
জন্মভূমি রিপোর্ট : সারা দেশের ন্যায় খুলনায়ও চামড়া সংগ্রহের প্রধানতম সময় কোরবানী ঈদ বা ঈদ উল আযহা। তবে খুলনায় স্থায়ীভাবে কোনো মার্কেট না থাকায় চামড়া সংরক্ষণেও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
এর আগে নগরীর চামড়া পট্টি খ্যাত শেখপাড়ায় একটি চামড়ার মার্কেট ছিল। তবে পরিবেশ দূষণের কারণে সেই চামড়ার পট্টি তুলে দিয়েছে প্রশাসন। এর পর থেকে সড়কের ওপরেই চামড়া কেনা-বেচা করতে হয়েছে ব্যবসায়ীদের। এবারও সড়ক ও ফুটপাত জুড়েই ঈদের দিন এবং ঈদের পরের দিন চামড়া কেনা-বেচা করেছেন ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর শেখপাড়া, ময়লাপোতা ও গল্লামারী এলাকায় কোরবানীর পশুর চামড়া ক্রয় বিক্রয় করছে ব্যবসায়িরা। বৃষ্টির কারণে বেশিরভাগ চামড়া ভিজে যায়। দু’একজন ব্যবসায়ি ত্রিপল টানিয়ে বৃষ্টির পানি থেকে চামড়া রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।
পরের দিন রুপসা সেতুর বাইপাস সড়কে রুপসী বাংলা হাউজিং এলাকায় ক্রয়কৃত চামড়া লবণ লাগিয়ে জড়ো করে রেখেছেন ব্যবসায়য়ীরা। কয়েকদিন পর সেখান থেকে চামড়াগুলো ঢাকায়নয়ে যাওয়া হবে।
খুলনায় এবার ১০০টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত চামড়া কিনেছেন ব্যবসায়ীরা। এবার গরুর চামড়া ট্যানারির নির্ধারিত মূল্য ফুটপ্রতি ৪৭-৪৮ টাকা এবং ছাগলের চামড়া প্রতি পিস ৩০-৪০ টাকা করে বিক্রি করেছেন।
ব্যবসায়ী মো. নজরুল ইসলাম পিয়ারু জানান, এবার তিনি ২ হাজার পিস চামড়া কিনেছেন। তার চামড়া জিরোপয়েন্টের একটি গোডাউনে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। সেখানে ১৫-২০ দিন রাখার পর ট্যানারীতে বিক্রি করা হবে।
অপর ব্যবসায়ী মো. আবু মুসা বলেন, তিনি এবার ৭০-৮০ পিস চামড়া কিনেছেন। যার প্রতিটির মূল্য গড়ে ১৫০-৪০০ টাকা পর্যন্ত পড়েছে।
ব্যবসায়ী মো. আজিজুলও জানান, তিনি ২০০-২৫০ পিস চামড়া কিনেছেন। যার প্রতিটির মূল্য গড়ে ১০০-৪০০ টাকা পর্যন্ত পড়েছে।
খুলনা কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির ক্যাশিয়ার মো. বাবর বলেন, এবার চামড়ার দাম গত বছরের মতোই আছে। আমি ৪০০ পিস গরুর চামড়া কিনেছি। যার আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত চামড়া রয়েছে।
খুলনা কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, তিনি এবার সর্বোচ্চ ৬ হাজার পিস চামড়া কিনতে পেরেছেন। যার পিস প্রতি গড় মূল্য পড়েছে ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত।
তিনি আরও জানান, সরকার ঘোষিত মূল্য ট্যানারি মালিকরা তাদের প্রদান করলে তারা লাভের মুখ দেখবেন। আর যদি না দেয় তাহলে তাদের লোকসান গুণতে হবে।
খুলনা কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কার্তিক ঘোষ বলেন, এ বছর শেখপাড়ার চামড়া ব্যবসায়ীরা সব মিলে ১০ থেকে ১২ হাজার পিস চামড়া কিনেছেন। তবে এর বাইরে ট্যানারী কর্তৃপক্ষ সরাসরি বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে কিছু চামড়া কিনেছেন। কাঁচা চামড়া ক্রয়-বিক্রয়ের মার্কেট না থাকায় খুলনায় ফুটপাতে, সড়কের ওপরই চামড়া কিনতে হয়।
তিনি জানান, গেল ঈদে খুলনার ব্যবসায়ীরা প্রায় ৮-১০ হাজার চামড়া কিনেছিলেন। এবার পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে।
চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের কয়েকজন সারা বছর জবাই হওয়া গরু-ছাগলের চামড়া কিনে নগরীর জিরো পয়েন্ট ও গল্লামারী এলাকায় তাদের গোডাউনে নিয়ে লবণ লাগিয়ে সংরক্ষণ করেন। তবে ঈদের ৩ দিন সড়কের উপরেই সব কার্যক্রম চলে।
এদিকে ব্যবসায়িদের অভিযোগ ২০১৪ সাল থেকে ঢাকার ব্যবসায়িরা খুচরা ব্যবসায়িদের বেশিরভাগ চামড়ার টাকা পরিশোধ করেননি। ফলে পুঁজির অভাবে তারা আশানুরুপ চামড়া ক্রয় করতে পারেননি।