
হুমায়ুন কবীর রিন্টু , নড়াইল : নড়াইল-১ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে ধানে শীষ প্রতিকের প্রার্থী বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের বিজয়ের পথ তত সুগম হচ্ছে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের পাশাপাশি একই রাজনৈতিক ধারার ৩ জন বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। এতে ধানের শীষের ভোট বিভাজনের আশঙ্কা তৈরি হলেও বিদ্রোহীরা তাদের পক্ষে কোন অবস্থান িৈর করতে পারেননি। তবে বিএনপি হতে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় জামাত ইসলামী প্রার্থী সুযোগের অপেক্সায় ছিলেন। তার সে আশায় গুড়ে বালি। প্রচারনায় এগিয়ে থাকালেও ভোটারদের সমর্থনে জামাত প্রার্থী অনেক পিছনে রয়েছেন বলে সাধারণ ভোটারদের অভিমত।
এ আসনে মোট ভোট সংখ্যা ৪ লাখ ৭৩ হাজার ৮০ জন। তার মধ্যে সংখ্যা লঘু ভোট রয়েছে প্রায় ৭৮ হাজার। নড়াইল-১ আসনের প্রতিটি এলাকায় ৪ প্রার্থীর আলাদা আলাদা প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে বিএনপির ঐতিহ্যগত ভোট এককভাবে মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে না গিয়ে একাধিক ভাগে বিভক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ১৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ নির্বাচনী এলাকার মানুষ এলাকাভেদে ভিন্ন ভিন্ন মন মানসিকতার। নির্বাচন কমিশনের তালিকা অনুযায়ী, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অপরদিকে নিজেদেরকে বিএনপি পর্ন্থী হিসেবে প্রচার করে ৩জন স্বতন্ত্র প্রার্থী লে: কর্নেল(অব.) এস এম সাজ্জাদ হোসেন (ফুটবল), জগন্নাথ বিশ্বিবিদ্যালয়ের অধ্যাপক (অব.) বি এম নাগিব হোসেন (কলস) ও সাবেক এমপি ধীরেন্দ্রনাথ সাহার ছেলে একমাত্র হিন্দু প্রার্থী অধ্যক্ষ সুকেশ সাহা আনন্দ (ঘোড়া) প্রতীক নিয়ে জোরেশোরে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। এতে বিএনপি’র ভোটে কিছুটা হলেও প্রভাব পড়তে পারে। তবে ওই এলাকার বিএনপি পন্থী নেতা-কর্মী ও অসংখ্য সমর্থক জানিয়েছেন, ওই সব প্রার্থীরা ভোটের মাঠে কোন প্রভাব ফেলতে পারবেন না। কারণ তারা কেবল মাত্র বিএনপি প্রার্থীকে হারানোর জন্য প্রার্থী হয়েছেন। এসব প্রার্থীদের নিয়ে এলাকায় চলছে আলোচনা সমালোচনা। বিশেষ করে জামাত নেতা-কর্মীরা এ বিষয়টি তাদের পক্ষে প্রচার করে ভোট নেয়ার চেষ্টা করছেন। এই পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা মো.ওবায়দুল্লাহ কায়সার ভোটের মাঠে সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন বলে জামাত সমর্থকদের অভিমত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্রোহী তিন প্রার্থীর ব্যক্তিগত কোন জনপ্রিয়তা নেই। নেই তেমন কোন পরিচিতি। না আছে তাদের কোন সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা। কেবলমাত্র বিরোধিতার স্বার্থে বিরোধিতা করার ক্ষমতা আছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, এ সমস্ত প্রার্থীরা বিএনপি প্রার্থীর ক্ষতি করতে মাঠে নেমেছেন। এদের মধ্যে একজন প্রার্থী জামাত সমর্থিত প্রার্থীর নিকট হতে কিছু টাকা নিয়ে ঘুর ঘুর করে বেড়াচ্ছেন। আর সুযোগ বুঝে বিএনপি প্রার্থীর বিরূদ্ধে অপপ্রচার করছেন। তবে শেষ পর্যন্ত এ আসনে বিএনপি প্রার্থী বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম বিপুল ভোটে কিজয়ী হবেন। ভোট বিভাজনের কারনে জামাত প্রার্থী হয়তো প্রতিযোগিতায় আসলেও আসতে পারেন, তবে তার বিজয়ী হওয়ার কোন সম্ভবনা নেই।
স্থানীয় একাধিক ভোটার জানান,ধানের শীষের ভোট যদি ঐক্যবদ্ধ থাকত, প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র ভিন্ন হতো। এখন চার প্রার্থীর কারণে সেই ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ায় জামায়াত হয়তো প্রতিযোগিতামুলক অবস্থানে আসার সুযোগ পাবে।
নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের মতে, ৪ প্রার্থীর একযোগে সক্রিয় উপস্থিতি এবং বিএনপির ভেতরের বিভক্তি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের জন্য তেমন কোন ঝুঁকি নয়। কারণ তাদের কারো ভোট সংগ্রহ করার মত ইমেজ নেই।

