
জন্মভূমি ডেস্ক : আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নড়াইলের দুটি আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা।
নড়াইল-১ ও নড়াইল-২ আসনে মোট ১১জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র চারজনসহ মোট ১৫ জন প্রার্থী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। এর মধ্যে নড়াইল-১ আসনে পাঁচজন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র দুইজন প্রার্থী এবং নড়াইল-২ আসনে ছয়জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র দুইজন প্রার্থী রয়েছেন।
ক্রিকেট তারকা মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা নড়াইল-২ আসনে প্রার্থী হওয়ায় ভোটের আলোচনায় এ জেলার নাম এখন সবার মুখে মুখে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট চাইছেন তিনি। নৌকায় ভোট চাওয়ার পাশাপাশি ভোটের দিন সকলকে কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোট প্রদানের অনুরোধও জানাচ্ছেন প্রতিটি পথসভায় ও গণসংযোগকালে। গত ২৪ ডিসেম্বর থেকে ভোট চেয়ে তার নির্বাচনী এলাকা লোহাগড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও নড়াইল সদর উপজেলার ৮ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম-গঞ্জে কখনো পায়ে হেঁটে কখনো মোটরসাইকেলযোগে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিরামহীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। জেলার কৃতি সন্তান দেশ-বিদেশের জনপ্রিয় ক্রিকেট তারকা মাশরাফীকে প্রতিনিয়ত কাছে পেয়ে আনন্দে উদ্বেলিত ভোটাররা।
নড়াইল সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন এবং কালিয়া পৌরসভাসহ কালিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নড়াইল-১ আসন। এই আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হচ্ছেন বি.এম.কবিরুল হক মুক্তি। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর মরহুম এখলাচ উদ্দিনের কনিষ্ঠ পুত্র। গত তিনবারের সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তি প্রতিদিন বিভিন্ন নির্বাচনী পথসভা ও উঠান বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন এবং নৌকার পক্ষে ভোট চাইছেন। একইসাথে সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরছেন।
নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পাশাপাশি এই আসনে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী হাতুড়ী প্রতীক নিয়ে মো. নজরুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল নিয়ে মো. মিল্টন মোল্যা, জাতীয় পার্টির (জেপি) বাইসাইকেল প্রতীক নিয়ে শামিম আরা পারভীন (ইয়াসমীন), তৃণমূল বিএনপির সোনালী আঁশ প্রতীক নিয়ে শ্যামল চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী সিকদার মো. শাহাদাত হোসেন মাথাল প্রতীক নিয়ে। দিনরাত ভোটারদের কাছে ছুটছেন তারা। এ আসনে বি.এম কবিরুল হক মুক্তির স্ত্রী চন্দনা হক স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলন করে স্বামীকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে গেছেন।
লোহাগড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও নড়াইল পৌরসভাসহ সদর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নড়াইল-২ আসন। এখানে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ক্রিকেট তারকা মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। গত ৫ বছর ধরে তিনি এই আসনের সংসদ সদস্য। এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নও করেছেন। ভোটের সমীকরণে অন্য প্রার্থীদের তুলনায় হ্যাভিওয়েট প্রার্থী মাশরাফী অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। তার প্রচেষ্টায় নড়াইলে আইটি পার্ক, ইঞ্জিনিয়ার কলেজ, নড়াইল সদর হাসপাতাল ২৫০শয্যায় উন্নীতকরণ, নড়াইল শহরের ফোরলেন সড়ক, পাসপোর্ট অফিসের নিজস্ব নতুন ভবন, নার্সিং কলেজ, নড়াইল পৌরসভার নতুন ভবনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে। নড়াইলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইকোনোমিক জোন স্থাপনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব কারণে মাশরাফীর বিকল্প কোন প্রার্থীকে নিয়ে তেমন একটা ভাবছেন না ভোটাররা। এছাড়া এ আসনে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী শেখ হাফিজুর রহমান হাতুড়ী প্রতীকে, জাতীয় পার্টির প্রার্থী খন্দকার ফায়েকুজ্জামান (ফিরোজ) লাঙ্গল প্রতীকে, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, এনপিপির প্রার্থী মো. মনিরুল ইসলাম আম প্রতীকে, গণফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী মো. লতিফুর রহমান মাছ প্রতীকে, ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান মিনার প্রতীকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ ফয়জুল আমির (লিটু) ট্রাক প্রতীকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নুর ইসলাম ঈগল প্রতীকে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।এসব প্রার্থীরা গণ-সংযোগ, উঠান বৈঠক, পথসভা, লিফলেট বিতরণসহ নানান প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন বিভিন্ন প্রচারণায় সরগরম এই আসনটি।
পোস্টারে ছেয়ে গেছে দু’টি আসনের বিভিন্ন অলি-গলি। তবে প্রচরণার ক্ষেত্রে নৌকা মার্কার প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। বিভিন্ন হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লা-চায়ের দোকানসহ সর্বত্রই আলোচনা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে।
জেলা নির্বাচন অফিসার মো. জসিম উদ্দিন জানান, নড়াইল-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪০৩ জন। কেন্দ্র সংখ্যা ১১০।বুথ সংখ্যা ৬৩০।
নড়াইল-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭২৯ জন। এই আসনে কেন্দ্র সংখ্যা ১৪৭। বুথ সংখ্যা ৮১১।
জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরী বলেন, নির্বাচনে আচরণবিধি প্রতিপালনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে কাজ করছেন। আচরণবিধি লঙ্ঘন হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেয়া হচ্ছে না। পুলিশ, বিজিবি, র্যা বসহ অনান্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে কাজ করছে। শান্তিপূর্ণভাবেই চলছে নির্বাচনী প্রচারণা।