By using this site, you agree to the Privacy Policy and Terms of Use.
Accept
খবর সার্চ

প্রকাশনার ৫৫ বছর

দৈনিক জন্মভূমি

NEWSPORTAL

  • মূলপাতা
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধূলা
  • বিনোদন
  • জেলার খবর
    • খুলনা
    • চুয়াডাঙ্গা
    • বাগেরহাট
    • মাগুরা
    • যশোর
    • সাতক্ষীরা
  • ফিচার
  • আজকের ই-পেপার
  • সকল ই-পেপার
Reading: দুর্যোগ প্রস্তুতিতে লড়ব তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়ব’
Share
দৈনিক জন্মভূমিদৈনিক জন্মভূমি
Aa
  • মূলপাতা
  • জাতীয়
  • খুলনা
  • জেলার খবর
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলাধূলা
  • সম্পাদকীয়
  • ALL E-Paper
অনুসন্ধান করুন
  • জাতীয়
  • জেলার খবর
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলাধূলা
  • বিনোদন
  • ই-পেপার
Have an existing account? Sign In
Follow US
প্রধান সম্পাদক মনিরুল হুদা, প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত
দৈনিক জন্মভূমি > জেলার খবর > সাতক্ষীরা > দুর্যোগ প্রস্তুতিতে লড়ব তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়ব’
সাতক্ষীরা

দুর্যোগ প্রস্তুতিতে লড়ব তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়ব’

Last updated: 2026/03/15 at 2:33 PM
জন্মভূমি ডেস্ক 1 hour ago
Share
SHARE

সিরাজুল ইসলাম, শ্যামনগর: প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরা বাংলাদেশ। একইসঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশ। ভৌগোলিক অবস্থান, বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চল, অসংখ্য নদ-নদী এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে এই দেশে প্রায়ই ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও অন্যান্য দুর্যোগ আঘাত হানে। এসব দুর্যোগে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ মানুষের জীবন ও সম্পদের ক্ষতি হয়। তাই দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতনতা ও প্রস্তুতির গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিতে প্রতিবছর ১০ মার্চ জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালন করা হয়। প্রতিবারের মতো এবারও নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে দিনটি দেশব্যাপী দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘দুর্যোগ প্রস্তুতিতে লড়ব, তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়ব।’ তরুণরাই আমাদের আলোকিত আগামী। তারুণ্যের সম্মিলিত সাহস জাতিকে উদ্দীপ্ত করে, আলোড়িত করে, অনুপ্রাণিত করে। আমাদের সমস্ত অর্জনের অনুঘটক তারুণ্য। ১৯৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সর্বশেষ ২০২৪’র জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জীবন্ত ও জ্বলন্ত উদাহরণ। আমরা বিশ্বাস করি, দুর্যোগ কালরাত মোকাবিলা করে আমাদের জন্য সোনালি সকাল নিয়ে আসবে। যে সকাল আমাদের সৌভাগ্য, সমৃদ্ধি আর সম্ভাবনা নিয়ে আসবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে এবারের প্রতিপাদ্য বিশেষ তাৎপর্য ও গুরুত্ব বহন করে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে ভয়াবহ অনেক দুর্যোগের ঘটনা রয়েছে, যা আমাদের প্রস্তুতির গুরুত্ব বারবার মনে করিয়ে দেয়। ১৯৭০ সালের ভয়াল ঘূর্ণিঝড় ছিল বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। সে সময় প্রায় ৩ থেকে ৫ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক জলোচ্ছ্বাসে অসংখ্য গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। এরপর ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ আবারও এক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের মুখোমুখি হয়। এ দুর্যোগে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় এবং প্রায় এক কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘরবাড়ি, ফসল ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। এই বিপর্যয় বাংলাদেশকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালে আঘাত হানে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’। প্রায় ২৪০ কিলোমিটার গতির বাতাস ও জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় অঞ্চল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারি হিসাবে প্রায় ৩ হাজার ৫শ মানুষের মৃত্যু ঘটে এবং কয়েক মিলিয়ন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে অতীতের তুলনায় ক্ষয়ক্ষতি কম হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল আগাম সতর্কবার্তা, সাইক্লোন শেল্টার এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় ভূমিকা। সাম্প্রতিক সময়েও দুর্যোগের ঝুঁকি কমেনি। ২০২০ সালে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ বাংলাদেশ ও ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে। যদিও আগাম প্রস্তুতি ও ব্যাপক আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থার কারণে সম্ভাব্য বড় ধরনের প্রাণহানি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব হয়।
এই অভিজ্ঞতাগুলো প্রমাণ করে দুর্যোগ পুরোপুরি ঠেকানো না গেলেও যথাযথ প্রস্তুতি থাকলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। উপকূলীয় অঞ্চলে হাজার হাজার সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ, আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন এবং জনগণকে সচেতন করার মাধ্যমে বাংলাদেশ আজ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশ্বের কাছে একটি সফল উদাহরণ হিসেবে পরিচিত। তবে এ সাফল্যে উদাসীন হয়ে বসে থাকলে চলবে না। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে বাংলাদেশে দুর্যোগের ধরন ও তীব্রতায় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। অতীতে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস বেশি দেখা গেলেও বর্তমানে বজ্রপাত, তাপপ্রবাহ, ভূমিধস, নগর বন্যা এবং নদীভাঙনে ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা এবং দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার ঘটনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব নতুন বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ভূমিকম্প ও বজ্রপাতের বিষয়ে জনসচেতনতা আগের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে এখনো অনেক ক্ষেত্রে সচেতনতা প্রয়োজন রয়েছে। সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সরকার গণমাধ্যমে প্রচারণা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি, স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ বিভিন্ন মহড়া আয়োজন করছে। বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে দেশব্যাপী তালগাছ লাগানোর উদ্যোগ এবং নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের পাঠ্যক্রমে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও দুর্যোগ সচেতনতা বিষয়ক বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা দুর্যোগের কারণ, ঝুঁকি এবং নিরাপদ আচরণ সম্পর্কে জানতে পারছে। এছাড়া অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ভূমিকম্প মহড়া এবং অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলা বিষয়ক প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এসব মহড়া আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সাধারণ মানুষ পরিবারভিত্তিক দুর্যোগ প্রস্তুতি নিতে পারে। যেমন- পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জরুরি পরিস্থিতিতে কী করতে হবে তা নিয়ে পরিকল্পনা করা, জরুরি যোগাযোগ নম্বর সংরক্ষণ করা এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য, পানি ও ওষুধ প্রস্তুত রাখা। ভূমিকম্পের সময় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া, বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ বা গাছের নিচে না থাকা এবং ঘূর্ণিঝড়ের সময় দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়া এসব বিষয়ে সচেতন থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্যোগের আগাম সতর্কতা প্রদান বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ কাজে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করে থাকে। প্রধানত বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ঘূর্ণিঝড়, ঝড়-বৃষ্টি বা অন্যান্য আবহাওয়াজনিত দুর্যোগের পূর্বাভাস প্রদান করে। একইভাবে বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে আগাম তথ্য দিতে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র নদীর পানির স্তর ও প্রবাহ বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য বন্যার পূর্বাভাস দেয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করে এবং স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে তা সমন্বয় করে। পরে গণমাধ্যম, মোবাইল বার্তা এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় জনগণের কাছে দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়, যাতে মানুষ আগাম প্রস্তুতি নিতে পারে এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় কার্যকর সমন্বয়ের জন্য জাতীয়, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিভিন্ন দূর ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটির মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থা ও বিভাগের মধ্যে সমন্বয় করা হয়। এছাড়া নিয়মিত সভা, প্রশিক্ষণ ও মহড়ার মাধ্যমে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি অনুযায়ী স্থানীয় পর্যায়ে উপজেলা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি রয়েছে। এসব কমিটি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। দুর্যোগের আগে সচেতনতা বৃদ্ধি, দুর্যোগের সময় উদ্ধার কার্যক্রম এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমে এসব কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে তারাই প্রথমে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেন। সরকার বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম দিয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বর্তমান সরকার ভূমিকম্পের দুর্ভোগ লাঘব ও উদ্ধার অভিযান ত্বরান্বিত করতে ঢাকা মহানগরীতে ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক তৈরির কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ অন্যান্য মহানগরীতেও এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় স্যাটেলাইট তথ্য, ডিজিটাল আবহাওয়া পূর্বাভাস, মোবাইল এসএমএস সতর্কবার্তা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং সাইরেন ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত এবং কার্যকরভাবে জনগণের কাছে সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
বাংলাদেশ ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। তাই সম্ভাব্য বড় ভূমিকম্প মোকাবিলার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সমন্বয়ে উদ্ধার সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত মহড়া আয়োজন করছে। একই সঙ্গে নগর স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণসহ নানা ধরনের কার্যক্রম চলমান। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে নগর অনুসন্ধান ও উদ্ধার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জরুরি সাড়া প্রদানের ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দুর্যোগের প্রকৃতি ও তীব্রতা পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অভিযোজনমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ, জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং কমিউনিটি পর্যায়ে ঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকার দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যেমন- ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ বন্যা নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো উন্নয়ন, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি। এসব পদক্ষেপের ফলে অতীতের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে দুর্যোগে প্রাণহানি কমানো সম্ভব হয়েছে। দুর্যোগ পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও সচেতনতা ও প্রস্তুতির মাধ্যমে এর ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমানো সম্ভব। তাই সবাইকে দুর্যোগ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। আমরা যদি সবাই মিলে প্রস্তুত থাকি, তাহলে একটি নিরাপদ, সচেতন ও দুর্যোগ-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।বাংলাদেশ একটি বদ্বীপ। বাংলাদেশের উপকূল বিশাল। আর উপকূলে রয়েছে বেশ কয়েকটি দ্বীপ। কোনো কোনো দ্বীপ হাজার বছরের পুরোনো এবং অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্যেরও অধিকারী। দেশের উপকূল ও দ্বীপের মানুষের কথা আমরা খুবই কম শুনি। ওইসব মানুষের কল্যাণে সমতাভিত্তিক উন্নয়ন বাজেটও তেমন উল্লেখযোগ্যভাবে হয়ে ওঠে না। উপকূলীয় অঞ্চল ও দ্বীপের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন নিয়ে বেশ চিন্তাভাবনা করছে সরকার।
উপকূলীয় দ্বীপগুলোর উন্নয়নের জন্য অফশোর আইল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বোর্ড একসময় বেশ কার্যকর ছিল। এখন এটি নেই। আজকের লেখায় উপকূল ও দ্বীপ নিয়ে আলোচনা করব। বিশেষ করে দেশের বিশেষ সম্ভানাময় এলাকা সন্দ্বীপের উন্নয়নে কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, সে বিষয়ে কিছু কথার অবতারণা করছি।প্রায় হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যসমৃদ্ধ দ্বীপ চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্ভুক্ত সন্দ্বীপ। দেশে ৪৯২টি উপজেলার মধ্যে নানা দিক দিয়ে সন্দ্বীপ উপজেলাটি বেশ ব্যতিক্রম ও সমৃদ্ধ। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সন্দ্বীপ বিশাল অবদান রাখছে। শুধু সন্দ্বীপ উপজেলার মানুষের কাছ থেকে বিদেশ থেকে মোট প্রাপ্ত রেমিট্যান্স ১১ শতাংশের অধিক। এত বিশাল রেমিট্যান্স দেশের কোনো উপজেলার মানুষ বিদেশ থেকে উপার্জন করে আনতে পারছে না।
কিন্তু এর বিনিময় তো দূরের কথা, নানা ন্যায্য প্রাপ্তি থেকে দ্বীপের চার লাখ মানুষ যুগ যুগ ধরে বঞ্চিত, অবহেলিত। কিন্তু কেন!তবে সন্দ্বীপে যে উন্নয়ন মোটেই হয়নি, তা নয়। নানা দিক দিয়ে সন্দ্বীপ উপজেলায় বেশ উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। মানুষের জীবনমানে কিছু ক্ষেত্রে বেশ পরিবর্তন এসেছে। তবে আরও বেশি প্রয়োজন। চাহিদা অনুযায়ী দ্বীপবাসী উপকৃত হতে পারেনি। এর নানা কারণ রয়েছে।
উন্নয়নের কয়েকটি ক্ষেত্র সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো:স্থানীয় রাস্তা: সন্দ্বীপের প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নের রাস্তা পাকা হয়ে গেছে। সন্দ্বীপে উড়িরচরসহ ১৩টি ইউনিয়ন রয়েছে। উড়িরচরে সন্দ্বীপের মূল খণ্ড থেকে সামান্য নদী পার হয়ে যেতে হয়। উড়িরচরের সঙ্গে সরাসরি রাস্তার যোগাযোগ নেই। নৌকা দিয়ে সন্দ্বীপ থেকে উড়িরচরে যাতায়াত করতে হয়। বর্ষাকালে বেশ সমস্যা। কোনো জেটি নেই। কাঠজাতীয় নৌকায় উঠতে হয় উভয় তীরে, যা অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য খুবই কষ্টকর।তবে পৌরসভা এলাকায় রাস্তা অনেক আগে পাকা করা হয়েছে। এখন প্রায় ব্যবহারের উপযোগিতা হারিয়ে ফেলেছে। নতুন করে দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।বিদ্যুৎ: অনেক জল্পনাকল্পনা শেষে অবশেষে সন্দ্বীপে সাবমেরিন কেব্লের মাধ্যমে সম্প্রতি বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন লাইন এবং ১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সাবস্টেশন বসানো হয়েছে। বৈদ্যুতিক খুঁটিও বসানো হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগও দেওয়া হয়েছে। এটি সন্দ্বীপের ক্ষেত্রে বিশাল সফলতা। সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে ছোট করতে চাই না, বরং বলব এই বিদ্যুৎকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে সন্দ্বীপে ক্ষুদ্র ও মাঝারি স্থাপনা করা খুবই সহজ হবে। কম মূল্যে শ্রমিক পাওয়া যাবে। বিশেষ করে সন্দ্বীপে মহিলারা বেশ কর্মঠ। শিক্ষিত, মধ্য শিক্ষিত ও অশিক্ষিত সব মহিলাকে ক্ষুদ্র শিল্পে উৎপাদনে পাওয়া যাবে।অর্থনৈতিক অঞ্চল: এরই মধ্যে সরকার সন্দ্বীপের দীর্ঘাপাড়া ইউনিয়নসহ বিরাট এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন করার ঘোষণা দিয়েছে। এরই মধ্যে গ্যাজেট প্রকাশিত হয়েছে। রফতানিমুখী শিল্প থেকে যে কোনো মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠান এই সমতলে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। সরকারের এই মহৎ উদ্যোগ দ্বীপবাসীর জন্য তথা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক ।জেটি নির্মাণ: সন্দ্বীপে সবচেয়ে বড় সমস্যা যাতায়াত। এখনও সন্দ্বীপের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম নদীপথ। চট্টগ্রাম থেকে স্টিমার, নৌকা ও স্পিডবোটের মাধ্যমে সন্দ্বীপে সাধারণ মানুষ যাতায়াত করে থাকে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের কুমিরা দিয়ে স্টিমার ও নৌকায় মানুষ যাতায়াত করে থাকে। কুমিরা থেকে সোজা সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হবে।
বিগত সময় গুপ্তছড়ায় একটি জেটি নির্মিত হয়েছিল, কিন্তু তা ব্যবহারের আগে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এখন সরকার আবারও জেটি নির্মাণ করছে। গুণগত মানসম্পন্ন না হলে সেটিও আগের মতো নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। কত দিন তা ব্যবহার করা যাবে বলা মুশকিল। গুপ্তছড়া ও কুমিরার দিকে উন্নত মানের জেটি হলে সহজে স্টিমার দিয়ে মানুষ কাদা না মাড়িয়ে সন্দ্বীপে যাতায়াত করতে পারবে। চেষ্টা চলছে, দেখা যাক কবে আমাদের এই যাতায়াত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।কিছু পরিকল্পনা সন্দ্বীপের জন্য জরুরি ভিত্তিতে গ্রহণ করা প্রয়োজন। আর গৃহীত পরিকল্পনাগুলোকে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য নিচে এ বিষয়ে আলোচনা করছি।প্রশিক্ষিত জনবল: সন্দ্বীপের মানুষের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক আয়ের বিষয় হচ্ছে বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স প্রেরণ। দেশের ১১ শতাংশ রেমিট্যান্স সন্দ্বীপ উপজেলার মানুষ বিদেশ থেকে পাঠাচ্ছে। এটি বেশ বড় অবদান। এই জনশক্তির প্রায় পুরোটাই অদক্ষ শ্রমিক। তাই সন্দ্বীপে অনতিবিলম্বে একটি ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও একটি পলিটেকনিক্যাল কলেজ স্থাপন করা দরকার। সন্দ্বীপে এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। তাই অধিকাংশ মানুষকে অদক্ষ শ্রমিক হিসেবে বিদেশ যেতে হয়। তাতে বেতন কম ও পরিশ্রম বেশি হয় এবং আয়ও কম হয়। দক্ষ জনশক্তি ছাড়া এই সমস্যার কোনো সমাধান নেই। অষ্টম শ্রেণি পাস করে ভোকেশনাল ট্রেনিং নিয়ে সন্দ্বীপবাসীর কর্মসংস্থানের জন্য উল্লিখিত প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন। তাছাড়া হোস্টেলসহ পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট স্থাপিত হলে হাতিয়া, সীতাকুণ্ড, মিরশ্বরাই এসব থানার ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে। তাতে উপকূলীয় জনশক্তির প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এই প্রতিষ্ঠান দুটি করার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যকে মূল ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংসদ সদস্য এই কাজটি খুব সহজে করতে পারবেন বলে আমার বিশ্বাস। দেশের স্বার্থে বিষয়টি খুবই জরুরি। প্রশিক্ষিত জনবল ছাড়া সন্দ্বীপে অমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।ক্রসড্যাম নির্মাণ: ক্রসড্যাম নির্মাণের মাধ্যমে সন্দ্বীপকে নোয়াখালীর মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত করা যায়। বিশ্ব গবেষণা সংস্থা কর্তৃক বিষয়টি পরীক্ষিত। বেশ কিছুদিন আগে এই প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়টিতে প্রধান উপদেষ্টার ‌দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে। সন্দ্বীপের স্থানীয় সংসদ সদস্য বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেন। এখনই উপযুক্ত সময়। যেহেতু সন্দ্বীপে অর্থনৈতিক শিল্প হচ্ছে, তাই শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়া ও পণ্য বিপণনের জন্য ক্রসড্যামের মাধ্যমে নোয়াখালীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ জরুরি হয়ে পড়েছে। ২০১২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সন্দ্বীপ সফরের সময় ক্রসড্যামের বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে। নিশ্চয়ই বিষয়টি তার বিবেচনায় নেওয়াটা সহজ হবে।সন্দ্বীপকে নদীবন্দর ঘোষণা: সন্দ্বীপকে স্থানীয় নৌবন্দর ঘোষণা করার মাধ্যমে সন্দ্বীপ উপকূলীয় অঞ্চলে জেটি স্থাপন করা দরকার। যেহেতু সন্দ্বীপে অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে, তাই পণ্য আনা-নেওয়ার জন্য নৌবন্দর খুবই জরুরি। সন্দ্বীপে যদি শিল্প অঞ্চল স্থাপিত করা হয়, সেক্ষেত্রে পণ্য আনা-নেওয়ার জন্য জেটি নির্মাণ করা হলে পণ্য সরবরাহের খরচ কমে আসবে, পণ্যমূল্য কম হবে। সন্দ্বীপকে নৌবন্দর ঘোষণার জন্য নৌ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিষয়টিতে প্রধান উপদেষ্টার।দৃষ্টি আকর্ষণ করানো গেলে সহজে বিষয়টির ফলাফল পাওয়া যাবে।অফশোর আইল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বোর্ড: একসময় ওই নামে প্রতিষ্ঠানটি ছিল, বর্তমানে নেই। শুধু সন্দ্বীপের জন্য নয়, সব উপকূলীয় দ্বীপের জন্য এই সংস্থা খুবই জরুরি। সারা বিশ্বে উপকূলীয় দ্বীপের জন্য এই সংস্থা খুবই জরুরি। সারা বিশ্বে উপকূলীয় দ্বীপ একেকটি নদী বা সাগরকূলে গড়ে উঠেছে।
আমাদের অতি কাছে সিঙ্গাপুর। সিঙ্গাপুরকে অনুকরণ করে আমরা দেশকে উন্নত করতে পারি।ভাসানচর: সন্দ্বীপের নিয়ামস্তি ইউনিয়ন ভেঙে গিয়ে গড়ে উঠেছে ভাসানচর। স্থানীয়ভাবে এটিকে ঠেঙ্গারচরও বলা হয়। ভাসানচরের প্রকৃত মালিক সন্দ্বীপবাসী। সন্দ্বীপের বাংলাবাজার ঘাট দিয়ে ভাসানচরে স্পিডবোটে যাওয়া যায়। সময় লাগে আধা ঘণ্টা। অন্যদিকে হাতিয়ার নলচিরা ঘাট থেকে ভাসানচরে যেতে ট্রলারে সময় লাগে প্রায় তিন ঘণ্টা। বর্তমানে ভাসানচরে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবস্থানের জন্য আবাসন নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ২০১৭ সালের পরিদর্শন প্রতিবেদনে ভাসানচরকে হাতিয়ার অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করেছেন। এ ব্যাপারে হাইকোর্টে মামলা হয়েছে। ভাসানচর সন্দ্বীপের অতি নিকটবর্তী মূলভাগ। নদী সিকস্তি আইন ও বিধান অনুযায়ী ভাসানচর সন্দ্বীপের অংশ। কিন্তু প্রভাবশালীদের চাপে জোর করে ভাসানচরকে হাতিয়ার অংশ দেখানো হয়েছে। সন্দ্বীপবাসীর পক্ষে প্রভাবশালী কেউ নেই। এখন সন্দ্বীপবাসীকে উদ্যোগ নিতে হবে। ভাসানচরকে সন্দ্বীপের অংশ করার জন্য কার্র্যকর পদক্ষেপ দেশবাসী দেখতে চায়।নদীভাঙা পরিবারের গৃহনির্মাণ: সন্দ্বীপের লাখো বাসিন্দা নদীভাঙনের কবলে কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। কেউ কেউ নদীর কূলে বেড়িবাঁধের তীরে কোনোভাবে দিন কাটাচ্ছে। নেই কোনো বাসস্থান, নেই কোনো শিক্ষা, নেই কোনো স্বাস্থ্যসেবা। এমন মানবেতরভাবে জীবনযাপন করে নদীভাঙনের শিকার মানুষগুলো। সরকার সারা দেশে অসহায় মানুষের আবাসন করে কর্মসংস্থান করে দিচ্ছে। ঠিক তেমনি নদীভাঙনের শিকার মানুষের জন্য সন্দ্বীপে আবাসনের ব্যবস্থা করা হোক। এজন্য পরিকল্পনা তৈরি করে সংসদ সদস্যের মাধ্যমে সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে আবাসনের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।জনপ্রতিনিধি ও ঐক্য: যে কোনো কিছু অর্জন করতে হলে শক্তিশালী, যোগ্য ও সবল জনপ্রতিনিধির প্রয়োজন।
আমাদের সব প্রতিনিধি সুন্দরভাবে নির্বাচিত। আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা ও সংসদ সদস্য সবাই বিপুল ভোটে নির্বাচিত। কাজেই আমাদের ভিত্তি অতি শক্তিশালী। তবে প্রয়োজন ঐক্যের। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সবাইকে একই সুরে কথা বলতে হবে। ব্যক্তিগত সুবিধা বাদ দিয়ে সন্দ্বীপের জনগণের কল্যাণের কথা চিন্তা করতে হবে। সন্দ্বীপের সমস্যাকে নিজের সমস্যা মনে করে জনপ্রতিনিধিত্ব করতে হবে। তবেই মূল সমস্যা সমাধান সহজ হবে।দ্বীপভাতা চালু: সন্দ্বীপে একমাত্র আবুল কাসেম হায়দার মহিলা কলেজ ছাড়াও আরও চারটি কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে একটি সরকারি কলেজ। মহিলা কলেজটি আজও এমপিওভুক্ত হয়নি। জনগণের দাবি দ্রুত মহিলা কলেজটি এমপিওভুক্ত করা। সরকারি হাসপাতালে প্রচুর রোগী রয়েছে, কিন্তু ডাক্তার নেই, যন্ত্রপাতি নোই, নার্স নাই। তাই এলাকাবাসী চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত।
উপজেলা পর্যায়ে অনেক পদে সরকারি কর্মকর্তা নেই। দ্বীপ হওয়ার কারণে অন্য জেলার নিয়োগকৃত সরকারি কর্মকর্তারা সন্দ্বীপে যেতে চান না। সেগুলোয় কয়েক দিন থেকে চলে যান। থাকার সুব্যবস্থা না থাকায় ডাক্তারসহ অন্যান্য কর্মকর্তা সন্দ্বীপে যেতে আগ্রহী নন। আগ্রহী গোষ্ঠীর জন্য দ্বীপ অঞ্চলগুলোতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দ্বীপভাতা চালু করা দরকার। বেতনের সঙ্গে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ দ্বীপভাতা প্রদান করা হলে সন্দ্বীপসহ সব উপকূলীয় দ্বীপে ডাক্তার, অধ্যাপক ও কর্মকর্তাদের থাকার আগ্রহ বেড়ে যাবে, যা এলাকার জন্য খুবই উপযোগী হবে।সন্দ্বীপের মৌলিক সমস্যা মাদক: সারা দেশের মতো সন্দ্বীপে মাদকের বিস্তার ভয়াবহ। প্রতি ঘরে মাদকের হিংস্র থাবা বিস্তারলাভ করেছে। যুবসমাজ মাদকে নানাভাবে আক্রান্ত। সরকার সারা দেশে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করেছে। তাই আমাদের মাদককে ‘না’ বলতে হবে।
সরকার জনপ্রতিনিধি, পুলিশ সকলকে এই ব্যাপারে সৎভাবে মাদক নির্মূলে অগ্রসর হতে হবে। সন্দ্বীপে মাদক উৎপাদন হয়না। চট্টগ্রাম বা দেশের অন্য যে কোনো জেলা থেকে সন্দ্বীপে মাদক আসে। পুলিশ ও প্রশাসন সক্রিয় হলে সন্দ্বীপ থেকে মাদক নির্মূল দু-এক দিনের ব্যাপার।অন্যদিকে আমাদের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী শিক্ষা চালু করতে হবে। সন্দ্বীপে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় ক্লাস শুরুর আগে সব ছাত্রছাত্রীকে মাদককে ‘না বলুন’ শীর্ষক বক্তব্য দিতে হবে। সব অভিভাবককে মাদক সম্পর্কে সতর্ক করতে হবে। সন্দ্বীপের সব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতি, ক্লাব ও রাজনৈতিক দলকে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। মাদক ক্ষতিকর, মাদক ত্যাগ করুন, মাদকের কোনো ব্যবসার সঙ্গে কেউ জড়িত হবে নাÑএই মর্মে সবাইকে অঙ্গীকার করে নিজের জীবন পরিচালনা করতে হবে।
বিশেষ করে পুলিশসহ সরকারের সকল স্তরের প্রশাসনকে মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে প্রকৃত মর্মে সতর্ক থাকতে হবে। তবেই সন্দ্বীপের যুবসমাজ দেশ গড়ার জন্য প্রকৃতভাবে নিজেদের প্রস্তুত করতে সক্ষম হবে।বিগত ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকা বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ৯ কোটি ৩২ লাখ ২৫ হাজার ৮২০ জন মানুষের বসবাস। বিশাল এই জনগোষ্ঠীর কাছে বন্যা-জলোচ্ছ্বাসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের তাৎক্ষণিক খবর পাওয়ার মাধ্যম বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনের খবর এবং বেসরকারি টেলিভিশন। এর বাইরে আছে ৮টি কমিউনিটি রেডিও। কিন্তু এ রকম দুর্যোগ-দুর্বিপাকের সময়েও রেডিও উপকূলীয় মানুষের কোনো কাজে আসছে না।
কমিউনিটি রেডিওগুলো উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের খবরসহ ঘূর্ণিঝড় এবং অন্যান্য দুর্যোগের পূর্বাভাস প্রচার করে থাকে। কিন্তু এদের সম্প্রচার সক্ষমতা কম এবং দেশে রেডিওর ব্যবহার তেমন না থাকায় কমিউনিটি রেডিও মানুষের তেমন কাজে আসছে না। ফলে উপকূলের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলো রেডিওর বার্তা থেকে বঞ্চিত থাকছে। তাদের নির্ভর করতে হচ্ছে সরকারি ও বেসরকারি প্রচার মাধ্যমের ওপর। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ১৯টি উপকূলীয় জেলায় প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ মানুষের বসবাস। এর মধ্যে কয়েকটি জেলার অবস্থান উপকূলীয় অঞ্চলের কাছাকাছি এবং কয়েকটি জেলা উপকূলের অংশ।
কমিউনিটি রেডিওসংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপকূলীয় অঞ্চলে কমিউনিটি রেডিওগুলোর এই কার্যক্রম স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রাকে উন্নত করতে এবং দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সংবাদ শুনে মানুষ দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে পারেন বা ত্রাণ-সহায়তা পেতে পারেন। কিন্তু কমিউনিটি রেডিও প্রচারের নীতিমালা অনুযায়ী কমিউনিটি রেডিওগুলোর সম্প্রচার সক্ষমতা বেশি নয়। দুর্বল ট্রান্সমিশন ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং দুর্বল অবকাঠামোর কারণে কমিউনিটি রেডিওগুলো দুর্যোগের খবর পুরো উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারছে না। এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি বিজ্ঞাপন বা আয়ের উৎস না থাকায় স্টেশনগুলো চলমান রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন উদ্যোক্তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগের বরগুনা সদরের লোকবেতার, আমতলী উপজেলার কৃষি রেডিও, ভোলার চরফ্যাশনের রেডিও মেঘনা এবং খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরায় রেডিও নলতা নামে কমিউনিটি রেডিও চালু আছে। লোকবেতারের সম্প্রচার এলাকা মাত্র ৫১ কিলোমিটার, কৃষি রেডিওর ৪৫, রেডিও মেঘনার সাড়ে ১৭ এবং নলতার ৪১ কিলোমিটার। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকার দূরত্ব এর চেয়ে অনেক বেশি। দেশে দিনে দিনে রেডিওর ব্যবহার কমে যাওয়ায় কমিউনিটি রেডিও শ্রোতা পাচ্ছে না। বিভিন্ন দাতা সংস্থার আর্থিক সহায়তায় উপকূলীয় রেডিও কোনো রকমে টিকে আছে।

জন্মভূমি ডেস্ক April 3, 2026
Share this Article
Facebook Twitter Whatsapp Whatsapp LinkedIn Email Copy Link Print
Previous Article উপকূলীয় অঞ্চলই টেকসই অর্থনীতির ভিত্তি
আরো পড়ুন
সাতক্ষীরা

দুর্যোগ প্রস্তুতিতে লড়ব তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়ব’

By জন্মভূমি ডেস্ক 1 hour ago
শীর্ষ খবর/ তাজা খবরসাতক্ষীরা

উপকূলীয় অঞ্চলই টেকসই অর্থনীতির ভিত্তি

By জন্মভূমি ডেস্ক 4 hours ago
আন্তর্জাতিক

ইরানের সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়কের নির্দেশ: শত্রুরা স্থল হামলার চেষ্টা করলে একজনও যেন বাঁচতে না পারে

By Tanvir 12 hours ago

দিনপঞ্জি

April 2026
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
« Mar    

এ সম্পর্কিত আরও খবর

শীর্ষ খবর/ তাজা খবরসাতক্ষীরা

উপকূলীয় অঞ্চলই টেকসই অর্থনীতির ভিত্তি

By জন্মভূমি ডেস্ক 4 hours ago
সাতক্ষীরা

উপকূলের লোনা পানির চিংড়ি চাষ ,কারো সর্বনাশ ,কারো বাজিমাত

By Correspondent 1 day ago
সাতক্ষীরা

শ্যামনগরে বেড়েছে বোরো আবাদ

By জন্মভূমি ডেস্ক 1 day ago

প্রকাশনার ৫৫ বছর

দৈনিক জন্মভূমি

পাঠকের চাহিদা পূরণের অঙ্গীকার

রেজি: কেএন ৭৫

প্রধান সম্পাদক: লে. কমান্ডার (অব.) রাশেদ ইকবাল

অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক: আলি আবরার

প্রকাশক: আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত

ইমেইল– janmokln@gmail.com           অনলাইন নিউজরুম-০১৬১১৬৮৮০৬৪        রফিকুজ্জামান বার্তা কক্ষ ০৪১-৭২৪৩২৪

Developed By Proxima Infotech and Ali Abrar

Removed from reading list

Undo
Welcome Back!

Sign in to your account

Lost your password?