
পূর্ণ চন্দ্র মন্ডল, পাইকগাছা
বসন্তের বিদায় আর গ্রীষ্মের আগমনে পাইকগাছার প্রকৃতি এখন নতুুন সাজে সজ্জিত। ফাল্গুন-চৈত্রের দখিনা বাতাসে উপজেলার দিগন্তজুড়ে এখন আঁশফলের (স্থানীয়ভাবে কাঠলিচু বা লংগান নামে পরিচিত) মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ। সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে রাশি রাশি সোনালি মুকুল। মুকুলের ভারে নুয়ে পড়ছে গাছের ডালপালা, আর সেই মধু আহরণে ব্যস্ত মৌমাছির গুঞ্জন মুখরিত করে তুলছে চারপাশ।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় ও পথের ধারে থাকা আঁশফল গাছগুলো এখন মুকুলে ঢাকা। স্থানীয়রা জানান, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছের প্রতিটি পল্লবে রেকর্ড পরিমাণ মুকুল এসেছে। বাতাসে মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ আর মৌমাছির আনাগোনা এক নয়নাভিরাম দৃশ্যের অবতারণা করেছে, যা পথচারীদেরও মুগ্ধ করছে। আঁশফল কেবল সুস্বাদু ফলই নয়, এটি অত্যন্ত পুষ্টিকরও বটে। চিকিৎসকদের মতে, শারীরিক দুর্বলতা ও অবসাদ দূর করতে আঁশফল অতুলনীয়। এটি হৃদযন্ত্র সুরক্ষায় এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এতে প্রচুর পরিমাণে লৌহ, ভিটামিন ‘সি’ এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরের পেশি ক্ষয় রোধ করে। ওজন কমানোর ক্ষেত্রেও ফ্যাটহীন এই ফলটি বেশ কার্যকর। পাইকগাছার গদাইপুর, রাড়ুলী, হরিঢালী ও কপিলমুনি ইউনিয়নে প্রচুর পরিমাণে আঁশফল গাছ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। যদিও স্থানীয় জাতের আঁশফল আকারে কিছুটা ছোট এবং এর রসালো অংশ কম থাকে, তবুও বাজারে এর চাহিদা ব্যাপক। তবে বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বারি আঁশফল-১ এবং বারি আঁশফল-২ জাতের উন্নত ফল চাষের সুযোগ তৈরি হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে নতুন আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. একরামুল হোসেন জানান, এ অঞ্চলে আঁশফলের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন “এলাকার স্থানীয় আঁশফলের গুণগত মান কিছুটা সাধারণ হলেও এর বিপুল চাহিদা রয়েছে। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আঁশফলের রেকর্ড ফলন হবে বলে আশা করছি। আমরা কৃষকদের উন্নত জাতের আঁশফল চাষে নিয়মিত পরামর্শ ও উদ্বুদ্ধ করছি যাতে তারা অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভবান হতে পারে।”
সঠিক পরিচর্যা আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে না পড়লে চলতি মৌসুমে পাইকগাছায় আঁশফলের বাম্পার ফলন হবে- এমনই প্রত্যাশা স্থানীয় বাগান মালিক ও কৃষি বিভাগের।