
জন্মভূমি রিপোর্ট : খুলনায় চেক ও স্ট্যাম্প জালিয়াতি চক্রের সন্ধান মিলেছে। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারী করেছে আদালত। চক্রটিকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই প্রতারক চক্রের মূল হোতা মোঃ সাজ্জাদ হোসেন ও তার অন্যতম সহকারী অনিক পারভেজ। তাদের ফাঁদে পড়েন ঢাকার ব্যবসায়ী মোঃ সরোয়ার হোসেন খান ও তার ভাই মোঃ মুশফিকুর রহমান।
অভিযূক্ত সাজ্জাদ হোসেন প্রায়সই মুশফিকুর রহমানকে স্বল্প পুঁজিতে অধিক লাভের বিভিন্ন ব্যবসায়ের প্রলোভন দেখাতেন। এক পর্যায়ে তার বড়ভাই ১০ লাখ টাকা দিতে রাজি হন। পরবর্তীতে সাজ্জাদ গত বছরের এপ্রিল মাসের ২৫ তারিখ নগদ ৩ লাখ , জুনের ১৫ তারিখ নগদ ৩ লাখ এবং ৪ লাখ টাকার একটি ব্যাংক চেক গ্রহণ করে। নগদ ৬ লাখ টাকা ও ৪ লাখ টাকার ব্যাংক চেক নিয়ে সাজ্জাদ মিডল্যান্ড ব্যংকের ৬ লাখ টাকার একটি চেক দেয় (একাউন্ট নং-০০২৩১৭৫০০০৫২৭৭)। পাশাপাশি ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্টাম্প প্রদান করে।
স্ট্যাম্পে উল্লেখিত সময়সীমা অতিক্রম করায় গত বছরের ১লা অক্টোবর তার নিকট টাকা ফেরত চাইলে নানা তালবাহানা শুরু করে ও হত্যার হুমকি দেয়। ২ অক্টোবর ২০২২ তারিখ সাজ্জাদের দেয়া ৬ লাখ টাকার চেকটি মিডল্যান্ড ব্যাংকের শিববাড়ী মোড় শাখায় জমা করেন বাদী মুশফিক। কিন্তু অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণ দেখিয়ে চেকটি ডিজঅনার করে ব্যাংক।
চেক ডিজঅনার হওয়ায় আইনজীবীর মাধ্যমে ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর আসামীকে নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট এ্যান্টের ১৩৮ ধারায় লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করে বাদী। ১০ অক্টোবর সেই লিগ্যাল নোটিশ গ্রহণ করে কিন্তু কোন প্রকার টাকা পরিশোধ করেনি আসামী সাজ্জাদ। উল্টো টাকা চাওয়াতে নানা হুমকি দেয় সাজ্জাদ গং।
ত্রিশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরে ৮ নভেম্বরে এন আই এক্টের ১৩৮ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। যার নং-৬৮৯/২২। এছাড়া ২৫ অক্টোবর সাজ্জাতের নামে চেক ও স্ট্যাম্প জাল জালিয়াতি করার অভিযোগে সোনাডাঙ্গা থানা আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। যার নং ৬২৩/২২. আদালত মামলাটির তদন্তভার পি বি আই কে প্রদান করে।
তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই এসআই মোঃ মহিদুল ইসলাম তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ব্যবসায় বিনিয়োগ করার কথা বলে সাজ্জাদ হোসেন ও অনিক পারভেজ পাভেল বাদী মুশফিকুর রহমানের নিকট থেকে নগদ ৬ লাখ ও ৪ লাখ টাকার একটি ব্যাংক চেক গ্রহণ করেন। বিনিময়ে সাজ্জাদ নিজস্ব ব্যাংক এ্যাকাউন্টের ৬ লাখ টাকার অংক বসিয়ে একটি চেকের পাতা হু-বহু জাল করে মুশফিককে দেয়।
পিবিআই’র পাঠানো তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই করে গত ৫ জুন সাজ্জাদ হোসেন ও অনিক পারভেজ পাভেলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানাজারী করে আদালত। এখবর শোনার পরে গা ঢাকা দেয় সাজ্জাদ ও তার চক্রের সদস্যরা।
এবিষয়ে খালিশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মুনির-উল-আযম গিয়াস এ প্রতিবেদককে জানান, আসামীদের ধরার জন্য আমরা সর্বত্র চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।