
খুলনা (০৪ মার্চ)
খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানের জামাতা ব্যবসায়ী কাজী নিজাম উদ্দিন সুজন (৩৫) নিখোঁজ হওয়ার ১২ দিনের মাথায় আজ বুধবার উদ্ধার হয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকার বাড়িতে অবস্থান করছেন। তবে তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি খুবই রহস্যজনক। উদ্ধার হওয়ার বিষয়ে পুলিশ অবগত হলেও ভেতরের কারণ জানতে পারেনি।
আজ বুধবার দুপুরে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে কাজী নিজাম উদ্দিন সুজনের বাবা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাজী আব্দুস সোবহান বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা ফরিদপুরে যাই। ভোর চারটার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার একটি মসজিদ থেকে অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধার কার। এরপর তাকে ঢাকায় একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে ঢাকার বাসায় নিয়ে যাই। আমার ছেলে খুবই অসুস্থ বলে জানান তিনি।
এতাদিন কোথায় ছিল বা কিভাবে নিখোঁজ হলেন- প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন- আমার ছেলে খুবই অসুস্থ, পরে ফোন দেন।
এ বিষয়ে খুলনা থানার ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, ওই ব্যবসায়িকে উদ্ধারের বিষয়ে আমরা অবগত নই।
তকে পিবিআই’র পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন বলেছেন, আজ বুধবার সকালে সুজনের বাবা কাজী আব্দুস সোবহান আমাকে ফোন করে উদ্ধার হওয়ার বিষয়টি আমাকে জানায় এবং ছেলের জন্য দোয়া চায়। ঘটনার নেপথ্যের কারণ কি জানতে চাইলে এসপি বলেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ না করে কিছুই বলা সম্ভব নয়।
এদিকে সুজনের পরিবার থানায় জিডি, সংবাদ সম্মেলন এবং প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেছিল যে- গত ২১ ফেব্রুয়ারি কাজী নিজাম উদ্দিন সুজন নিজ বাসভবনে ইফতার করে। এরপর একটু রেস্ট নিয়ে সন্ধ্যা ৭টা ৫৬ মিনিটে সে পুলিশ লাইনস মসজিদে তারাবির নামাজ আদায় করতে যায়।’ ‘মসজিদে সে নামাজ আদায় করে প্রায় আধা ঘণ্টা পর মসজিদ থেকে বের হয়। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সে মসজিদ থেকে বের হয়ে সামনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। এরপর আর তাকে দেখা যাচ্ছে না। আমরা আশপাশের অনেক সিসিটিভির ফুটেজ দেখে তার অবস্থান জানার চেষ্টা করি।
সুজনকে উদ্ধারে এই ১২ দিন র্যাব, পুলিশ, পিবিআইসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিল। ফলে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করা হবে বলে গোয়েন্দা সূত্র জানায়।
উল্লেখ্য, কাজী নিজাম উদ্দিন সুজন খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজান-এর জামাই। তার হঠাৎ ‘নিখোঁজ’ হওয়ার খবরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।