
জন্মভূমি রিপোর্ট : দেশের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম পাইকারী ওষুধের বাজার মহানগরী খুলনার হেরাজ মার্কেটের বিভিন্ন দোকানে অবৈধভাবে ভারত থেকে আসা ওষুধ ও ইনজেকশন বিক্রি হচ্ছে| এরমধ্যে নিষিদ্ধ টাপেনটাডল ট্যাবলেট মাদকাসক্তরা ব্যবহার করছেন| আরেকটি ট্যাবলেট এটিভেন -২ অজ্ঞান পার্র্টির সদস্যরা ব্যবহার করছেন| তারা মানুষকে অচেতন করে কাছে থাকা সর্ব¯^ হাতিয়ে নিচ্ছেন| এই দুটি ওষুধ কয়েকগুন বেশি দামে বিক্রি হয়| অন্যদিকে, একই ভাবে আসা ইনজেকশন দীর্ঘ সময় ফ্রিজের বাইরে থাকায় কার্যকারিতা হারাচ্ছে| ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন|
এদিকে, গরীব রোগীদের মাঝে বিনামূল্যে সরবরাহ করার জন্য বিভিন্ন কোম্পানি চিকিৎসকদের স্যাম্পল ওষুধ দেন, বিক্রি নিষিদ্ধ হলেও তা এই মার্কেটে বিক্রি হয়| গ্রাম-শহরের খুচরা ব্যবসায়ীরা সেগুলো ¯^ল্প দামে কিনে মোটা অংকের লাভে বিক্রি করেন| মার্কেটে পাশর্^বর্তী দেশ থেকে পাচার হয়ে আসা ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, ইনজেকশনসহ স্যাম্পল ওষুধের গোডাউন রয়েছে| ওষুধের ব্যবসা সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে|
টাপেনটাডল ট্যাবলেট নেশার দ্রব্য হিসেবে ব্যবহার শুরুর প্রেক্ষাপটে গত কয়েক বছর আগে সরকার এর উৎপাদন, বিপনন ও বাজারজাতকরণের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে| তখন থেকে এটা মাদক দ্রব্য হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে| কিন্তু মাদক চক্রের সদস্যরা ভারত থেকে চোরাই পথে এ ওষুধ নিয়ে আসছে| তারা ওগুলো অসাধু ওষুধ ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করছেন| ব্যবসায়ীরা ˆবধ ওষুধ ব্যবসার আড়ালে এ মাদকের কারবার করছেন| মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা ˆদনিক জন্মভূমিকে এসব কথা বলেন|
কয়েকটি সূত্র জানান, ইয়াবা ট্যাবলেটে আসক্তরা বিকল্প নেশা হিসেবে টাপেনটাডল সেবন করছে| অসাধু ওষুধ ব্যবসায়ীরা কয়েকগুন বেশি দামে তাদে কাছে এ নিষিদ্ধ ওষুধ বিক্রি করছেন| তারা প্রতি পিস ট্যাবলেট ১শ-দেড়শ টাকায় কিনে ৬/৭শ’ টাকা দরে বিক্রি করছেন|
ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এটা মারাত্মক পর্যায়ের পেইন কিলার| যা সেবনের পর হৃদ স্পন্দন বেড়ে যায়| তলপেটে অ¯^স্তি হয়| মনযোগ বিঘ্নিত হয় ও ঝিম-ঝিম ভাব লাগে|
গত বছর ২১ মে খুলনা সদর থানা পুলিশের একটি টিম এস আর লেন হেরাজ মার্কেটে অভিযান চালিয়ে ৩শ’ ১০ পিস টাপেনটাডল ট্যাবলেটসহ আরাফাত হোসেন (২৫) নামে এক মাদক কারবারীকে গ্রেফতার করেছিল| এছাড়া বিভিন্ন সময় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে কয়েকজন গ্রেফতার হয়েছে বলে জানা গেছে|
হেরাজ মার্কেটের ২০/২৫ জন অসাধু ব্যবসায়ী এ কারবারে সরাসরি জড়িত| তারা চোরাকারবারীদের কাছে অর্ডার দেবার সপ্তাহ খানেকের মধ্যে ওষুধ-ইনজেকশন পৌছে যায়| তবে, সার্বক্ষনিক ফ্রিজিং সিস্টেমে রাখা ইনজেকশনগুলো সিমান্ত পার হয়ে দোকানে পৌছানো পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কার্যকারিতা হারায়| একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং ওষুধ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে|
অপরদিকে, এ মার্কেটের অসাধু ব্যবসায়ীরা চিকিৎসকদের কাছ থেকে বিনামূল্যের স্যাম্পল ওষুধ ¯^ল্প দামে কিনে গুদামজাত করেন| যা ছড়িয়ে পড়ছে শহর ও গ্রামের খুচরা দোকানগুলোতে| সেখানকার বিক্রেতারা আাঁধা-আঁধি অথবা তার থেকেও বেশি লাভে স্যাম্পল ওষুধ বিক্রি করছেন| সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে|
সূত্রমতে, দোতলার এবং তিন তলার বিভিন্ন গোডাউনে স্যাম্পল ওষুধ রক্ষিত আছে| ভারত থেকে অবৈধ ভাবে আনা ওষুধ ও ইনজেকশন দোকানগুলোতে সামান্যই রাখা হয়| সেগুলো গুদামে থাকে| চোরাকারবারী চক্রের সদস্যরা খুব ভোরে, গভীর রাতে অথবা যে কোন সুবিধাজনক সময়ে ব্যবসায়ীদের কাছে চাহিদা মোতাবেক ওষুধ- ইনজেকশন পৌছে দেয়|
বিক্রি নিষিদ্ধ ওষুধ-ইনজেকশন বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করে ওষুধ প্রশাসনের খুলনা জেলা ড্রাগ সুপার মোঃ সাদ্দাম হোসেন ˆদনিক জন্মভূমিকে বলেন, গত কয়েক মাস আগেও হেরাজ মার্কেটে অভিযান পরিচালিত হয়েছে| তখন একজন অসাধু ব্যবসায়ীকে মোবাইল কোর্ট অর্থদণ্ড করেন|
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত