জন্মভূমি ডেস্ক : দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে নারী ও শিশুসহ ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ মে) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নরসিংদী, পাবনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুড়িগ্রাম, সুনামগঞ্জ ও চাঁদপুরের পৃথক পৃথক স্থানে এসব বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে নরসিংদীতেই মারা গেছেন পাঁচজন। এছাড়া পাবনায় দুইজন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুইজন, কুড়িগ্রামে দুইজন, সুনামগঞ্জে একজন ও চাঁদপুরে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৬ জন।
॥ নরসিংদী-৫॥
নরসিংদীতে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে নারী ও শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে ভারী বর্ষণসহ অতিমাত্রায় বজ্রপাতে জেলার রায়পুরা, মনোহরদী, শিবপুর ও সদর উপজেলার পৃথক পৃথক স্থানে এসব বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।
মৃতরা হলেন- রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ফকিরের চর গ্রামের মোমরাজ মিয়ার স্ত্রী সামসুন্নাহার (৪৫), একই উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মিয়ার ছেলে জাবেদ মিয়া (১২), মনোহরদী উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের পাতরদিয়া গ্রামের মৃত বাদল মিয়ার ছেলে প্রবাস ফেরত রায়হান মিয়া (২৫), নরসিংদী শহরের পশ্চিমকান্দা পাড়া মহল্লার সুকুমার রায়ের ছেলে শুপ্তকর (১৪) ও শিবপুরের দক্ষিণ সাদারচর গ্রামের খোরশেদ মিয়ার ছেলে খোকন মিয়া (৩০)।
॥ পাবনা-২ ॥
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় মাঠে কাজ করা অবস্থায় বজ্রপাতে ২ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার বেতুয়ান গ্রামে ধান কাটার সময় এ ঘটনা ঘটে।
মৃতরা হলেন-চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা গ্রামের বাসিন্দা শাকিল হোসেন (১৯) ও রমিজ উদ্দিন (৩০)। এ সময় বজ্রপাতে আরও অন্তত ১৩ জন আহত হন। আহতদের ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত শ্রমিকরা জানান, দিলপাশার ইউনিয়নের বেতুয়ান গ্রামের বাওনজান এলাকায় বোরো ধান কাটছিলেন ১৫ জন শ্রমিক। ওই এলাকায় মঙ্গলবার বিকেলে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে প্রচন্ড বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এতে শ্রমিকরা পাশের একটি উন্মুক্ত খোলা ঘরে আশ্রয় নেন। কিছুক্ষণ পরে বজ্রপাতে ওই ঘরে অবস্থান করা ৫ জন শ্রমিক মারাত্মক আহত হন। এ সময় অন্যান্য শ্রমিকরা তাদের উদ্ধার করে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে সন্ধ্যায় বেতুয়ান গ্রামের আহত ৫ শ্রমিকসহ বজ্রপাতে আহত উপজেলার ছোট বিষাকোল ও পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর উপজেলার আল্লাহবাদ গ্রামের আরও আটজনকে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
॥ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ॥
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সোনাতলা গ্রাম ও মানিকপুরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে বজ্রপাতে মোজাম্মেল হক (৩২) নামের এক ইটভাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয। মোজাম্মেল হক ওই গ্রামের মতি মিয়ার ছেলে। গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজহার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ কে মিত্র চাকমা জানান, দুপুরে উপজেলার মানিকপুরে জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মনু মিয়া নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
॥ কুড়িগ্রাম-২ ॥
কুড়িগ্রামের উলিপুর ও চিলমারী উপজেলায় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মাঠে কাজ করতে গিয়ে তাদের মৃত্যু হয়।
মৃতরা হলেন, উলিপুর শাহাজালাল (৪৫) অপরজন চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বাগানবাড়ী এলাকায় অবরু শেখ (৫০)।
রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য বাচ্চু মিয়া জানান, তার ওয়ার্ডের চর উদনায় ধান কাটতে গিয়ে চার কৃষক বজ্রপাতে আহত হন। এ সময় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে অবরু শেখ মারা যান। পরে অন্যদের উলিপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়ছে। আহতরা হলেন, ফুলবাবু, আম্মর আলী ও আশরাফুল ইসলাম।
অপরদিকে, উলিপুর উপজেলায় বাদাম ক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে থেতরাই ইউনিয়নের চর গোড়াইপিয়ারে শাহাজালাল নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি দলদলিয়া ইউনিয়নের গণক পাড়ার রহিজউদ্দিনের ছেলে।
উলিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আশরাফুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
॥ সুনামগঞ্জ- ১॥
সুনামগঞ্জে নদীপথে ট্রলারে ধান পরিবহনের সময় বজ্রপাতে ওমর মিয়া (১৬) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ধর্মপাশা উপজেলার ৪ নং জয়শ্রী ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের সীমের খাল (বরাইয়া) নদীতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন।
মৃত ওমর মিয়া ধর্মপাশা উপজেলার বাদে হরিপুর গ্রামের মৃত আলিম উদ্দিনের ছেলে। ওমর জয়স্রী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র ছিল। আহতরা হলেন, বাদে হরিপুর গ্রামের শাহীন, কালাচান ও আবুল কাশেম।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, সকালে ধান নিয়ে মধ্যনগর যাওয়ার পথে ট্রলারে বজ্রপাতে একজন নিহত হয়েছে। সঙ্গে থাকা আরও ৩ জন আহত হয়েছেন। আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ আছেন। নিহতের ব্যাপারে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে।
॥ চাঁদপুর-১ ॥
চাঁদপুর সদর উপজেলায় বজ্রপাতে মো. হাছান মিজি (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার ৫ নং রামপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ছোটসুন্দর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত হাছান মিজি ওই গ্রামের গফুর মিজি বাড়ির মৃত মো. কলোমদ্দিন মিজির ছেলে। তিনি পেশায় দিনমজুর ছিলেন। চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে রামপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আল মামুন পাটওয়ারী জানান, দুপুরে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে নিজ বসতবাড়ির বাগানে আম কুড়াতে গিয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত