
জন্মভূমি রিপোর্ট : নগরীর হরিণটানা থানায় দায়ের হওয়া গৃহবধূ শামিমা আক্তার (১৯) হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে পুলিশ নিহতের স্বামী সাঈদুর রহমান (২২) কে খুঁজছে। স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন হয়েছে, প্রাথমিকভাবে এই ক্লুকে সামনে রেখে পুলিশ তদন্ত কাজ চালাচ্ছে। যদিও পারিপার্শিক অন্যান্য সূত্র বিবেচনায় রেখেও তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।
গত ৪ জুলাই রায়েরমহল আন্দিরঘাট ব্রিজ এলাকার একটি কাশবন হতে শামিমার মরদেহ উদ্ধার হয়েছিল। তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের পিতা মোঃ বাবুল আক্তার ৫ জুলাই অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত ৩ জুলাই বিকেলে ভিকটিম আড়ংঘাট থানাধীন বয়রা বাজার এলাকার পিতা-মাতার ভাড়া বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন। এর সপ্তাহ খানেক আগে তিনি স্বামীর সাথে কলহের জেরে শ্বশুরবাড়ী কয়রা উপজেলার মদিনাবাদ গ্রাম হতে বাবা-মায়ের বাসায় এসে উঠেছিলেন। নিহতের পরিবারের সদস্যদের দেয়া তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ এসব তথ্য জানিয়েছেন।
সূত্রমতে, গত চার-পাঁচ মাস আগে কয়রা উপজেলার বামিয়া গ্রামের বাসিন্দা শামিমার সাথে পাশর্^বর্তী ২ নং কয়রার মদিনাবাদ গ্রামের আব্দুর রহিম মোল্লার ছেলে সাঈদুরের বিয়ে হয়। সাঈদুর অসামাজিক ছিলেন এবং উচ্ছৃঙ্খল জীবন-যাপন করতেন। কোনো উপার্জনও করতেন না। এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝে-মধ্যেই ঝগড়া হতো। এর জেরে গৃহবধূ শামিমা আগেও দুই-একবার বাবার বাসায় চলে এসেছিলেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন দৈনিক জন্মভূমিকে বলেন, লাশ উদ্ধার হওয়ার স্থান হতে উল্লেখযোগ্য কোনো আলামত উদ্ধার হয়নি। তবে, মরদেহ থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ টেস্টের জন্য সিআইডি’র ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। সন্দেহভাজন আসামিকে গ্রেফতার এবং হত্যাকাণ্ডের মোটিভ উদঘাটনের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে থানা পুলিশের একটি টিম সন্দিগ্ধ ঘাতককে গ্রেফতারের জন্য অভিযান পরিচালনা করছিলেন।