
জন্মভূমি রিপোর্ট : নগরীর একই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সহ তিন পুলিশ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জ্ঞাত আয়বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এ অনুসন্ধানে নেমেছেন তারা। দুদক কর্মকর্তারা অবশ্য জানিয়েছেন, এসব অভিযোগের সত্যতা মিললে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলাসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা দুদক কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সোনাডাঙ্গা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মমতাজুল হক, একই থানার সাব-ইন্সপেক্টর সুকান্ত দাশ এবং সোনাডাঙ্গা থানার অধীন বয়রা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই পলাশ মৈত্র।
সূত্রটি জানায়, কেএমপির সোনাডাঙ্গা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মমতাজুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ঘুষ, দুর্নীতি ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। যার মাধ্যমে নিজ নাম, স্ত্রী মমতাজ রেহেনা ও মেয়ে লাইবা মমতাজের নামে কোন প্রকার জমি, প্লট, ফ্ল্যাট ক্রয়-বিক্রয় ও লিজ প্রদান হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মমতাজুল হক সাতক্ষীরা জেলা সদরের মধুমল্লারডাংখী-পলাশপুর গ্রামের মোঃ আতাউল হক বিশ্বাসের সন্তান।
কেএমপির সোনাডাঙ্গা মডেল থানার সাব-ইন্সপেক্টর সুকান্ত দাশের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তিনি ঘুষ, দুর্নীতি ও মাদক ব্যবসা করে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। ফলে তার, স্ত্রী রাখী দাশ এবং সন্তান সৌর দীপ্ত দাশের নামে জমি, প্লট, ফ্ল্যাট ক্রয়-বিক্রয় ও লিজ রয়েছে কি না তা অনুসন্ধান হচ্ছে। সুকান্ত দাশ খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার দক্ষিণ কালিকাপুর গ্রামের শত্রুঘ্ন দাশের সন্তান।
একই অভিযোগে সোনাডাঙ্গা বয়রা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই পলাশ মৈত্র ও তার স্ত্রী ইসমিতা রানী মন্ডল ও সন্তান প্রত্যয় মৈত্রের নামে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্ত করছে দুদক। পলাশ মৈত্র বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার ১০৮-০৬ সুন্দরপুর রোডের বাসিন্দা।
অভিযোগ প্রাপ্তি ও তদন্তের সত্যতা স্বীকার করে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তরুন কান্তি ঘোষ বলেন, অভিযোগ দাখিলের পর অনুমোদনের জন্য হেড অফিসে প্রেরণ করা হয়। অনুমোদন পাওয়ার পর সত্যতা অনুসন্ধানে চলতি মাসের ১৩ তারিখে বিভিন্ন ব্যাংক ও সরকারি দপ্তরগুলোতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিগুলোর জবাব পাওয়ার পর অভিযোগ সত্য, না মিথ্যা তা প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হবে। তখন মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেএমপির সোনাডাঙ্গা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মমতাজুল হক এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মোঃ মোজাম্মেল হক বলেন, তিনি সদ্য যোগদান করেছেন। তাই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হননি। তবে বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেবেন তিনি।