
মোঃ এজাজ আলী : কম্বলসহ বিভিন্ন শীত নিবারনী বস্ত্রের বাজার খ্যাত নগরীর নিক্সন (রেলওয়ে) মার্কেটে বেচাকেনা জমে উঠেছে। আশেপাশের এলাকায় শীতও পড়েছে। রাস্তাঘাটে কিছু মানুষকে গরম কাপড় পরেও চলাফেরা করতে দেখা গেছে। খুলনাসহ সারাদেশে শীত এখনও জেঁকে না বসলেও আগামী কয়েকদিনের মধ্যে শীত জেঁকে বসতে পারে এমন আশংকায় অনেকেই শীতের কাপড় কিনতে ফুটপাত থেকে শুরু করে বিভিন্ন শপিংমলে ছুটছেন।
শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে বেশি শীত পড়তে শুরু করায় কম্বলের চাহিদা বেড়েছে। নগরীর নিক্সন মার্কেটে অপেক্ষাকৃত কম দামে কম্বল কেনার একটি ভালো মার্কেট। এ মার্কেটে শীত পড়ার আগেই আরও কমপক্ষে ১৫ দিন আগে থেকেই কম্বলের বেচাকেনা শুরু হয়েছে। খুলনাসহ আশেপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা আগে থেকেই কম্বল কিনে মজুদ করে রাখছেন। গত দুই দিনে বেচাকেনা আরও বেড়েছে।
গতকাল রোববার নগরীর নিক্সন মার্কেট, রেলওয়ে মার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন দোকানে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের বেশি ভিড়। কম্বল কিনতে পাইকারি ব্যবসায়ীরা সহ ক্রেতারা ভিড় করছেন দোকানগুলোতে। কোনো কোনো ব্যবসায়ী নিজে এসে মালামাল বুঝে নিয়ে ভ্যানগাড়িতে তুলে নিচ্ছেন। ফয়সাল নামের একজন ব্যবসায়ী জানান, তার দোকানে বছরে আট নয় মাস শার্ট ও গেঞ্জি বিক্রি করেন। অবশিষ্ট চারমাস কম্বল বিক্রি করেন। তিনি জানান, কম্বলের বেচাকেনা আরও মাসখানেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে। সারাদেশে যারা শীতকালে কম্বল বিক্রি করেন তারা আগে থেকেই মালামাল কিনে মজুদ করে রাখেন। বেচাকেনা মোটামুটি ভালো, মার্কেট ৫০০ থেকে ২০০০ টাকা দামের কমাবলের ক্রেতারাই বেশি। হোসনে আরা নামের একজন গৃহবধূ স্বামীকে নিয়ে এসে ১ হাজার ৮০০ টাকায় একটি কম্বল কিনেন। আলাপকালে তিনি বলেন, ডাক্তার দেখাতে এসে তিনি কম্বল কিনে নিচ্ছেন বলে জানান।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শুধু কম্বলই নয়, নগরীর বিভিন্ন মার্কেটগুলোতে অন্যান্য শীতবস্ত্র, সোয়েটার, জ্যাকেট, শাল, ট্রাইজার- ট্রাকস্যুটের দোকানেও ক্রেতারাও ভিড় করছেন। বিশেষ করে শিশুদের শীতের কাপড়ের দোকানে বেশি ভিড়। ক্রেতারা জানান, শীত জেঁকে বসার আগেই কিনলে অপেক্ষাকৃত কম দামে কেনা যায়। শীত বাড়লে শীতবস্ত্রের দামও বাড়বে।

