
জন্মভূমি ডেস্ক : নগরীতে ইয়াবা সরবরাহের অন্যতম প্রধান পাইকার মোঃ সজিবকে প্রায় দশ হাজার পিস ইয়াবাসহ সিন্ডিকেটের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬। সোমবার দিবাগত রাতে রূপসা টোলপ্লাজা এলাকা থেকে প্রাইভেটকারসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় রূপসা থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে সজিবের ইয়াবা সিন্ডিকেটের সক্রিয় বিক্রেতা তার ভাই আশিক, চানমারী গ্রীন বয়েজ ক্লাবের পশ্চিমপাশের জাহিদের ছেলে সুরুজ ও ওই ক্লাবের ডানপাশের মনুর ছেলে অপুসহ কয়েকজন গা-ঢাকা দিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো নগরীর চানমারী বাজার দ্বিতীয় গলির বাসিন্দা মোঃ মশিউর রহমানের ছেলে মোঃ সজিব (৩০), লবণচরা এলাকার ফারহানা ফেরদৌসী (২৭) ও রূপসা শ্মশান গলির বাসিন্দা মোঃ ইলিয়াস গাজীর ছেলে মোঃ সুমন গাজী (৩১)। তাদের কাছ থেকে ৯ হাজার ৩৫০পিস ইয়াবা, তিনটি মোবাইল সেট এবং জাপানী টয়েটা CHR-HYBRID প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাতে গোপন খবরের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে, ঢাকা মেট্রো ঘ-২২-১২৮০, জাপানী টয়েটা CHR-HYBRID প্রাইভেটকারে কতিপয় ব্যক্তি ইয়াবার চালান নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে আসছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে রূপসা থানাধীন খানজাহান আলী (রূপসা) সেতুর টোল প্লাজার পূর্ব পাশে পাকা রাস্তার উপর অবস্থান নেয় র্যাব। প্রাইভেটকারটি রূপসা সেতুর টোল প্লাজার পূর্ব পাশে ৫নং লেনের পাকা রাস্তার উপর পৌঁছানো মাত্র র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রাইভেটকারটি থামিয়ে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করলে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৯ হাজার ৩৫০পিস ইয়াবা ও ৩টি মোবাইল সেট এবং জাপানী টয়েটা CHR-HYBRID প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে এনে খুলনা শহরে ইয়াবা পাইকারী হিসেবে বিক্রি করে মোঃ সজীব বহু টাকা-পয়সার মালিক হয়েছেন। চাঁনমারী বাজার দ্বিতীয় গলিতে পৈতৃক নিবাস ছেড়ে সোনাডাঙ্গা আবাসিকে নিজেদের বাড়ি কিনে সেখানেই বসবাস করে। ক্রসফায়ারে নিহত জুলফিকার ডাকাতের (সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু) দ্বিতীয় স্ত্রী জুলেখা সজীবের মা। সোনাডাঙ্গা আবাসিকে পুলিশ ঝামেলা করলে খুলনা সদর থানাধীন চাঁনমারী এলাকার বাড়িতে অবস্থান করে ইয়াবা সিন্ডিকেটের হোতা সজীব। তাকে গ্রেফতারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে মুহূর্তেই গা ঢাকা দিয়েছে সজীবের ভাই আশিক (২৮)। চাঁনমারী এলাকার কিশোর গ্যাং লিডার আশিক নগরীতে ইয়াবা পাইকারী ও খুচরা ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিয়ে থাকেন। এলাকার চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা অপু ৩০নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বলে সূত্রে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, চানমারী বাজারের মিষ্টির দোকানের উপরে, আহমাদিয়া স্কুলের পাশের খাম্বায়, চানমারী দ্বিতীয় কালভার্টের পাশে, চানমারী বাজার গ্রীন বয়েজ ক্লাবের সামনে ও মেসের সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে অনলাইন সংযুক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা আছে এই ইয়াবা সিন্ডিকেটটির। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের যাতায়াতের দৃশ্য দেখে সতর্কাবস্থায় থাকে তারা।