মান্না দে, ফকিরহাট : বাগেরহাটের ফকিরহাটে চলতি বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন মাঠে ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। ফলে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক। তবে কৃষকের মুখে হাসির বদলে ভর করছে আতঙ্ক। প্রচন্ড তাপ দাহের কারণে হিটস্ট্রাক হয়ে মাঠের সোনালী ফসল ক্ষতির আশঙ্কায় দিন পার করছেন তারা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কতা জারির পর ছুটি বাতিল করেছে ফকিরহাট উপজেলা কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ফকিরহাটে চলতি বোরো মৌসূমে ৮ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমি বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আরো ৫০ হেক্টর বেশি বোরোর আবাদ হয়েছে। যার মধ্যে হাইব্রিড ৭ হাজার ৫০০ হেক্টর ও ৯৫৫ হেক্টর উফশি জাতের ধান রয়েছে।
বুধবার (১২ এপ্রিল) উপজেলার বাহিরদিয়া, পিলজঙ্গ, মুলঘর সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জমির ধানের গোছায় হৃষ্টপুষ্ট শিষ এসেছে। বেশিরভাগ শিষের ধান পাকার অপেক্ষায়। অপকারী পোকা বা বালাইয়ের তেমন আক্রমণ না হওয়ায় ধান খেতে দিগন্ত জোড়া সবুজের সমাহার।
তবে গত দু’তিন দিন ধরে এ অঞ্চলে মাঝারী তাপ প্রবাহ অব্যহত থাকায় বাহিরদিয়া ইউনিয়নের কিছু জমির ফসল হিটস্ট্রোকে নষ্ট হয়েছে। তবে কৃষি বিভাগ থেকে চাষীদের সচেতন ও সম্ভব্য ক্ষতি কমিয়ে আনতে বিভিন্ন কারিগরি পরামর্শ ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।
বাহিরদিয়া ও পিলজঙ্গ ইউনিয়নের কৃষক আহম্মদ শেখ, কানাই দাস, শওকত সেখ ও মোস্তফা হাসান জানান, নিয়মিত জমি সেচ ও ধানে সার, কীটনাশক দিয়ে ফসল ফলিয়েছেন। হঠাৎ গরমে ধাণের ক্ষতির আশঙ্কায় তারা দুশ্চিন্তায় আছেন। হিটস্ট্রক থেকে ফসল বাঁচাতে কৃষি বিভাগের পরামর্শে এখন জমিতে দুই ইঞ্চি পানি ধরে রাখছেন
ফকিরহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ শাখওয়াত হোসেন বলেন, প্রকৃতির উপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। হঠাৎ তাপ প্রবাহের ফলে কৃষকের ফসল রক্ষায় সম্ভাব্য সব কিছু করা হচ্ছে। শতকরা ৮০ ভাগ ধান পাকলে কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৫ভাগ ধান কাটা হয়েছে। এক্ষেত্রে আমরা যন্ত্র প্রযুক্তির ব্যবহার করে কৃষকদের সময় ও অর্থ ব্যায় কমিয়ে এনেছি। ছুটি বাতিল করে সার্বক্ষণিক মাঠে থেকে আমরা কৃষকের পরামর্শ দিচ্ছি।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত