাবালী, দশমিনা, বাউফলে রয়েছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে থাকা বেশকিছু অরক্ষিত চরাঞ্চল। স্বাভাবিক জোয়ারেই সেসব চরে পানি প্রবেশ করে। অনেক স্থানে নেই বেড়িবাঁধ। আবার কোথাও বেড়িবাঁধ থাকলেও প্রবল জোয়ারের তোড়ে ভেসে গেছে। রাঙ্গাবালীর দ্বীপ ইউনিয়ন চরমোন্তাজ চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। একই অবস্থা রাঙ্গাবালীর দ্বীপ ইউনিয়ন চালিতাবুনিয়ার। গলাচিপার চরকাজল, চর বিশ্বাস, পানপট্টির অনেক স্থানের মানুষের বারোমাসই ঝুঁকিতে বসবাস। বরগুনার তালতলী, পাথরঘাটা, পিরোজপুরের মাঝেরচর, শরণখোলার বগী, তাফালবাড়িয়া, খুলনার কয়রা, দাকোপা, সাতক্ষীরার গাবুরার প্রাকৃতিক ঝুঁকি কোনোভাবেই কমছে না। এসব এলাকার মধ্যে সিডর বিধ্বস্ত বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা এবং আইলা বিধ্বস্ত কয়রা, দাকোপা, শ্যামনগরের মানুষের প্রাকৃতিক বিপদের ঝুঁকির মাত্রা অত্যাধিক। প্রাকৃতিক বিপদ মোকাবেলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি শক্ত ও উঁচু বেড়িবাঁধ নির্মাণের। একইসঙ্গে প্রয়োজনীয় স্থানে প্রয়োজনীয়সংখ্যক আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা। আশ্রয়কেন্দ্রে ভালো পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তারা। একইসঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সড়ক যাতে চলাচল উপযোগী থাকে, সে বিষয়ে নজর রাখার দাবি উপকূলবাসীর। সিগন্যাল সম্পর্কে সর্বস্তরে সচেতনতা বাড়ালে প্রাকৃতিক বিপদ অনেকটা কমে আসবে বলে মনে করেন ঝুঁকিপ্রবণ এলাকার বাসিন্দারা। দ্বীপগুলোতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক সাইক্লোন শেলটার নির্মাণের দাবিও রয়েছে তাদের।  স্বাধীনতা পরবর্তীকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ এগিয়েছে অনেকখানি। ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে। অসংখ্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। বেড়িবাঁধ নির্মিত হয়েছে। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ঘটেছে। এইসব ব্যবস্থার কারণে দুর্যোগে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কমে এসেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমেছে। কিন্তু এখনও রয়েছে ঝুঁকি। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই, উপকূলের বহু এলাকা এখনও রয়েছে অরক্ষিত, বিপদাপন্ন। জোয়ারের পানি বাড়লেই ডুবে যায় ঘরবাড়ি। ছোট ধাক্কাতেই ভেঙে যায় নাজুক বেড়িবাঁধ। উপকূলের সব স্থানে যেমন বেড়িবাঁধ নেই, তেমনি বাঁধের উচ্চতাও প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়ানো হয়নি। ফলে ’৭০ কিংবা ’৯১-এর ঘূর্ণিঝড়ের মতো বড় আকারের কোনো ধাক্কা উপকূলে এলে ক্ষয়ক্ষতি যে হবে না, এটা বলা যায় না। হয়তো প্রস্তুতি জোরদার করে ক্ষতি কমিয়ে আনা যেতে পারে। প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ এগিয়ে আসায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে বাংলাদেশের উপকূলজুড়ে। দ্বীপ-চরের মানুষ দুশ্চিন্তায়। আমাদের প্রত্যাশা বাংলাদেশের কোনো ক্ষতি করবে না এ ঘূর্ণিঝড়। ‘ফণী’র ধকল সামলাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মানুষও সাধ্যমত প্রস্তুতি নিয়েছে। তবুও ভয়, যদি কিছু হয়। তবে সতর্কতা-সচেতনতা এগুলো বাড়ানোর পাশাপাশি উপকূলের দ্বীপ-চরের বাস্তবতাকে বিবেচনায় আনাটাও জরুরি। আমাদের সকলের প্রত্যাশা দুর্যোগ-দুর্বিপাকে বিপদমুক্ত থাকুক উপকূল।   ঝড়-ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ এক জনপদের নাম বাংলাদেশের উপকূল। যেখানকার মানুষ প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূল অঞ্চলের মানুষের সুরক্ষা নির্বাহ করে উপকূলীয় বেড়ীবাঁধের উপরে। দূর্যোগে এই বাঁধ তাদের ভরসার একমাত্র স্থল। বাঁধ ভালো থাকলে তারা দূর্যোগ থেকে রক্ষা পাবে।আর বাঁধ ভেঙ্গে গেলে তাদের ঘরবাড়ী, ফসলের ক্ষেত, রাস্তাসহ সবকিছু পানিতে ভেসে যায়। মানুষগুলো নিঃস্ব হয়ে পড়ে।
হিমালয়ের বিশাল জলরাশি নদীর সুদীর্ঘ গতিপথে বয়ে আনা পলি বঙ্গোপসাগরের মোহনা অঞ্চলে বহুকাল ধরে সঞ্চিত হয়ে বাংলা অক্ষর ব এর আকারে সুবিশাল যে ভূমিরূপ গঠিত হয়েছে, তা গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ। এই ব-দ্বীপ অঞ্চলটি গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর মিলিত কার্যের ফলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের প্রায় এক লক্ষ বর্গ কিমি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। যা পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ অঞ্চল। প্রায় ৬ হাজার ৫শ বছর পূর্বে বঙ্গোপসাগর উপকূলে সুন্দরবন বলে কিছু ছিল না। বঙ্গোপসাগর উপকূল থেকে কোথাও ১শ কিলোমিটার কোথাও ৩শ কিলোমিটার অবধি স্তলভাগ সমুদ্র ছিল। ব-দ্বীপের উপর বেড়ে উঠা সুন্দরবন বয়সে নবীন। প্রায় ৪ হাজার বছর পূর্বে সন্দরবন গড়ে উঠেছে। সে কারণে উপকূলের ভুমি গঠন দূর্বল, নিচু ও নরম। জলবায়ু পরিবর্তনসহ প্রাকৃতিক দূর্যোগ বার বার উপকূলে আঘাত হানায় ক্ষতি পরিমাণ বাড়ছে।
ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলটি তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত। পূর্ব অঞ্চল, কেন্দ্রীয় অঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলীয় অঞ্চল। গঙ্গার জোয়ার সমভূমি হিসাবে পরিচিত পশ্চিমাঞ্চলটি আধা-সক্রিয় ব-দ্বীপ নিয়ে গঠিত এবং বহু চ্যানেল এবং খাঁড়ি দ্বারা ক্রস করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় অঞ্চলটি সক্রিয়তা এবং ক্ষয়ের সবচেয়ে সক্রিয় এবং ক্রমাগত প্রক্রিয়া। এই অঞ্চলটিতে মেঘনা নদীর মোহনা অবস্থিত। পূর্ব অঞ্চলটি পাহাড়ী অঞ্চল দ্বারা আচ্ছাদিত, যা আরও স্থিতিশীল। ৭১০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূল যা জঙ্গল, সমতলসহ বিভিন্ন  পরিবেশ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ইন্টারফেসের সমন্বয়ে গঠিত। প্রায় ৭০টি দ্বীপ, জমি, সৈকত, একটি উপদ্বীপ, পল্লী জনবসতি, নগর ও শিল্প অঞ্চল এবং বন্দর নিয়ে গঠিত উপকূলীয় অঞ্চল। উপকূলীয় বাসিন্দাদের বেশিরভাগই দরিদ্র এবং সমগ্র জনগণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং মানবসৃষ্ট বিপদ উভয়েরই সংস্পর্শে রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্র স্তর বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়, ভারী বৃষ্টিপাত, উপকূলীয় জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা এবং নদী ভাঙ্গন প্রধান প্রাকৃতিক বিপর্যয়।
জমিদারী প্রথা বিলুপ্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় অষ্টমাসি বাঁধ ব্যবস্থা চালু ছিল।দিন রাত ২৪ ঘণ্টায় দুইবার জোয়ার দুইবার ভাটা হয়। জোয়ারের পানিতে বসতবাড়ি ও ফসলের ক্ষেত লবন পানিতে প্লাবিত হয়ে নস্ট হয়ে যেত। সে কারণে বন পরিষ্কার করে বসতি ও জমির চারপাশে এসব বাঁধ দেওয়া হতো। শুষ্ক মৌসুমে জমিতে লবণপানি প্রবেশ ঠেকানোও ছিল এমন বাঁধের বড় উদ্দেশ্য। কারণ জমিতে লবণপানি প্রবেশ করলে ফসল নষ্ট হত আর সেখানে আবার সুন্দরবনের বৃক্ষরাজি জন্মাত। সেই ভয় থেকে পরিত্রাণের জন্য বছরে আট মাস টিকে থাকে এমন বাঁধ নির্মিত হতো। মাটির তৈরি বাঁধ এই অঞ্চলে কৃষি কাজে সুরক্ষা দিত।যা অষ্টমাসি বাঁধ নামে পরিচিত ছিল। ভারতবর্ষ স্বাধীন হওয়ার পর জমিদারী প্রথার অবসান হওয়ার সাথে সাথে অষ্টমাসি বাঁধ ব্যবস্থার সম্পূর্ণ বিলোপ ঘটে। কেননা জমিদারদের কর্মচারীরা গ্রামের সাধারণ জনগণ ও কৃষকদের সংগঠিত করে ঐ বাঁধগুলো নির্মাণ করতেন।
১৯৫৪-৫৫ সালে উপকূলসহ সারা দেশে ব্যাপক বন্যা হয়। এ বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশ্বব্যাংক ও নেদারল্যান্ডসের প্রকৌশলীদের পরামর্শে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে উপকূল জুড়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ শুরু হয়। বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় জেলাসমূহসমুদ্র উপকূলীয় ভেড়িবাঁধ প্রকল্প (সিইপি) ভুক্ত। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালি, ঝালকাঠি, বরগুনা, পিরোজপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং বাগেরহাট জেলার বিস্তৃত এলাকা জুড়ে সমুদ্র উপকূলীয় বেড়িবাঁধ প্রকল্প বা সিইপি। বাঁধনির্মাণ এবং পানি নিষ্কাশনে এই প্রকল্পে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হয় স্লুইস গেইট বা জলকপাট দ্বারা। সেই সঙ্গে পানি অপসারণের জন্য কার্যকর ব্যবস্থাও এখানে গৃহীত হয়েছে। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বন্যা এবং লবণাক্ত পানির অবাঞ্ছিত অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে এটি ব্যাপক ও কার্যকর পরিকল্পনা হিসেবে চিহ্নিত। প্রকল্পটি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক পরিচালিত। ১৯৬১ থেকে ১৯৭৮ সালের মধ্যে দুই পর্বে এটি বাস্তবায়ন করা হয়। প্রথম পর্বে প্রকল্পভুক্ত ছিল ৯২টি পোল্ডার নির্মাণ, যার মাধ্যমে ১০ লক্ষ হেক্টর ভূমি প্রকল্প সুবিধার আওতায় আসে। পোল্ডার একটি ডাস শব্দ, যার অর্থ বন্যা নিরোধের জন্য নির্মিত মাটির দীর্ঘ বাঁধ (ডাইক) দ্বারা বেষ্টিত এলাকা। দ্বিতীয় পর্বে ১৬টি পোল্ডারে আরও চার লক্ষ হেক্টর ভূমি উদ্ধার সম্ভব হয়। সিইপির আওতায় এ পর্যন্ত ৪,০০০ কিমি-এর অধিক দীর্ঘ বেড়িবাঁধ এবং ১,০৩৯টি নিষ্কাশন জলকপাট বা স্লুইস গেইট নির্মিত হয়। সব ধরনের ডাইককে বেড়িবাঁধ শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সমুদ্র ডাইকগুলো মূলত বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী এলাকায় সমুদ্রের মুখে অথবা প্রশস্ত নদীগুলির তীরে অবস্থিত। এসব স্থানে উঁচু ঢেউরাজি মোকাবেলায় এই বাঁধগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকার পাশাপাশি এ সকল বাঁধ সড়ক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, যা উপকূলীয় অঞ্চলের সার্বিক আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে গতিশীলতার সঞ্চার করেছে। বেড়িবাঁধ জোয়ার প্লাবন থেকে ভূমিকে রক্ষা করতে কার্যকর, কিন্তু বাঁধের উচ্চতা ছাড়িয়ে যাওয়া জলোচ্ছ্বাস ও জোয়ার জলোচ্ছ্বাসের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে না। এই বাঁধের উদ্দেশ্য ছিল বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি। বাঁধ নির্মাণের ফলে প্রথম দিকে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও তৈরি হয়। উপকূলে বাড়তে থাকে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড। তবে বারবার দুর্যোগ-দুর্বিপাক আঘাত হানে । ১৭৯৭ থেকে শুরু করে ২০২১সালে ইয়াস পর্যন্ত সময়ের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মোট ৪৮৫ বার মাঝারি ও বড় জলোচ্ছ্বাস, গোর্কি, হারিকেন, সিডর, নার্গিসেরা বাংলাদেশের উপকূলকে ক্ষতবিক্ষত করেছে। ১৯৭০ সাল পর্যন্ত ১৭৩ বছরে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে ৩২৯টি, এসেছে গড়ে ৫-১০ বছর পর পর। কিন্তু স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ৫০ বছরে ১৫৮ টি ঝড় বা জলোচ্ছ্বাস ঘটেছে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সর্বশেষ সিডর আর আইলার আঘাতে সুন্দরবনও ক্ষতবিক্ষত হয়েছে।
কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনীতির রিপোর্ট পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনীতি সবচেয়ে ক্ষতির শিকার। ঝড়, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা এবং খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভবিষ্যতে আরও ঘন এবং তীব্র হবে। ভৌগোলিক পরিস্থিতি, ঘন জনসংখ্যা এবং দারিদ্র্যের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ুর দুর্বলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলের মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চল বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কারণ পশ্চিমাংশটি বেশিরভাগ সুন্দরবনকে আচ্ছন্ন করে রাখে তবে এটি নিচু ভূমির অঞ্চল, অন্যান্য কেন্দ্রীয় অংশটি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের আরও গতিশীল অংশ। আসে সিডর, আইলা, ফণী, বুলবুল, র্নািগস, আম্ফান, ইয়াসের মতো প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়। প্রতি বছরই ঝড়-তুফান ও ঘূর্ণিঝড় উপকূলবাসীকে তাড়া করে ফেরে। দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূল ঘিরে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের মোট ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের অধিকাংশই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা-খুলনা-বাগেরহাট উপকূলের ৪২৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধই রয়েছে চরম ঝুঁকিতে।
৭১০ কিমি উপকূল তিনটি বড় অঞ্চলে বিভক্ত বদ্বীপীয় পূর্বাঞ্চল প্রশান্ত মহাসাগরীয় ধরনের , বদ্বীপীয় কেন্দ্রঅঞ্চল এবং সুস্থিত ব-দ্বীপীয় পশ্চিমাঞ্চল আটলান্টিক মহাসাগরীয় ধরনের । প্রায় ৯,৩৮০ বর্গ কিমি বিস্তৃত উপকূল অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে বহু সংখ্যক দ্বীপ, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের ফানেলাকার অংশ। বিপুল পরিমাণ পলি পরিবহণ (বার্ষিক প্রায় ২.৪ দ্ধ ১০৯ মে টন), নিচু ভূমিরূপ ও গ্রীষ্মমন্ডলীয় সামুদ্রিক ঝড় ইত্যাদি হলো এ উপকূলীয় অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য। প্রায় উপকূলের প্রাকৃতিক সম্পদ দুর্যোগসহ বহুবিধ সমস্যার মুখোমুখি হয়। বাংলাদেশে সমন্বিত উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনায় পরিবেশগত বিবেচনাগুলির সমন্বয় বিধানের কিছুটা অভাব রয়েছে। উপকূলীয় জমির অবাধ বেসরকারিকরণ পরিবেশের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করেছে। মৎস্যজীবীর সংখ্যা বৃদ্ধি, উপকূলীয় সম্পদের অতিব্যবহার, পানির মানের অবনতি, চিংড়ি ঘের তৈরীর জন্য ম্যানগ্রোভ বন ধ্বংস, প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত সীমাবদ্ধতা, সামুদ্রিক ঝড় ইত্যাদি। প্রধান সমস্যাগুলির অগ্রাধিকার ভিত্তিক সুরাহা প্রয়োজন।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে মতে, বাংলাদেশের ১৯ জেলার ১৪৭ উপজেলার ১৩ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা উপকূলীয় অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত। প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় এ জনপদে বসবাস করেন প্রায় ৫ কোটি মানুষ। ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসে অরক্ষিত অবস্থায় জীবনধারণে বাধ্য হন তারা। প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে অসংখ্য মানুষ তাদের বসতভিটা ও কৃষিজমি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হন। ঘূর্ণিঝড় আর জলোচ্ছ্বাস বারবার আঘাত হানার কারণে সড়ক অবকাঠামো, বসতবাড়ি, কৃষিজমি বিনষ্ট হয়। এসব জমির উর্বরতাশক্তিও হারিয়ে যায় অতিরিক্ত লবণাক্ততায়। ফলে ফসল উৎপাদনও হ্রাস পায়। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে ধ্বংসপ্রাপ্ত বেড়িবাঁধগুলো বছরের পর বছর মেরামতহীন থাকাসহ পর্যাপ্ত আশ্রয় কেন্দ্রের অভাবে অরক্ষিত উপকূলীয় বাসিন্দাদের জীবন কাটে সীমাহীন ঝুঁকিতে। উপকূলীয় বাসিন্দাদের সুরক্ষিত রাখতে সরকার শত শত কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও তাদের ঝুঁকিমুক্ত জীবন নিশ্চিত হচ্ছে না । প্রশাসন ঘূর্ণিঝড়ের পর ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের তালিকা অনুযায়ী দেশের ৩৩ উপজেলাকে সাগর-সংলগ্ন বিপৎসংকুল এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে সরকার। এসব উপজেলায় পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম না হওয়ায় ৭১০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন এখনো। ঘূর্ণিদুর্গত এলাকাসমূহে এখনো নির্মিত হয়নি পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার। বছরের পর বছর ধরে বেড়িবাঁধগুলোও পুরোপুরি মেরামত বা সংস্কার করা হয়নি। ফলে এখনো উপকূলবাসী অরক্ষিত ও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। বাংলাদেশের উপকূলীয় পোল্ডারগুলো অনেক পুরোনো। বেশির ভাগেরই বয়স ৫০-৬০ বছরের বেশি। এগুলো মাটির তৈরি হওয়ায় এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। উপরন্তু চিংড়ি চাষের সুবিধার্থে লবণপানি ঢোকানোর জন্য যত্রতত্র বাঁধের ভেতরে ছিদ্র করা বা পাইপ বসানোর ফলে এগুলো ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। ফলে পোল্ডারগুলোর অস্বাভাবিক জোয়ার কিংবা ঘূর্ণিঝড়ের সময় জলোচ্ছ্বাস ঠেকানোর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। উপকূলের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ও চরাঞ্চল জুড়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং পুরনো বাঁধ সংস্কার প্রয়োজন। ক্ষেত্রবিশেষ ছয় থেকে সর্বোচ্চ ১০ মিটার পর্যন্ত বাঁধ উঁচু করলে বাঁধ টেকসই হবে। এলাকার বেশির ভাগ বাঁধই ব্যবহারের অনুপযোগী। সেখানে নতুন করে বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। আগের জীর্ণ বাঁধের ওপর আবার বাঁধ বানালে তা টেকসই হবে না। আধুনিক কারিগরি জ্ঞান আর কৌশল নিয়ে বাঁধগুলো সুদৃঢ় করা দরকার। ঘূর্ণিঝড় আইলা ও সিডর আম্ফানের পর যে বাঁধগুলো সুদৃঢ় করা হয়েছে, সেসব সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়ের সময় বেশি সুরক্ষা দিয়েছে। বাঁধগুলো পুনর্নিমাণের সময় সর্বাধুনিক এবং যথেষ্ট চওড়া ও বেশি সংখ্যায় জলকপাট রাখতে হবে। উপকূলের বহু অঞ্চলে জলকপাটগুলো মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। জলকপাটগুলো সচল রাখার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচিত পর্যাপ্ত সংখ্যায় খালাসি নিয়োগ দেওয়া। পোল্ডারের ভেতরের মৃতপ্রায় নদী, খাল, বিল ইত্যাদি পুনঃখনন করে সচল করা দরকার, যাতে বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধ পরিস্থিতি না হয়। নদী ও খালে মাছ চাষের জন্য সব বাধা উচ্ছেদ করে সারা বছর সেসব সচল রাখার ব্যবস্থা নিতে হবে। উপকূলীয় বাঁধগুলো টেকসই এবং নির্মাণ কাজে যথাযথ তদারকি করলে এ বাঁধের কোনো ক্ষতি হবে না। উপকূলীয়,চরাঞ্চল ও দ্বীপের মানুষের জীবন ও জীবিকার গতিপথ ত্বরান্বিত হবে।
বাংলাদেশের ২৫ শতাংশ নাগরিক উপকূলে বসবাস করে। জাতীয় অর্থনীতিতে জিডিপির কমবেশি ২৫ শতাংশ অবদান

জন্মভূমি ডেস্ক January 11, 2026
Share this Article
Facebook Twitter Whatsapp Whatsapp LinkedIn Email Copy Link Print
Previous Article মাইকে মৃতের সংবাদ প্রচার কি আদৌ ইসলামে জায়েয?
Next Article পাইকগাছা কপোতাক্ষ নদে আবারো লাশ উদ্ধার
আরো পড়ুন
যশোর

যশোরে আল মামুন ফাউন্ডেশনের ইফতার সামগ্রী বিতরণ

By জন্মভূমি ডেস্ক 6 minutes ago
যশোর

যশোরে বাসের ধাক্কায় তরুণী নিহত

By জন্মভূমি ডেস্ক 7 minutes ago
যশোর

কেশবপুরে জনতা ব্যাংক ভবনে আগুন

By জন্মভূমি ডেস্ক 9 minutes ago

দিনপঞ্জি

March 2026
S M T W T F S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
« Feb    

এ সম্পর্কিত আরও খবর

সাতক্ষীরা

ফিতরা কার ওপর ওয়াজিব, কখন-কাকে দিতে হবে

By Correspondent 1 hour ago
সাতক্ষীরা

তালায় ওভিটি-হোপ প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

By জন্মভূমি ডেস্ক 7 hours ago
সাতক্ষীরা

আশাশুনিতে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভা

By জন্মভূমি ডেস্ক 7 hours ago

প্রকাশনার ৫৫ বছর

দৈনিক জন্মভূমি

পাঠকের চাহিদা পূরণের অঙ্গীকার

রেজি: কেএন ৭৫

প্রধান সম্পাদক: লে. কমান্ডার (অব.) রাশেদ ইকবাল

অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক: আলি আবরার

প্রকাশক: আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত

ইমেইল– janmokln@gmail.com           অনলাইন নিউজরুম-০১৬১১৬৮৮০৬৪        রফিকুজ্জামান বার্তা কক্ষ ০৪১-৭২৪৩২৪

Developed By Proxima Infotech and Ali Abrar

Removed from reading list

Undo
Welcome Back!

Sign in to your account

Lost your password?