
পাইকগাছা প্রতিনিধি : খুলনার পাইকগাছায় কপোতাক্ষ নদে আবারো একজন যুবকের ভাসমান লাশ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে—এগুলো কি নিছক নদীপথের দুর্ঘটনা, নাকি আড়ালে লুকিয়ে আছে অজ্ঞাত হত্যার ছাপ?
রবিবার সকালে আগঢ়ঘাটা পালপাড়া এলাকায় নদীর চরে ভাসমান লাশটি দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেন। সকাল ৯টার দিকে থানা পুলিশ ও নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। প্রাথমিকভাবে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
গত কয়েক মাসে কপোতাক্ষের বিভিন্ন পয়েন্টে ভাসমান লাশ উদ্ধারের ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। এই ধারাবাহিকতার ফলে এলাকাবাসীর প্রশ্ন এখন স্পষ্ট—যদি এগুলো সাধারণ দুর্ঘটনা হয়, কেন নদীপথে এমন লাশ ভেসে ওঠা বাড়ছে? তাহলে কি নদীপথকে হত্যার পর লাশ ফেলার নিরাপদ জায়গা হিসেবে কেউ ব্যবহার করছে?
পাইকগাছা থানার ওসি গোলাম কিবরিয়া বলেন, সাতক্ষীরার তালা থানার বালিয়া ঘাটে খেয়া পারাপারের সময় মৃগী রোগে আক্রান্ত হয়ে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন গদাইপুর ইউনিয়নের মুনছুর গাজীর ছেলে রবিউল গাজী (৪০) প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে লাশটি তার। রবিউলের স্বজনরা সেখানে উপস্থিত রয়েছেন। উদ্ধারের পর বলতে পারবো সব।
এই ঘটনার পটভূমিতে গত ৬ জানুয়ারি সাতক্ষীরার তালা থানার বালিয়া ঘাটে খেয়া পারাপারের সময় মৃগী রোগে আক্রান্ত হয়ে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন গদাইপুর ইউনিয়নের মুনছুর গাজীর ছেলে রবিউল গাজী (৪০)। তিন দিন পর রবিবার সকালে পাইকগাছার কপিলমুনি ইউনিয়নের ফুলতলা খেয়াঘাট চরে একটি লাশ ভেসে ওঠে, যা প্রাথমিকভাবে রবিউলের লাশ বলে শনাক্ত হয়। এই ঘটনাটি দুর্ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যাত হলেও অন্যান্য উদ্ধার ঘটনার ক্ষেত্রে সন্দেহ ভিন্ন—কারণ অনেক লাশের পরিচয়, কারণ বা আঘাতের চিত্র স্পষ্ট নয়।
স্থানীয়দের মতে, পরিচয়হীন লাশের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং উদ্ধার সময়–হত্যার সম্ভাবনাকেও আলোচনায় নিয়ে আসছে। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়া কোনোকিছু নিশ্চিত করার সুযোগ নেই। তদন্ত এগোলে কপোতাক্ষের স্রোতে ভাসমান ধারাবাহিক লাশগুলোর প্রকৃতি—দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা, নাকি হত্যাকাণ্ড—সেটাই পরিষ্কার হবে।

