
জন্মভূমি ডেস্ক : খুলনার পাইকগাছায় নিখোঁজের তিন দিন পর চিংড়ি ঘেরে ভাসমান অবস্থায় বিশ্বজিৎ সানা (২৬) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।
আজ বুধবার (৯ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে স্থানীয়রা সোলাদানা আমুরকাটা দীঘা সীমাণায় প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন চিংড়ি ঘেরে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ দেখতে পাওয়া যায়।
বিশ্বজিৎ সানা সোলাদানা ইউনিয়নের আমুরকাটা গ্রামের মৃত মনোরঞ্জন সানার ছেলে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত রোববার রাতে সে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। তবে পরের দিন সকালে তাকে আর ঘরে দেখা যায়নি। সেই থেকে সে নিখোঁজ ছিল। ঘটনার পর থেকে সব জায়গায় খোঁজাখুঁজির পরও পরিবারের লোকজন তার কোনো সন্ধান পায়নি।
সর্বশেষ বুধবার সকালে স্থানীয় সুশান্ত নামে পার্শ্ববর্তী জনৈক পঙ্কজ সরদারের চিংড়ি ঘেরে তার লাশ ভাসতে দেখে প্রথমে পরিবারকে জানায়। পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দেখে বিশ্বজিতের বলে শনাক্ত করলে থানা পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
ধারণা করা হচ্ছে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে সেখানে ফেলে দেওয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে নিহত যুবক কোনো ঘেরে মাছ চুরি করে পিটুনির শিকার হতে পারে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পাইকগাছা থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আনজির হোসেন জানান, বিশ্বজিৎ সানা গত রোববার থেকে নিখোঁজ ছিল।
তিনি আরও জানান, নিহত বিশ্বজিৎ এলাকায় রাতে চুরি করে মাছ ধরত। ঘটনার রাতে কোনো ঘেরে মাছ ধরতে গেলে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তার হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে ব্যাপকভাবে তদন্ত চলছে।
পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, থানায় খবর দিলে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
নিহত বিশ্বজিতের হত্যার সহস্য উদঘাটনে চুরি ও পরকীয়ার সূত্র ধরে তদন্ত কাজ এগিয়ে নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।