
হুমায়ুন কবীর রিন্টু, নড়াইল: নড়াইলে রাস্তা নির্মান কাজে দুর্নীতি অনিয়ম ও কাজ না করেই বিল উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রকল্প এলাকার সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (২৪ জুন) সরজমিন সদরের মাইজপাড়া ইউনিয়নের তারাশী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় মাইজপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান জসিম মোল্যার বাড়ীর সামনের পাকা রাস্তা হতে বিলের মধ্যের পাকা রাস্তা পর্যন্ত ইটের সলিং দ্বারা রাস্তা নির্মান কাজটি ফেলে রেখে চলে গেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোল্যা ট্রেডার্স। যতটুকু কাজ হয়েছে তা খুবই নিম্নমানের ইট দিয়ে করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় বালু দেয়া হচ্ছে না। তাছাড়া রাস্তার কাজ বন্ধ রয়েছে। সাইটে ঠিকাদার বা তার কোন লোক নেই। এ সময় স্থানীয়রা কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিম্নমানের ইট ও নির্মান সামগ্রী দেখিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এতো নিম্নমানের ইট মানুষ কোন কাজেই ব্যবহার করে না। এমনকি কাজের বেশ কিছু অংশ বাকী রেখে এবং একটি বক্স কালভার্ট নির্মান না করেই চুড়ান্ত বিল উত্তোলন করার অভিযোগ করেন ঠিকাদারের বিরূদ্ধে।
নড়াইল সদর উপজেলা প্রকল্প বান্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয়ের অধিনে ৬৩ লাখ ৮৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ৬ টি প্রকল্পের একটি প্যাকেজ এর কাজ করছেন মেসার্স মোল্যা ট্রেডার্স। এ প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে তারাশি প্রধান সড়ক পাকা রাস্তা হতে জসিম চেয়ারম্যানের বাড়ী হয়ে পাকা রাস্তা পর্যন্ত ইটের সলিং দ্বারা রাস্তা নির্মান ও বক্স কালভার্ট নির্মান, চারিখাদা নারান বিশ্বাসের বাড়ী হতে নদীরঘাট পর্যন্ত ইটের সলিং দ্বারা রাস্তা নির্মান, চারিখাদা সাপরাজা রাস্তার মাথা হতে পাকা রাস্তা পর্যন্ত এবং মাইজপাড়া বিশ্বজিতের রাইচ মিলের নিকট পাকা রাস্তা হতে মান্নানের জমি পর্যন্ত ইটের সলিং দ্বারা নির্মান প্রকল্প সহ মোট ৬টি প্রকল্পের কাজ। প্রত্যেকটি জায়গায় নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। আর তারাশী গ্রামে স্থানীয় মাইজপাড়া ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশের কাজটি আংশিক না করে ফেলে রাখা হয়েছে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এর মালিক রেজাউল ইসলাম জানান, কাজটি পলাশ নামে আরেকজন ঠিকাদার করছেন। তাই এ বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না। এদিকে অভিযোগ উঠেছে আংশিক কাজ না করা সত্বেও আর্থিক সুবিধা নিয়ে উপজেলা প্রকল্প বান্তবায়ন কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার ঠিকাদারকে বিল দিয়ে দিয়েছেন। তিনি টাকা ছাড়া কোন কাজ করেন না। এ কারনে অধিকাংশ ঠিকাদার ও ইউপি চেয়ারম্যান তার উপর ক্ষুব্ধ। নড়াইল শহরের কুড়িগ্রামের বাসিন্দা ঠিকাদার রবিউল ইসলামকে দীর্ঘদিন ঘুরিয়ে তার নিকট হতে নির্ধারিত পিসি নিয়ে বিলে সাক্ষর করেছেন বলে ব্যাপক গুঞ্জণ উঠেছে। ঠিকাদার রবিউল ইসলাম সহ একাধিক ঠিকাদার ও ইউপি চেয়ারম্যান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পিআইও নাসরিন আক্তার তার নিজের নির্ধারন করা সুবিধা না নিয়ে কোন বিলে সাক্ষর করেন না।
নড়াইল সদর উপজেলা প্রকল্প বান্তবায়ন কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে মেসার্স মোল্যা ট্রেডার্স এর ফাইনাল বিল ছেড়ে দেয়ার কথা স্বিকার করে বলেন, জুন মাস তাই ফাইনাল বিল দেয়া হয়েছে। ঠিকাদারের জামানত জমা রয়েছে,তাছাড়া তার কাছ থেকে পে-অর্ডার রাখা হয়েছে। দ্রুতই তাকে দিয়ে বাকী কাজ করিয়ে নেয়া হবে। নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাইল রিসিভ না করায় এ ব্যাপারে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

