গাজী জাহিদুর রহমান, তালা : সাতক্ষীরার আমের সুনাম রয়েছে ইউরোপ পর্যন্ত। প্রতিবছর সাতক্ষীরা থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আম ইউরোপে রপ্তানি করা হয়। চলতি বছরও নবমবারের মতো ইতালি, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, জার্মানি, ইংল্যান্ডে রপ্তানি হবে সাতক্ষীরার আম। অনুকূল আবহাওয়া ও ফলন ভালো হওয়ায় সাতক্ষীরায় চলতি মৌসুমে ২২৫ কোটি টাকার আম বিক্রির কথা জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। গত কয়েক বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে আমচাষিদের যথেষ্ট পরিমাণে লোকসান গুণতে হয়েছে। তবে চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে আমের ফলন ভালো হয়েছে। এর ফলে গত কয়েকবারের লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখার আশা করছেন আমচাষিরা। সাতক্ষীরার বিভিন্ন জাতের আমের মধ্যে হিমসাগর, ল্যাংড়া, গোবিন্দভোগ, আম্রপালি, মল্লিকা, সিঁদুররাঙা, ফজলি, কাঁচামিঠা, বোম্বাই, লতাবোম্বাই প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলার ৪ হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। যেখানে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে না পড়লে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা হবে সাতক্ষীরার আম। এতে সবমিলিয়ে বিক্রি হবে প্রায় ২২৫ কোটি টাকার আম।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর সদর উপজেলায় ১ হাজার ২৩৫ হেক্টর, তালায় ৭১৫ হেক্টর, কলারোয়ায় ৬৫৫ হেক্টর, দেবহাটায় ৩৭০ হেক্টর, কালিগঞ্জে ৮৩৫ হেক্টর, আশাশুনিতে ১৪৫ হেক্টর ও শ্যামনগরের ১৬০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। সবমিলিয়ে চার হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। জেলায় সরকারি তালিকাভুক্ত পাঁচ হাজার ২৯৯টি আমবাগান ও ১৩ হাজার ১০০ জন চাষি রয়েছেন। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪৫ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। যে ফলন হয়েছে, তাতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।
তেঁতুলিয়ার আমচাষী নজরুল ইসলাম জানান, গত কয়েক বছর ফলন ভালো হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে ব্যবসায় লোকসান হয়েছে। তবে চলতি মৌসুমে আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজার মূল্য সঠিক পেলে এবার তুলনামূলক অনেক লাভ হবে। গত বছর গড়ে হিমসাগর আমের কেজি ৫০ টাকা বিক্রি হয়েছিল। এ বছর আমের আকৃতি অনেক বড় হয়েছে, সেক্ষেত্রে আমের দাম বৃদ্ধি পাবে।
সদরের আমচাষী আব্দুল কাদের জানান, তার ৫ বিঘার হিমসাগর আমের বাগান রয়েছে। গত কয়েক বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ আশানুরূপ দাম না পাওয়ার কারণে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে চলতি বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় আর আমের ফলন তুলনামূলক অনেক বেশি হওয়ায় অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি লাভের আশা করছেন।
আম ব্যবসায়ী ঈদ্রিস আলী জানান, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আম বাজারজাতকরণের নির্দিষ্ট সময়সীমা ও তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। অনেক অসাধু ব্যবসায়ী অপরিপক্ক আম কেমিক্যাল দিয়ে বাজারজাত করার চেষ্টা করছেন। প্রশাসনের নজরদারিতে কিছু ধরাও পড়ছে। প্রশাসন তৎপর থেকে অপরিপক্ক আম বাজারজাত করা রোধ করতে না পারলে প্রকৃত আম চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে না পড়ায় এবার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আমের মুকুল হয়েছিল। আমের গুটি ধরেছিল অনেক। সে তুলনায় কম পরিমাণে আমের গুটি ঝরেছে। এজন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আম উৎপাদন হবে বলে আশাবাদী।
তিনি জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় আমের ফলন ভালো হয়েছে, সেক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আম উৎপাদন হবে। জেলায় সরকারি তালিকাভুক্ত পাঁচ হাজার ২৯৯টি আমবাগান ও ১৩ হাজার ১০০ জন চাষি রয়েছেন। ৫০ টাকা কেজি দরে দাম ধরলে ২২৫ কোটি টাকার আম বিক্রি হবে। তাছাড়া এ বছরও ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে আম রপ্তানি করা হবে।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত