পূর্ণ চন্দ্র মন্ডল, পাইকগাছা : খালের মত দেখতে হলেও বাস্তবে এটি একটি রাস্তার দৈন্যদশা। পাইকগাছায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের খামখেয়ালিপনা আর চরম উদাসীনতাই দায়ী।
দুর্ভোগে পড়েছে উপজেলার সোলাদানার পারিশামারী সহ আশপাশ গ্রামের মানুষ। ক'দিনের ভারী বৃষ্টিতে জনদুর্ভোগের সীমা নেই।
দু'মাস পূর্বে মাটি খুঁড়ে রাখা একমাত্র চলাচল রাস্তা এখন কাঁদা-জলে পিচ্ছিল হয়ে চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পানির চাপে দু'পাশের রিংবাঁধ খালে ধ্বসে পড়ছে। শিশু থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ বয়োবৃদ্ধ নারী-পুরুষ ও পথচারিরা পড়েছে বে-কায়দায়। সব ধরনের মালামাল বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে বহুবার তাগিদ দেওয়ার পরেও ঠিকাদারের গড়িমসির কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাগেছে, ২১-২২ অর্থ বছরে খুলনা বিভাগীয় পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সোলাদানা ইউনিয়নের পারিশেমারী গ্রামের চলাচল রাস্তার উন্নয়নে স্মরণকালের সর্বোচ্চ বাজেট আড়াই কোটি টাকার টেন্ডার হয়। পাইকগাছা-বেতবুনিয়া সড়ক ঘেঁষা পারিশিমারীর বৈরাগী বাড়ী হতে ওয়াবদা হয়ে আমুরকাটা অভিমুখি ৩ কিঃ মিঃ ডবল ইটের সোলিং এর জন্য ১ কোটি ৫২ লাখ ৪৬ হাজার টাকার উপরে বরাদ্দ হয়।
অন্যদিকে একই অর্থ বছরে লস্কর-ভিলেজ পাইকগাছার মাদরাসা মোড় হতে পারশিমারী গ্রামের বেইলী ব্রিজ পর্যন্ত ১২শত ২০ মিঃ কার্পেটিং অর্থাৎ পিচের রাস্তা উন্নয়নে ৯৫ লাখ টাকার টেন্ডার হয়। অনএ প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে রাস্তা খুড়ে বালিভরাট করে মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা করেছেন।
কিন্তু ৩ কিঃ মিঃ ডবল ইটের সোলিং এর ঠিকাদার দু'মাস পূর্বে রাস্তা খুড়ে রাখলেও আর কোন কাজ করেনি। উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটি বাস্তবাযনে সাতক্ষীরার মের্সাস কানিজ ট্রেডিং' নামের একটি প্রতিষ্ঠান টেন্ডার পায়। কিন্তু তাদের সাব ঠিকাদার এ পর্যন্ত শুধু রাস্তা খুঁড়ে প্রকল্পটি ঝুলিয়ে রেখেছেন। অথচ প্রকল্পটি শেষ হবার পথে। অতি সম্প্রতি'র ভারী বৃষ্টিপাতে খুঁড়ে রাখা রাস্তার দু"পাশে রিংবাঁধ দেওয়ায় কাঁদাসহ কোথাও হাঁটু পানি জমে চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে রেহাই পেতে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে সোলাদানা ইউপি'র ১ নং ওয়ার্ড সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান লাভলু বলেন, দেশ স্বাধীনের পর এবার এমপি মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু পারিশামীর স্কুল ভবন ও রাস্তার উন্নয়নে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন ,দু'মাস পূর্বে বেকুতে একমাত্র রাস্তার মাটি খুঁড়ে রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এখন বৃষ্টিপাতে চলাচল ব্যবস্থা নষ্ট হলে মানুষ পড়েছে বে-কায়দায়।
এদিকে নানা সংকটের কথা জানিয়ে এ প্রকল্পের ঠিকাদার হাসনাত এ প্রতিনিধিকে জানান, শুক্রবার থেকে রাস্তার কাজ শুরু হবে।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত