By using this site, you agree to the Privacy Policy and Terms of Use.
Accept
খবর সার্চ

প্রকাশনার ৫৫ বছর

দৈনিক জন্মভূমি

NEWSPORTAL

  • মূলপাতা
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধূলা
  • বিনোদন
  • জেলার খবর
    • খুলনা
    • চুয়াডাঙ্গা
    • বাগেরহাট
    • মাগুরা
    • যশোর
    • সাতক্ষীরা
  • ফিচার
  • আজকের ই-পেপার
  • সকল ই-পেপার
Reading: ফিতরা কার ওপর ওয়াজিব, কখন-কাকে দিতে হবে
Share
দৈনিক জন্মভূমিদৈনিক জন্মভূমি
Aa
  • মূলপাতা
  • জাতীয়
  • খুলনা
  • জেলার খবর
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলাধূলা
  • সম্পাদকীয়
  • ALL E-Paper
অনুসন্ধান করুন
  • জাতীয়
  • জেলার খবর
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলাধূলা
  • বিনোদন
  • ই-পেপার
Have an existing account? Sign In
Follow US
প্রধান সম্পাদক মনিরুল হুদা, প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত
দৈনিক জন্মভূমি > জেলার খবর > সাতক্ষীরা > ফিতরা কার ওপর ওয়াজিব, কখন-কাকে দিতে হবে
সাতক্ষীরা

ফিতরা কার ওপর ওয়াজিব, কখন-কাকে দিতে হবে

Last updated: 2026/03/04 at 1:17 PM
Correspondent 59 minutes ago
Share
SHARE

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : ইসলামে সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা আদায় করা রমজানের গুরুত্বপূর্ণ একটি আর্থিক ইবাদত। এটি যাকাতেরই একটি শ্রেণি। ফিতরা আররি শব্দ, যা ইসলামে জাকাতুল ফিতর বা সাদাকাতুল ফিতর নামে পরিচিত। ফিতর বা ফাতুর বলতে সকালের খাদ্যদ্রব্য বোঝানো হয়, যা দ্বারা রোজাদাররা রোজা ভঙ্গ করেন। সদকাতুল ফিতর বলা হয় ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গরীব দুঃস্থদের মাঝে রোজাদারদের বিতরণ করা দানকে। রোজা বা উপবাস পালনের পর সন্ধ্যায় ইফতার বা সকালের খাদ্য গ্রহণ করা হয়। সেজন্য রমজান মাস শেষে এই দানকে সদকাতুল ফিতর বা সকালের আহারের যাকাত বলা হয়।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা সদকাতুল ফিতরের প্রতি ইঙ্গিত করে ইরশাদ করেছেন- ‘নিশ্চয়ই সাফল্য লাভ করবে সে, যে পরিশুদ্ধ হয়’। (সূরা আলা, আয়াত- ১৪)।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) সদকায়ে ফিতরকে ফরজ করেছেন- রোজাকে ভুল-ক্রটি থেকে পবিত্রকরণ ও দরিদ্রদের পানাহারের ব্যবস্থা নিশ্চিতের উদ্দেশ্যে। সুতরাং যে ব্যক্তি ঈদের নামাজের আগেই সাদকায়ে ফিতর আদায় করবে, তার ফিতরা মকবুল হিসেবে গণ্য হবে এবং যে ব্যক্তি ঈদের নামাজের পরে আদায় করবে, তার ফিতরা সাধারণ সাদকা হিসেবে গণ্য হবে। (জামেউল ফাওয়ায়েদ- ১/১৪৫)।
রাসূলুল্লাহ (সা.) আরো ইরশাদ করেছেন, ওই দিন ভিক্ষুকদের ভিক্ষা চাওয়া থেকে মুক্ত করে দাও।
ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় কারও কাছে যাকাতের নিসাবের সমপরিমাণ, অর্থাৎ- সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপা অথবা তার সমমূল্যের নগদ অর্থ কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অতিরিক্ত কিছু সম্পদ যদি বিদ্যমান থাকে, তাহলে তার ওপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে। যার ওপর সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব, তিনি নিজের পক্ষ থেকে যেমন আদায় করবেন, তেমনি নিজের অধীনস্তদের পক্ষ থেকেও আদায় করবেন। তবে এতে জাকাতের মতো বর্ষ অতিক্রম হওয়া শর্ত নয়। (ফাতহুল কাদির- ২/২৮১ পৃষ্ঠা)।
নারী-পুরুষ, স্বাধীন-পরাধীন, শিশু-বৃদ্ধ, ছোট-বড় সব মুসলিমের জন্য সদকায়ে ফিতর প্রদান করা ওয়াজিব। সাদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হওয়া মাত্রই তা আদায় করতে হবে, নাকি পরে করলে চলবে? এ ব্যাপারে বাহরুর রায়েক কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে- সাদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা আদায় করা উত্তম। (আল বাহরুর রায়েক- ২/২৫১ পৃষ্ঠা)।
ঈদের দিনের পূর্বে সদকায়ে ফিতর দেওয়া জায়েয। রাসূলুল্লাহ (সা.)এর যামানায় সাহাবায়ে কেরাম ঈদের দিনের আগেই সদকায়ে ফিতর আদায় করে দিতেন। (আল বাহরুর রায়েক- ২/২৫১)।
যেসব মুসলমানের এই পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, যার মূল্য এই পরিমাণ হয় যে, তার ওপর জাকাত ওয়াজিব হবে, তাহলে তার ওপর ঈদের দিন সদকায়ে ফিতর দেওয়া ওয়াজিব, চাই সে সম্পদ ব্যবসায়ের হোক বা না হোক এবং পূর্ণ এক বৎসর অতিবাহিত হোক বা না হোক। শরীয়তের বিধান অনুযায়ী এ সাদকাকে সাদকায়ে ফিতর বলা হয়। (হাশিয়ায়ে তাহ্তাবী- ৩৯৪ পৃষ্ঠা)।
যে ব্যক্তি কোনও কারণবশতঃ রোযা রাখতে পারেনি, তার ওপরও সাদকায়ে ফিতর ওয়াজিব। যে রোজা রেখেছে তার উপরও ওয়াজিব। যে শিশু সন্তান ঈদের দিন সুবহে সাদিক হওয়ার পর জন্ম গ্রহণ করেছে, তার পক্ষ থেকে সাদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব নয়। কিন্তু যে শিশু সুবহে সাদিকের পূর্বে জন্ম গ্রহণ করেছে, তার পক্ষ থেকে সাদকায়ে ফেতর আদায় করা সক্ষম অভিভাবকের ওপর ওয়াজিব। (আলমগীরী- ১/১৯২ পৃষ্ঠা)।
সদকা ফিতিরের পরিমাণ হচ্ছে, আটা, গম বা গমের ছাতু হলে অর্ধ সা। (নূরুল ইযাহ- ৩৯৫)। অর্থাৎ- আটা, গম বা গমের ছাতু বর্তমান প্রচলিত মাপে এক কেজি ৬৩৫ গ্রামের সামান্য বেশি অথবা তার সমপরিমাণ মূল্য দিতে হবে। তবে আদায়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কিছু বেশি দেওয়াই উত্তম। খেজুর, যব অথবা কিসমিস দিলে গম ইত্যাদির দিগুণ তথা ৩ কেজি ২৭০ গ্রামের সামান্য বেশি বা তার সমপরিমাণ মূল্য দিবে। (বেহেশতী জেওর- ২/২৩০)।
উল্লেখ্য, আমাদের দেশের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গবেষণা মতে, ‘এক সা’-এর পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়, তিন কেজি ৩০০ গ্রাম। আর ‘আধা সা’-এর পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়, এক কেজি ৬৫০ গ্রাম।
কেউ এসব খাদ্য সামগ্রী ছাড়া অন্য কিছু যেমন চাল ইত্যাদি দিতে চাইলে, হিসেব করে খেজুর, গম, যব, কিসমিস ইত্যাদির সমপরিমাণ মূল্য আদায় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে গমের ওপর অনুমান করে তার সমপরিমাণ চাল দিলে তা জায়েয হবে না। কেননা ফিকহের কিতাবে বলা হয়েছে, হাদীসে যে সব জিনিস দেওয়ার কথা সরাসরি উল্লেখ রয়েছে এসবের মূল্য দিতে হবে। ফিকাহবিদগণ বলেন, গম প্রভৃতির মূল্য দেওয়াই উত্তম। আর যে সব জিনিস দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে, তার মূল্য দেওয়াই উত্তম। (ফাতওয়া আলমগীরী- ১/১৯২)।
একজনের ফিতরা একজন অথবা একাধিক মিসকিনের মধ্যে বণ্টন করে দিতে পারবে। (মারাকীউল ফালাহ- ৫৯৬)।
আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযি.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) একজন ঘোষক প্রেরণ করলেন, সে যেন মক্কার পথে পথে এ ঘোষণা করে যে, জেনে রেখো, প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, গোলাম-স্বাধীন, ছোট-বড় প্রত্যেকের ওপর সদকাতুল ফিতর অপরিহার্য। দুই মুদ (আধা সা) গম কিংবা এক সা অন্য খাদ্যবস্তু। (তিরমিযী, হাদিস- ৬৭৪)।
ঈদগাহে যাওয়ার আগেই সদকাতুল ফিতর আদায় করা সর্বোত্তম। কারণ এর মাধ্যমে ধনী-গরিবের মাঝে আনন্দের ভাগাভাগি হয়। তাছাড়া এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নাতও। ইবনে আব্বাস (রাযি.) বলেন, সুন্নাত হলো ঈদের নামাযে যাওয়ার আগে সদকাতুল ফিতর আদায় করা। (আল-মুজামুল কাবির, হাদিস- ১১২৯৬)।
ইবনে ওমর (রাযি.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) আমাদের ঈদগাহে যাওয়ার আগে সদকাতুল ফিতর আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। (বুখারি, হাদিস- ১৫০৯)।
তবে কারো যদি কোনও কারণবশত ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে সদকাতুল ফিতর আদায় করা সম্ভব না হয়, তাহলে পরে আদায় করারও সুযোগ রয়েছে।
হাদিসে উল্লিখিত পাঁচটি দ্রব্যের যেকোনও একটি দ্রব্য বা এর মূল্য আদায়ের মাধ্যমে সদকাতুল ফিতর আদায়ের সুযোগ দিয়েছে ইসলামী শরিয়ত। এর কারণ হচ্ছে, মুসলিমরা যেন নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী যেকোনও একটির মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে তা আদায় করতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশে সামর্থ্যবানরাও ব্যাপকভাবে সর্বনিম্ন দ্রব্যের মূল্য ধরে তা আদায় করে থাকে, যা বাস্তবিকই হতাশাজনক। কারণ, হাদিস শরিফে এসেছে, একবার রাসূলুল্লাহ (সা.)কে সর্বোত্তম দান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি ইরশাদ করেন, ‘দাতার নিকট যা সর্বোৎষ্ট এবং যার মূল্যমান সবচেয়ে বেশি, সেটাই উত্তম’। (বুখারি, হাদিস- ২৫১৮)।ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে ‘ফিতরা’ বলা হয় এমন পরিমাণ অর্থ বা সম্পদকে যারা জাকাত গ্রহণ করতে পারে এমন গরীব ব্যক্তিকে রমজান মাস পরিসমাপ্তির পর বিশেষ পদ্ধতিতে প্রদান করা হয়। ‘ফিতরা’ বুঝাতে হাদীস শরীফে ‘সদকাতুল ফিতর’ এবং ‘যাকাতুল ফিতর’ উভয় শব্দই ব্যবহৃত হয়েছে। উভয় শব্দের অর্থ ও মর্ম একই অর্থাৎ রোজা খোলার জাকাত বা সদকাহ। হিজরতের দ্বিতীয় সালে ঈদুল ফিতর-এর দুই দিন পূর্বে মুসলিম সমাজে এই ফিতরা সর্ব প্রথম বাধ্যতামূলকভাবে ধার্য করা হয় ও এর প্রচলন শুরু হয়।
বস্তুুতঃ ফিতরা আদায় করার কর্তব্য সম্পর্কে ইসলামী শরীয়তে পূর্ণ ঐক্যমত্য বা ইজমা রয়েছে। এতে কারোর ও কোনো দ্বিমত নাই। ইমাম শাফেয়ী (রহ.) ও ইমাম মালেক (রহ.) এর মাযহাব অনুসারে সদকায়ে ফিতির আদায় করা সুন্নাত, সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। ওয়াজিব বা ফরজ নয়। তাদের মতে হাদীসের শব্দ ফরজ করে দিয়েছেন কথাটির অর্থ হলো, নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন কিংবা ধার্য করে দিয়েছেন। ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মাযহাবে ইহা ফরজ নয় এবং ফরজ বলতে যা বুঝায় তাও নয়। বরং ওয়াজিব। হাদীসের শব্দ ফরজ করে দিয়েছেন অর্থ ওয়াজিব করে দিয়েছেন। হানাফী মাযহাবে ‘ফরজ’ এবং ‘ওয়াজিব’ শব্দ দ্বয়ের মধ্যে সামান্য পার্থক্য রয়েছে।
সদকায়ে ফিতির মুসলমান মাত্রেরই আদায় করা কর্তব্য। পুরুষদের ব্যাপারটি অত্যন্ত স্পষ্ট। আর মেয়েলোক বিবাহিতা হলে স্বামীই তার সদকায়ে ফিতির আদায় করবে। আর অবিবাহিতা হলে তার নিজের সামর্থ্য থাকলে সে নিজেই তা আদায় করবে। অন্যথায় তার এবং অন্যান্য নাবালেগদের, বালেগ পোষ্য ছেলেদের সদকায়ে ফিতর আদায় করবে তাদের পিতা। পিতার অবর্তমানে তাদের অলী বা অভিভাবক সদকায়ে ফিতির আদায় করবে। এ ব্যাপারে ঐক্যমত্য এই যে, যে সকল ব্যক্তির পক্ষে জাকাত গ্রহণ করা যায়েজ ও হালাল, তারা স্বেচ্ছামূলকভাবে নিজেদের সদকায়ে ফিতির আদায় করলে অধিক পুণ্যের অধিকারী হবে। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : ফকীর গরীবের পক্ষে ও ফিতরা দেয়া বিধেয়। সে যা দিকে আল্লাহ পাক তাকে তার দেওয়া পরিমাণের বেশী ফিরিয়ে দিবেন।
সদকায়ে ফিতির এর পরিমাণ সম্পর্কে বহু হাদীস বর্ণিত আছে। তন্মধ্যে একটি হচ্ছে এই যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) এক ভাষণে বলেছেন : ‘তোমরা প্রত্যেক স্বাধীন, ক্রীতদাস বা গৃহভূত্য ছোট কিংবা বড়-এর তরফ হতে অর্ধ সা’ গম কিংবা এক সা’ যব কিংবা এক সা’ খেজুর ফিতরা বাবত আদায় করবে।’ সা একটা বিশেষ পরিমাণের ওজন। এক সা’ হিযাযী ওজনে প্রায় পৌনে তিন সের এবং ইরাকী ওজনে প্রায় চার সের।হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাজিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাদাকাতুল ফিতরকে অপরিহার্য করেছেন, অনর্থক অশালীন কথা ও কাজে রোজার যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণের জন্য এবং নিঃস্ব লোকের আহার যোগানোর জন্য।’ (আবু দাউদ)
রহমত-বরকত, মাগফিরাত ও নাযাতের একমাস রোযা শেষে আল্লাহ তাঁর পক্ষ থেকে মুমিনদের দাওয়াত দেন, সেইদিন হচ্ছে ঈদুল ফিতর। এইদিন রোজা রাখা হারাম। আল্লাহ এইদিন প্রত্যেক মুসলমান মুমিনদের দাওয়াত করেন। এটা যেহেতু আল্লাহর তরফ থেকে দাওয়াত, তাই এইদিন ধনী-গরীব, বাদশা-ফকির সবাই ভেদাভেদ ভুলে খুশিতে মত্ত থাকে, ঘরে ঘরে নানান প্রজাতির সুস্বাদু খাবারের ঘ্রাণে মৌ মৌ করে। সবাই ফিরনি, পায়েস, লাচ্ছি, খোরমা পোলাও, সন্দেশসহ বাহারী রকমের খাবার খেয়ে থাকে। ধনীদের পাশাপাশি সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরাও যেনো এই খুশী থেকে বিরত না থাকে, তাই ইসলাম সাদাকাতুল ফিতরের সুযোগ করে দিয়েছে।
হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী সাদাকাতুল ফিতর হচ্ছে ‹তুমাতুল্লিলমাসাকিন› অর্থাৎ সমাজের অসহায়, দুস্থ-দরিদ্র, রিক্তহস্ত জনগোষ্ঠি যাতে বছরান্তে একটি দিন অন্তত খেয়ে-পরে আনন্দ উদযাপন করতে পারে। সাদকায়ে ফিতর আদায় করা মুমিনের জন্য আল্লাহ কর্তৃক অত্যাবশ্যকীয় বিধান। সাদাকাতুল ফিতরের আরেক কারণ হচ্ছে রমজান মাসের সিয়াম সাধনায় রোজা পালনের ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো থেকে মুক্ত হতে ফিতরা আদায় করা জরুরি। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী এটাকে বলা হয়- তুহরাতুল্লিস সায়িম› অর্থাৎ একমাস সিয়াম সাধনায় মুমিনের অনাকাঙ্খি ত্রুটি-বিচ্যুতির কাফফারা হলো সাদকায়ে ফিতর।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাজিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাদাকাতুল ফিতরকে অপরিহার্য করেছেন, অনর্থক অশালীন কথা ও কাজে রোজার যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণের জন্য এবং নিঃস্ব লোকের আহার যোগানোর জন্য।” (আবু দাউদ)
ফিতরা আদায়ের পদ্ধতি: ঈদের নামাজ পড়ার আগেই ফিতরা আদায় করার নির্দেশনা রয়েছে। ফিতরা সম্পর্কিত অনেক বিষয়, তা আদায়ে এসব বিষয়গুলো জানা জরুরি।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাজিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, গোলাম, স্বাধীন, পুরুষ, নারী, ছোট, বড় সব মুসলিমের ওপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ‘সা’ খেজুর, অথবা অর্ধ ‘সা’ গম জাকাতুল ফিতর ফরজ করেছেন এবং (ঈদের) নামাজের আগে তা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন।গ্ধ (বুখারি, মুসলিম)
হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী ২ পরিমাপে ৫ জিনিস দিয়ে ফিতরা আদায় করা যায়। আর তাহলো যব, কিসমিস, খেজুর, পনির ও গম। এসব গুলোর মধ্যে গমের পরিমাপ হলো অর্ধ সা আর বাকিগুলোর পরিমাপ এক সা। যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী যে কোনো একটি দিয়ে এ ফিতরা আদায় করতে পারবেন। (এক সা সমান ৩ কেজি ৩›শ গ্রাম, অর্ধ সা সমান ১ কেজি ৬৫০গ্রাম)
বর্তমান বাজারমূল্য হিসেবে উম্মুল মাদারিস মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার ফতোয়া বিভাগ থেকে সাদাকাতুল ফিতরের একটি চাট প্রকাশ করে। সর্বনিম্ন ১০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৩০০ টাকা পর্যন্ত জনপ্রতি ফিতরা আদায় করা যাবে।
ফিতরা যারা দেবেন: সামর্থ্যবান মুমিন নারী-পুরুষের ওপর ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। সামর্থ্যবানদের অধীনস্ত পরিবারের সব সদস্যদের ফিতরাও দায়িত্বশীল ব্যক্তি আদায় করবেন। এক কথায় সামর্থ্যবান নারী-পুরুষ, শিশু, কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ সব স্বাধীন, পরাধীন এমনকি হিজড়া সম্প্রদারে ওপরই ফিতরা আদায় করা আবশ্যক। বালেগ সন্তান যদি পাগল হয় তবে পিতার পক্ষ থেকে তা আদায় করা ওয়াজিব।
ফিতরা ওয়াজিব হওয়ার শর্ত: ঈদুল ফিতরের দিন কোনো স্বাধীন মুসলমানের কাছে জাকাতের নিসাব তথা সাড়ে ৭ ভরি স্বর্ণ কিংবা সাড়ে ৫২ তোলা রুপা অথবা তার সমমুল্যের নগদ অর্থ কারো কাছে থাকলেই ওই ব্যক্তির জন্য ফিতরা ওয়াজিব। এ সম্পদ ঋণ এবং মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত হতে হবে। তবে ব্যতিক্রম হলো- জাকাতের জন্য এ সম্পদ পূর্ণ এক বছর মালিকানায় থাকতে হবে, আর ফিতরার ক্ষেত্রে এক বছর থাকা শর্ত নয়। আর এসব ব্যক্তির জন্য ফিতরা গ্রহণ করাও হারাম।
আবার বাড়ি-ঘর, আসবাবপত্র, স্থাবর সম্পদের মূল্য (যদি ব্যবসার জন্য না হয়) জাকাতের নিসাবের অন্তর্ভূক্ত নয়। কিন্তু ফিতরার ক্ষেত্রে প্রয়োজনের অতিরিক্ত আসবাবপত্র,ঘর-বাড়ি ও স্থাবর সম্পদ, ভাডা বাড়ি, মেশিনারীজ, কৃষিযন্ত্র ইত্যাদি (উপার্জনের জন্য না হলেও) এসবের মূল্যের হিসাবও ফিতরার নেসাবে অন্তর্ভূক্ত হবে। ঈদের দিন সুবহে সাদিকের পর সব সামর্থ্যবান মুমিনের ওপর ফিতরা আদায় করা আবশ্যক। এ সময়ের ঠিক আগ মুহূর্তে যদি কারো বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হয় তবে ওই বাচ্চার জন্যও ফিতরা আদায় করতে হবে।
ফিতরা কখন আদায় করতে হয়: ঈদের নামাজে যাওয়ার আগেই ফিতরা আদায় করা সর্বোত্তম। তবে আগে থেকে ফিতরা আদায়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। আর যদি কেউ কোনো কারণে ঈদের নামাজের আগে আদায় করতে না পারে তবে ঈদের পরেও তা আদায় করা যাবে। তবে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদগাহে যাওয়ার আগেই ফিতরা আদায় করতেন। কেননা গরিব-অসহায় এ টাকায় কেনাকাটা করে ধনীদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করবে। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিকভাবে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করার তৌফিক দিক। মুসলিম উম্মাহর এই ক্রান্তিলগ্নে সাদাকাতুল ফিতরের মাধ্যমে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর সৌভাগ্য করে দিক। ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে এসে দ্বীনের ফরজ-ওয়াজিব বিধানগুলো যথাযথভাবে আদায় করার তৌফিক দিক। আ-মীন।ইসলামের বিধানাবলি মানবতার কল্যাণে নিবেদিত। সমাজের দুস্থ ও অসহায় দরিদ্ররাও যেন ঈদের আনন্দে শামিল হতে পারেন, সে জন্য সাদাকাতুল ফিতর বা ফিতরার বিধান। ফিতরা ঈদের নামাজের আগে প্রদান করতে হয়। সাদাকাতুল ফিতর রমজান, রোজা ও ঈদের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব আমল।
ঈদের দিন সকালে যিনি নিসাব পরিমাণ সম্পদের (সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা বা সমমূল্যের নগদ অর্থ ও ব্যবসাপণ্যের) মালিক থাকবেন, তাঁর নিজের ও পরিবারের ছোট–বড় সবার পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করা তাঁর প্রতি ওয়াজিব। ফিতরা দ্বারা রোজার ত্রুটিবিচ্যুতি মাফ হয়ে যায়।
সাদাকাতুল ফিতর একটি ফজিলতপূর্ণ ওয়াজিব আমল। যাঁরা নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক নন, তাঁরাও ফিতরা প্রদান করতে পারবেন। কারণ, এটা সুন্নত ইবাদত। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন আমাদের মাঝে ছিলেন, তখন আমরা ছোট–বড়, মুক্ত ক্রীতদাস সকলের পক্ষ থেকে সাদাকাতুল ফিতর প্রদান করতাম এক সা খাদ্য, অর্থাৎ এক সা পনির বা এক সা যব বা এক সা খেজুর অথবা এক সা কিশমিশ। আমরা এভাবেই প্রদান করতে ছিলাম।’ একবার হজরত মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রা.) হজ বা ওমরাহ উপলক্ষে মদিনায় এলেন, তিনি জনগণের উদ্দেশে মিম্বারে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন। তখন তিনি আলোচনা করলেন সে বিষয়ে, যে বিষয়ে মানুষ প্রশ্ন করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি দেখছি শামের দুই মুদ (নিসফ সা বা পৌনে দুই কেজি) আটা সমান হয় (মূল্যমান হিসেবে) এক সা (৩ কেজি ৩০০ গ্রাম) খেজুরের। অতঃপর মানুষ (সাহাবায়ে কিরাম ও তাবিয়িগণ) এই মত গ্রহণ করলেন।’ (মুসলিম, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৩১৭-৩১৮)
হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) এর জমানায় আমরা সাদাকাতুল ফিতর প্রদান করতাম এক সা (৩ কেজি ৩০০ গ্রাম প্রায়) খাদ্যবস্তু, তিনি বলেন, তখন আমাদের খাদ্য ছিল যব, কিশমিশ, পনির ও খেজুর।’ (বুখারি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২০৪) তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সাদাকাতুল ফিতর প্রদান করতাম এক সা খাদ্যবস্তু, যেমন এক সা যব, এক সা খেজুর, এক সা পনির, এক সা কিশমিশ।’ (বুখারি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২০৫)
নির্ধারিত খাদ্যদ্রব্য, পণ্যসামগ্রী বা তার মূল্যে টাকায়ও ফিতরা প্রদান করা যায় এবং অন্য কোনো বস্তু, যেমন পোশাক-আশাক, ঈদের বাজার ইত্যাদি কিনেও দেওয়া যায়। পিতা–মাতা ও ঊর্ধ্বতন; ছেলেমেয়ে ও অধস্তন এবং স্ত্রীকে ওয়াজিব সদকা, ফিতরা ও জাকাত প্রদান করা যায় না
ফিতরা আটা বা গমও এক সা (৩ কেজি ৩০০ গ্রাম) দেওয়া উত্তম। হজরত হাসান বসরি (রহ.) বর্ণনা করেন, হজরত আলী (রা.) বলেন, ‘আল্লাহ যখন তোমাদের প্রাচুর্য দিয়েছেন, তোমরাও উদার হও, গমও এক সা দাও।’ (নাসায়ি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২৬৮-২৭০)
যেসব খাদ্যবস্তু স্বাভাবিক তাপমাত্রায় সহজে সংরক্ষণ করা যায়, সহজে বিনিময়যোগ্য ও বাজারমূল্য স্থিতিশীল থাকে; সেসব খাদ্যদ্রব্য দ্বারা সাদাকাতুল ফিতর প্রদান করা যায়। উল্লেখ্য, চালের মধ্যে উক্ত তিনটি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান এবং সৌদি আরবসহ সব আরব দেশ ও প্রায় সব মুসলিম দেশ বর্তমানে চালের হিসাব গ্রহণ করেছে। মুজতাহিদ ফকিহরা বলেন, যেখানে যা প্রধান খাদ্য, তা দ্বারা ফিতরা প্রদান করাই শ্রেয়।
সর্বোচ্চ মূল্যের খেজুর, উন্নত মানের চাল বা খাদ্যবস্তু অথবা এর মূল্যে ফিতরা প্রদান করা উত্তম। ধনীদের সর্বোচ্চ ও সাধারণ মানুষের মাঝামাঝি মূল্যে প্রদান করাই শ্রেয়। ইনসাফ হলো, যাঁরা যে চালের ভাত খান বা যাঁরা যে খেজুর দ্বারা ইফতার করেন, তাঁরা সে সমমানের বা সমমূল্যে ফিতরা প্রদান করবেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তা–ই উত্তম, দাতার নিকট যা সর্বোৎকৃষ্ট এবং যার মূল্যমান সবচেয়ে বেশি।’ (বুখারি, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ১৮৮)
নির্ধারিত খাদ্যদ্রব্য, পণ্যসামগ্রী বা তার মূল্যে টাকায়ও ফিতরা প্রদান করা যায় এবং অন্য কোনো বস্তু, যেমন পোশাক-আশাক, ঈদের বাজার ইত্যাদি কিনেও দেওয়া যায়। পিতা–মাতা ও ঊর্ধ্বতন; ছেলেমেয়ে ও অধস্তন এবং স্ত্রীকে ওয়াজিব সদকা, ফিতরা ও জাকাত প্রদান করা যায় না। একজনের ফিতরা অন্যজন প্রদান করলেও আদায় হয়ে যাবে। সাদাকাতুল ফিতর গ্রহীতার সুবিধার জন্য রমজানেও প্রদান করা যাবে।
ফিতরা তাঁদের দেওয়া যায়, জাকাত যে আটটি খাতে প্রদান করা যায়। কোরআন মজিদের বর্ণনা, ‘মূলত সাদাকাত হলো ফকির, মিসকিন, সাদাকাকর্মী, অনুরক্ত ব্যক্তি ও নও মুসলিম, ক্রীতদাস, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, আল্লাহর পথে (ইসলাম সুরক্ষার জন্য), বিপদগ্রস্ত বিদেশি মুসাফির ও পথশিশুদের জন্য। এটি আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞানী ও পরম কৌশলী।’(সুরা-৯ তওবা, আয়াত: ৬০)রমজান ও ইদুল ফিতরের সাথে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা। সম্পদশালী মুসলমানদের পাশাপাশি দরিদ্র মুসলামানরাও যেন ইদের আনন্দে শামিল হতে পারে, সে জন্য আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়াতাআলা ইদুল ফিতরের দিন ফিতরা আদায় আবশ্যক করেছেন।
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রোজাদারের অনৰ্থক কথাবার্তা ও অশালীন আচরণের কাফফারাস্বরূপ এবং গরিব-মিসকিনদের আহারের সংস্থান করার জন্য ফিতরা ফরজ করে দিয়েছেন। যে ব্যক্তি ইদের নামাজের আগে তা পরিশোধ করে আল্লাহর কাছে তা গ্ৰহণীয় দান। আর যে ব্যক্তি ইদের নামাজের পর তা পরিশোধ করে, তাও দানসমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি দান। (সুনানে আবু দাউদ: ৬৩০)
পুরুষরা যাদের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করবেন
ইদুল ফিতরের দিন সকালে যে পুরুষ নেসাব পরিমাণ সম্পদের (সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা বা সমমূল্যের নগদ অর্থ ও ব্যবসাপণ্য) মালিক থাকে, তার ওপর ওয়াজিব হয় তার নিজের পক্ষ থেকে এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করা।
ইদুল ফিতরের দিন সূর্যোদয়ের সময় ফিতরা ওয়াজিব হয়। তাই ইদের দিন সূর্যোদয়ের আগে কোনো শিশুর জন্ম হলে তার পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব হবে, ইদের দিন সূর্যোদয়ের পর কোনো শিশুর জন্ম হলে তার পক্ষ থেকে ফিতরা দিতে হবে না।
অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ে সম্পদশালী হলে তার ফিতরা তার সম্পদ থেকে আদায় করাই নিয়ম। তবে বাবা চাইলে নিজের সম্পদ থেকেও তা আদায় করে দিতে পারেন।
বাবা-মা, স্ত্রী ও প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব নয়। তারা নিজেরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তাদের ওপর ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব হবে এবং তা আদায় করার দায়িত্বও তাদের।
নিজের স্ত্রী ও প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করে দিলে তা আদায় হয়ে যাবে। বিষয়টি প্রচলিত হওয়ায় তাদের থেকে অনুমতি নিয়ে নেওয়া জরুরি নয়। তবে আদায়ের আগে তাদেরকে বলে নেওয়া ভালো।
নারীরা শুধু নিজের ফিতরা আদায় করবেন
ইদুল ফিতরের দিন সকালে যে নারী নেসাব পরিমাণ সম্পদের (সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা বা সমমূল্যের নগদ অর্থ ও ব্যবসাপণ্য) মালিক থাকে, তাহলে তার ওপর তার নিজের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। নিজের অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করা তার ওপর ওয়াজিব নয়। নিজের স্বামী বা প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করাও তার ওপর ওয়াজিব নয়।
সম্পদশালী বিবাহিতা নারীর পক্ষ থেকে তার স্বামী যদি ফিতরা আদায় করে দেন, তাহলে তা আদায় হয়ে যাবে। স্বামী আদায় না করলে তিনি নিজে আদায় করবেন।
নাতি-নাতনিদের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করতে হবে?
সম্পদশালী দাদার ওপর নাতি-নাতনিদের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব নয়। বাবা মারা যাওয়ার কারণে বা সম্পদশালী না হওয়ার কারণে নাতি-নাতনিদের ভরণপোষণের দায়িত্ব যদি দাদার ওপর থাকে, তাহলেও তাদের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করা তার জন্য জরুরি নয়।
কেউ যদি কোনো এতিম শিশুর প্রতিপালনের দায়িত্ব নেন, তার ওপর ওই শিশুর পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব নয়। ওই শিশু সম্পদশালী হলে তিনি তার সম্পদ থেকে তার ফিতরা আদায় করে দেবেন।
এ বছর ফিতরা কত টাকা?
হাদিসে নবিজি (সা.) উন্নত মানের খেজুর, মধ্যম মানের খেজুর, কিসমিস, পনির ও গম -এই পাঁচটি খাদ্যদ্রব্যের যে কোনো একটির মাধ্যমে ফিতরা আদায় করার অনুমতি দিয়েছেন। এগুলোর মূল্য অনুযায়ী ফিতরার সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ পরিমাণ নির্ধারিত হয়। এ বছর (রমজান ১৪৪৬ হিজরি মোতাবেক ২০২৬ খৃষ্টাব্দ) বাংলাদেশ সরকারের ফিতরা নির্ধারণ কমিটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশে ফিতরার পরিমাণ জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১৩০ টাকা ও সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফিতরা কখন আদায় করবেন?
ইদের দিন সকালে ইদগাহে যাওয়ার আগে ফিতরা আদায় করা সর্বোত্তম। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত রয়েছে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইদের নামাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার আগে ফিতরা আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। (সহিহ বুখারি: ১৫০৯)
সাহাবায়ে কেরাম ইদের আগে ফিতরা আদায় করেছেন এ রকম দৃষ্টান্তও পাওয়া যায়। নাফে (রহ.) থেকে বর্ণিত রয়েছে, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) ইদের এক দুদিন আগেই ফিতরা আদায় করে দিতেন। (সুনানে আবু দাউদ: ১৬০৬)
ইসলামি আইনবিশারদগণের নির্ভরযোগ্য মত অনুযায়ী ইদের আগে রমজানের শুরু থেকে বা রমজানের আগেও ফিতরা আদায় করা জায়েজ। তাই রমজানের আগেও কেউ যদি ফিতরার নিয়তে কিছু দান করলে তা ফিতরা গণ্য হবে। তবে ফিতরা ইদের দিন বা রমজানের শেষ দিকে আদায় করাই উত্তম।ফিতরা আরবী শব্দ, যা ইসলামে যাকাতুল ফিতর (ফিতরের যাকাত) বা সাদাকাতুল ফিতর (ফিতরের সদকা) নামে পরিচিত। ফিতর বা ফাতুর বলতে খাদ্যদ্রব্য বোঝানো হয় যা দ্বারা রোজাদারগণ রোজা ভঙ্গ করেন। যাকাতুল ফিতর বলা হয় ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গরীব দুঃস্থদের মাঝে রোজাদারদের বিতরণ করা দানকে। রোজা বা উপবাস পালনের পর সন্ধ্যায় ইফতার বা খাদ্য গ্রহণ করা হয়। সেজন্য রমজান মাস শেষে ঈদে দানকে যাকাতুল ফিতর বা আহারের যাকাত বলা হয়। (উইকিপিডিয়া)
নারী-পুরুষ, স্বাধীন-পরাধীন, শিশু-বৃদ্ধ, ছোট-বড় সকল মুসলিমের জন্য ফিতরা প্রদান করা ওয়াজিব। দ্বিতীয় হিজরিতে উম্মতে মুহাম্মদির ওপর রমজান মাসের রোজা ফরজ করার সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) মুসলমানদের ‘সাদাকাতুল ফিতর’ আদায় করার নির্দেশ দেন। একে সাধারণত রোজার ‘ফিতরা’ বলা হয়। এটা মূলত মাহে রমজানেরই নির্ধারিত সাদকা বা দান। শরিয়তের পরিভাষায় রমজান মাস শেষে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে মাথাপিছু যে নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সাহায্য গরিব-মিসকিনদের সাদকা করা হয়, একে ‘সাদাকাতুল ফিতর’ বলে।

Correspondent March 4, 2026
Share this Article
Facebook Twitter Whatsapp Whatsapp LinkedIn Email Copy Link Print
Previous Article মহেশপুরে শরীরে এইচআইভি ভাইরাস নিয়ে জীবন যুদ্ধ দম্পতির
Next Article কিছু আসনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে: গোলাম পরওয়ার
আরো পড়ুন
যশোর

যশোরে বাসের ধাক্কায় তরুণী নিহত

By জন্মভূমি ডেস্ক 2 minutes ago
যশোর

কেশবপুরে জনতা ব্যাংক ভবনে আগুন

By জন্মভূমি ডেস্ক 4 minutes ago
যশোর

যশোরে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী শিলি বেগম আটক

By জন্মভূমি ডেস্ক 5 minutes ago

দিনপঞ্জি

March 2026
S M T W T F S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
« Feb    

এ সম্পর্কিত আরও খবর

সাতক্ষীরা

তালায় ওভিটি-হোপ প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

By জন্মভূমি ডেস্ক 7 hours ago
সাতক্ষীরা

আশাশুনিতে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভা

By জন্মভূমি ডেস্ক 7 hours ago
সাতক্ষীরা

উপকূলীয় অঞ্চল হতে পারে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি

By জন্মভূমি ডেস্ক 12 hours ago

প্রকাশনার ৫৫ বছর

দৈনিক জন্মভূমি

পাঠকের চাহিদা পূরণের অঙ্গীকার

রেজি: কেএন ৭৫

প্রধান সম্পাদক: লে. কমান্ডার (অব.) রাশেদ ইকবাল

অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক: আলি আবরার

প্রকাশক: আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত

ইমেইল– janmokln@gmail.com           অনলাইন নিউজরুম-০১৬১১৬৮৮০৬৪        রফিকুজ্জামান বার্তা কক্ষ ০৪১-৭২৪৩২৪

Developed By Proxima Infotech and Ali Abrar

Removed from reading list

Undo
Welcome Back!

Sign in to your account

Lost your password?